বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিধি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিভিত্তিক হয়ে উঠেছে। দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এই মাধ্যমটি এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় চব্বিশ কোটি পঞ্চাশ লাখে পৌঁছেছে। এই বিপুল সংখ্যক হিসাবের মধ্যে প্রায় উনচল্লিশ দশমিক পাঁচ শতাংশ অ্যাকাউন্ট বা হিসাব পুরোপুরি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজারে মোট তেরোটি মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা অপারেটর তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দেশের এত বড় একটি ডিজিটাল আর্থিক খাত গড়ে উঠলেও সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও লেনদেনের নিরাপত্তার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লেনদেন বীমা বা মোবাইল ওয়ালেট সুরক্ষা বীমা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।
Table of Contents
বাজার অংশীদারত্ব এবং লেনদেনের বিশাল আর্থিক পরিধি
খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণ এবং বাজার পর্যবেক্ষকদের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে ‘বিকাশ’। এই প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারত্ব প্রায় সত্তর থেকে ৭৫ শতাংশ। এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ‘নগদ’, যাদের বাজার অংশীদারত্বের পরিমাণ প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা ‘রকেট’-এর অংশীদারত্ব প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। অবশিষ্ট সামান্য অংশ অন্যান্য ক্ষুদ্র অপারেটরগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
লেনদেনের বিশাল আর্থিক পরিধি বিবেচনা করলে এই খাতের বীমা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এককভাবেই এক লাখ এগারো হাজার তিনশত পঞ্চান্ন কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করেছে। প্রতিদিন দেশের এই ডিজিটাল মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সম্পাদিত হলেও গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থের তাৎক্ষণিক সুরক্ষায় কোনো বিশেষায়িত বীমা কাঠামো বাংলাদেশে এখনো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।
মোবাইল আর্থিক সেবা খাতের বিভিন্ন অপারেটরের বাজার অংশীদারত্ব এবং ২০২৬ সালের একটি নির্দিষ্ট প্রান্তিকের লেনদেনের চিত্র নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:
| মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম | বাজার অংশীদারত্বের আনুমানিক হার (শতকরা) | ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের লেনদেনের পরিমাণ |
| বিকাশ | সত্তর থেকে ৭৫ শতাংশ | তথ্য বিবরণীতে অনুপস্থিত |
| নগদ | ১৮ থেকে ২০ শতাংশ | এক লাখ এগারো হাজার তিনশত পঞ্চান্ন কোটি টাকা |
| রকেট | ৮ থেকে ১০ শতাংশ | তথ্য বিবরণীতে অনুপস্থিত |
| অন্যান্য অপারেটরসমূহ | অবশিষ্ট অংশ | তথ্য বিবরণীতে অনুপস্থিত |
দেশের বীমা খাতের ডিজিটাল উদ্যোগ ও সুরক্ষার সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশের সামগ্রিক বীমা খাতে আধুনিক ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত হিসাবের নিরাপত্তার জন্য মোবাইল ওয়ালেটভিত্তিক সাইবার প্রতারণা বীমা এখনো বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়নি। যদিও দেশের মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরগুলো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়ন, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রতারক চক্র শনাক্তকরণে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, কিন্তু কোনো কারণে গ্রাহক প্রতারিত হলে বীমাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি। গ্রাহকের অজান্তে হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ঘটনার ধরন, অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালার ওপর। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় এই সেবা পরিচালনার সার্বিক কাঠামো নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও গ্রাহকদের জন্য আলাদা মোবাইল ওয়ালেট লেনদেন বীমা বাধ্যতামূলক করার মতো কোনো আইনগত ব্যবস্থা এখনো কার্যকর করা হয়নি।
দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তিভিত্তিক বীমা বা ‘ইনস্যুরটেক’ উদ্যোগ বর্তমানে ডিজিটাল বীমা ও সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যেমন ‘গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স’ দেশের সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার বীমা নিয়ে কাজ করছে এবং তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের উপযোগী একটি সাইবার বীমা পলিসি বা নীতিমালা উন্নয়নের কথা জানিয়েছে। একইভাবে ‘গার্ডিয়ান লাইফ’ তাদের ডিজিটাল বীমা সেবার পরিধি সম্প্রসারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। এছাড়া ‘মেটলাইফ বাংলাদেশ’ নামের আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানটিও তাদের গ্রাহকদের জন্য অনলাইন দাবি নিস্পত্তি, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধার প্রচলন করেছে। তবে এই সমস্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ মূলত করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার ঝুঁকি, প্রচলিত জীবনবীমা, স্বাস্থ্যবীমা কিংবা প্রথাগত বীমা সেবার মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, অননুমোদিত লেনদেন বা সাইবার জালিয়াতির কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যাপক খুচরা বীমা পণ্য এখনো দেশের বাজারে অবমুক্ত করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ
সাইবার জালিয়াতি, অননুমোদিত লেনদেন এবং অবৈধ অর্থ স্থানান্তর রোধে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালে বেশ কয়েকটি নতুন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেটে অর্থ যুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্ডের মালিক এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম হুবহু এক হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অন্যের কার্ডের গোপন তথ্য চুরি করে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, কোনো গ্রাহক যদি নতুন কোনো মোবাইল ফোনে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রথমবারের মতো প্রবেশ বা লগ-ইন করেন অথবা তার হিসাবের পিন বা গোপন নম্বর পরিবর্তন করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ২৪ ঘণ্টার একটি বিশেষ ‘কুলিং পিরিয়ড’ বা সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই হিসাব থেকে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর কিংবা নগদ উত্তোলন বা ক্যাশ-আউটের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা থাকবে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো হিসাব হ্যাক বা বেদখল হলেও যেন অপরাধীরা দ্রুত অর্থ তুলে নিতে না পারে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এখন একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে প্রতিটি অপারেটরে মাত্র একটি ব্যক্তিগত হিসাব রাখার নিয়ম করা হয়েছে। একই সাথে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে নির্দিষ্ট মোবাইল হ্যান্ডসেটের সংযোগ বা ‘ডিভাইস বাইন্ডিং’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই সমস্ত পদক্ষেপ অ্যাকাউন্ট বা হিসাবের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করলেও হ্যাকিং বা সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের বীমার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো যৌথ লেনদেন বীমা ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। এদিকে দেশে অনলাইন প্রতারণা, হুন্ডি, অনলাইন জুয়া এবং অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ বা টিআইবি-এর এক গবেষণায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও বেটিং লেনদেনের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাস এবং জুনের শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও বিক্রির ঘটনাও এই খাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডি এই চক্রগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশের অবৈধ ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের করণীয়
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে যখন ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বীমাভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, সেখানে বাংলাদেশের কোটি কোটি প্রান্তিক গ্রাহক এখনো এই আধুনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সিঙ্গাপুরের ‘পিওএসবি/ডিবিএস পে-লা!’ নামক ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মোবাইল ওয়ালেট প্রটেক্ট’ নামের একটি বিশেষ সুরক্ষা সুবিধা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক প্রকৌশল বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাকাউন্ট বা হিসাব বেদখল হওয়া এবং অননুমোদিত লেনদেনজনিত যেকোনো আর্থিক ক্ষতির বিপরীতে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই বিশেষ বীমা সুরক্ষাটি বছরে মাত্র ছয় দশমিক ৯৯ সিঙ্গাপুরি ডলারের বিনিময়ে গ্রহণ করা সম্ভব। এছাড়া সিঙ্গাপুরের ‘সিংটেল ড্যাশ’ তাদের মোবাইল ওয়ালেটভিত্তিক আর্থিক সেবার সঙ্গে বীমা এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়ধর্মী পণ্য সফলভাবে একীভূত করেছে, যা ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও আর্থিক সুরক্ষার একটি চমৎকার আন্তর্জাতিক উদাহরণ।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ‘রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ তাদের গ্রাহক সুরক্ষা কাঠামোয় অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের আর্থিক দায় সীমাবদ্ধ করার আইনগত ব্যবস্থা করেছে। সেখানে যদি অননুমোদিত লেনদেনে গ্রাহকের কোনো ব্যক্তিগত গাফিলতি বা দোষ না থাকে এবং গ্রাহক যদি ব্যাংকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে তিনি ‘জিরো লায়াবিলিটি’ বা শূন্য দায়ের সুবিধা পান। অর্থাৎ গ্রাহককে কোনো আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হয় না, তার সম্পূর্ণ অর্থ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। এছাড়া যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার ঝুঁকি, পরিচয় চুরি এবং ডিজিটাল প্রতারণাজনিত ক্ষতির জন্য বিশেষায়িত খুচরা বীমা পণ্য সাধারণ নাগরিকদের সরবরাহ করে থাকে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চব্বিশ কোটি পঞ্চাশ লাখ নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের এই বিশাল এবং সম্ভাবনাময় আর্থিক খাতকে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ওপর ছেড়ে দেওয়া সমীচীন নয়। ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার ঝুঁকি ও জালিয়াতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশে মোবাইল ওয়ালেট লেনদেন বীমা, সাইবার জালিয়াতি কভার এবং পরিচয় চুরি সুরক্ষার মতো আধুনিক বীমা পণ্য চালুর বিষয়ে অবিলম্বে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
