আমাদের আলোচনার বিষয় নীট এককালীন কিস্তির হার নির্দ্ধারণ বা হিসেরকরণের জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহ বা ধারণাসমুহ যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত । এমন কতকগুলি বিষম বিষয় বা চলক রয়েছে সেগুলিকে প্রিমিয়াম হিসেব করার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হয়। কেননা, সেগুলির জন্যে প্রিমিয়াম হিসেব করার ক্ষেত্রে হেরফের সূচিত বা পরিলক্ষিত হয়।
নীট এককালীন কিস্তির হার নির্দ্ধারণ বা হিসেরকরণের জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহ বা ধারণাসমুহ

সে কারণেই নটি এককালীন প্রিমিয়াম হিসেব করার ক্ষেত্রে যে সব বিষয় পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে সেগুলি নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো :-
১। কোন নির্দিষ্টি ধরনের যতগুলি বীমাপত্র প্রদান বা বিক্রয় করা হয় তত সংখ্যক ব্যক্তিকে পরিগণনা করা হয়, অর্থাৎ বীমাপত্রের সংখ্যাই কার্যতঃ বীমাগ্রহীতার
২। বীমাচুক্তির মেয়াদারন্তেই বা আগাম বীমা কিস্তি সংগৃহীত হয় :
৩। সম্যক সংগৃহীত অর্থ বিনিয়োগকৃত হয় এবং বীমাদানী পরিশোষের জন্যে প্রয়োজনের সময় অবধি তা বিনিয়োগকৃত থাকে
৪। উক্ত বিনিয়োগের উপর বীমাকারী ধার্যকৃত হারে সুদ গ্রহণ করে থাকেন এবং সুদের হারটি এমন হওয়া বাঞ্ছিত যা ভবিষ্যৎ সুদের হারে যে কোন হ্রাসজনিত অসুবিধা সামলে ওঠার জন্যে প্রত্যাশিত বা উপযোগী হয়।
৫। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সুদ বা লভ্যাংশ অথবা যে কোন উপার্জন সাথে সাথেই পুনরোপার্জনের জন্যে বিনিয়োগকৃত হয়
৬। মৃত্যুহার, মৃত্যুহার তালিকায় বর্ণিত হারের মতই হতে হবে এবং তা সারা বছর ধরে একইভাবে বণ্টিত হবে,
৭। নির্দিষ্ট ধরনের সব বীমাপত্রই সম পরিমানের কিত্তি সম্পন্ন হতে হবে ।
এর মেয়াদান্তে বীমাদাবী পরিশোষিত হবে। যদিও উক্ত ধারণা বা হিসেব সর্বদা সর্বথা ও সমভাবে গ্রহণযোগ্য বা কার্যকর নাও হতে পারে, তবে, তা প্রিমিয়াম হিসেব করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সহায়তা করে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন প্রকার বীমাপত্র বা চুক্তিতে নীট একমাত্র কিন্তুি বা সমকিস্তি নির্ধারণের পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, ধারণাও পদক্ষেপসমূহ এক নয়। কেননা, ভিন্ন ভিন্ন বীমাপত্রের মধ্যে স্বভাবতঃই কিছুনা কিছু পার্থক্য বিদ্যমান থাকে।

তন্নিরিখেই কয়েকটি ব্যাপক প্রচলিত ও জনপ্রিয় বীমাপত্রে নীট এককালীন এবং নীট বার্ষিক বা সম-কিত্তি নির্ভারণের কয়েকটি উদাহরণ পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হলো।
