অন্যের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। জীবন বীমা, অন্যের বা তৃতীয় পক্ষের জীবনের উপর কেউ বীমা করতে পারেন না, যদি অন্যের জীবনের উপর আর্থিক স্বার্থ না থাকে। অর্থাৎ, অন্যের জীবনের উপর আর্থিক স্বার্থ থাকলেই শুধু বীমা করা যায়। তবে, কোন কোন ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থ যে আছে – তা প্রমান করতে হয়; কোন কোন ক্ষেত্রে আবার তা প্রমাণ করতে হয় না। সে কারণেই অন্যের জীবনের উপর বিদ্যমান বীমাযোগ্য স্বার্থকে নিম্নোক্ত দু’ধরনে বিভক্ত করা হয়েছে :-
Table of Contents
অন্যের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ

ক. প্রমাণ প্রয়োজন হয় না (Proof is not required) :
অন্যের জীবনের উপর বীমা করতে বীমাযোগ্য স্বার্থ আছে কিনা, তা প্রমাণ করতে হয় না – এমন দু’টি ক্ষেত্র রয়েছে। যথাঃ –
(I) স্বামীর জীবনের উপর স্ত্রীর বীমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable interest in the life of husband) :
সঙ্গত কারণেই স্বামীর জীবনের উপর যে স্ত্রীর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে তা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। Reed Vs Royal Exchange (১৭৯৫) মোকদ্দমার রায় দান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে – স্বামীর জীবনের উপর স্ত্রীর বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে। কেননা, স্বামী তার স্ত্রীকে সহায়তা আইনতঃ এবং নীতিগতভাবে বাধ্য। স্বাভাবিকভাবেই স্বামী বেঁচে থাকলে স্ত্রীর আর্থিক লাভ হতে থাকবে; আর, স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর আর্থিক ক্ষতি হবে। যেহেতু, এই ক্ষেত্রেও পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব নয়। স্বামীর উপর স্ত্রীর অসীম বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে।
(ii) স্ত্রীর জীবনের উপর স্বামীর বীমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable Interest of a husband in the life of his wife) :
একইভাবে স্ত্রীর জীবনের উপর স্বামীর যে বীমাযোগ্য স্বার্থ আছে, বীমা করতে তার প্রমাণ দিতে হয় না। Griffith Vs. Fleming (১৯০৯) মোকদ্দমার রায় দান প্রসঙ্গ বলা হয়েছে যে – স্ত্রীর জীবনের উপর স্বামীর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। কেননা, স্ত্রী প্রতিনিয়ত 1 পরিবারে সেবা দান করে থাকে। স্ত্রী বেঁচে থাকলে স্বামীর আর্থিক লাভ হতে থাকবে এবং মারা গেলে তার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হবে। এক্ষেত্রেও একই কারণে বীমাযোগ্য স্বার্থের পরিমাণ অসীম ।
খ. প্রমান প্রয়োজন হয় (Proof is required):
অন্যের জীবনের-উপর বীমা করতে যে সব ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থ আছে কিনা তা প্রমাণের প্রয়োজন হয়, সে সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো : –
(অ) কারবারী সম্পর্কের কারণে অন্যের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable interest in others life due to business relationship) :
কারবারী সম্পর্ক থাকার কারণে অন্যের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হয়। কেননা, এসব ক্ষেত্রে লাভ- ক্ষতির প্রশ্নও জড়িত থাকে ।
নিম্নোক্ত কারবারী সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিবর্গের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হয় –
→ দেনাদারের জীবনের উপর পাওনাদারের, → দেনাদারের জীবনের উপর জামিনদারের,
→ অংশীদারেদের পরস্পরের জীবনের উপর পরস্পরের
→ বীমাকৃতদের জীবনের উপর বীমাকারীর এবং মূলব্যক্তি (Key-man)-র জীবনের উপর নিয়োগকারীর বা সহকারবারীদের।

(আ) পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অন্যের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ Insurable interest in other’s life due to family relationship) :
পরিবারের সদস্য হলেই সব সময় পরস্পরের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না। শুধু রক্তের সম্পর্ক, স্নেহ-মমতা বা ভাবাবেগের কারণে বীমাযোগ্য স্বার্থের অস্তিত্ব নিরূপিত হয় না। নির্ভরশীলতা বা লালন-পালনের অপরিহার্য প্রয়োজনে বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে।
