ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস দে গুইন্দোস সোমবার ফ্রাঙ্কফুর্টে একটি বক্তৃতায় জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভূ-অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিবেশে শুল্কের চূড়ান্ত প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা বিবেচনায়, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনও উচ্চ পর্যায়ে আছে।”
গুইন্দোস উল্লেখ করেছেন যে, অর্থনীতিতে ঝুঁকির প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অতিরিক্ত মূল্যায়ন এবং আর্থিক বাজারে এককরণ,
শুল্ক সংবেদনশীল কোম্পানিতে ঋণ ঝুঁকি,
কিছু প্রধান উন্নত অর্থনীতিতে সার্বভৌম ঝুঁকি।
| ঝুঁকির ধরন | বিস্তারিত |
|---|---|
| উচ্চ মূল্যায়ন | স্টক ও বন্ড মার্কেটে অত্যধিক দাম |
| ক্রেডিট ঝুঁকি | শুল্ক সংবেদনশীল কোম্পানিগুলোর ঋণ |
| সার্বভৌম ঝুঁকি | কিছু উন্নত দেশের ঋণ সমস্যা |
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক এবং বৃহত্তর আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুইন্দোস বিশেষভাবে অ-বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের জন্য ম্যাক্রো-প্রুডেনশিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ মন্তব্যগুলি এসেছে আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত ECB-র বার্ষিক ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিভিউ এর আগে। প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলোর উপর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
ইউরোপের অর্থনীতি গুইন্দোস উল্লেখিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যেও এখন পর্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমান অবস্থায় ECB সুদের হার কমানোর প্রবণতা দেখাচ্ছে না। বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়ে সামান্য ভালো এবং মধ্যমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে ২% লক্ষ্য অর্জনের পথে।
বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক নজরদারির সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সতর্ক করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত কোম্পানির অতিমূল্যায়ন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতায় চ্যালেঞ্জ এবং স্থিতিশীল কয়েনের দ্রুত বৃদ্ধি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
ন্যাশনাল উদাহরণ হিসেবে, জার্মানির বুন্দেসব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক সংঘাত এবং ঋণের বৃদ্ধি জার্মানির আর্থিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ ফেলছে। IMF-ও সতর্ক করেছে যে, অ-বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবিকাশে প্রচণ্ড ক্ষতি হতে পারে, যা প্রচলিত ঋণদাতাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
ন্যেদারল্যান্ডস এবং আয়ারল্যান্ডও জাতীয় পরিস্থিতিতে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, “বিশ্বজনীন অনিশ্চয়তা দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন প্রশ্ন নয়, কি হবে, বরং কখন এবং কোথায় হবে।” আয়ারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর গ্যাব্রিয়েল মাখলৌফও বলেছেন, “নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রভাব এখনও পরিস্কার নয়। মার্কেটের অতিমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় ফাটল ঘটতে পারে।”
বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অদ্ভুত এবং অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
