দুর্যোগ মোকাবিলায় বীমা খাতে নতুন জোট

প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি, সাইবার ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বীমা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া (আইসিএ) এবং নিউজিল্যান্ডের ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব নিউজিল্যান্ড (আইসিএনজেড) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তির মাধ্যমে ‘রেজিলিয়েন্ট ইন্স্যুরেন্স মার্কেটস ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বীমা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হলো। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, বৈশ্বিক ঝুঁকির প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের উদ্ভব ঘটছে। ফলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

আইসিএ এবং আইসিএনজেড জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বর্তমানে চরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলার ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব ঝুঁকি শুধু বীমা শিল্পের ওপর নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

দুই সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, মাথাপিছু হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর ফলে বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ও বাজার পরিচালনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নতুন উদ্যোগের আওতায় আইসিএ এবং আইসিএনজেড জন ও বেসরকারি খাতের ঝুঁকি হ্রাসমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করবে। দুই সংস্থা ঝুঁকি মোকাবিলায় সফল উদ্যোগ ও কার্যকর কৌশল নিয়ে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেবে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা বৃদ্ধি। দুই সংস্থা জানিয়েছে, যেখানে সম্ভব সেখানে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয় জোরদার করা হবে, যাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা ও সুবিধা পান। পাশাপাশি বীমা বাজারের স্থিতিশীলতা, কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

‘রেজিলিয়েন্ট ইন্স্যুরেন্স মার্কেটস ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, নীতিগত সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং জ্ঞান ভাগাভাগির ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে উদীয়মান ঝুঁকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বীমা খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।

ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ফাফোয়ি বলেছেন, নিউজিল্যান্ড এখনও ক্রমবর্ধমান দুর্যোগ ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এ পরিস্থিতিতে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মতে, দুর্যোগের আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কোনো দুর্যোগ ঘটার আগে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলার ভবিষ্যতে ৫ থেকে ৮ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ তথ্য দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক বিনিয়োগের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের এই যৌথ উদ্যোগ বীমা খাতের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের বীমা শিল্পের মধ্যে নীতিগত সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী ও টেকসই বীমা বাজার গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment