বীমার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সনদপত্র

উত্তরাধিকার সনদপত্র – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

উত্তরাধিকার সনদপত্র

উত্তরাধিকার সনদপত্র | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

মৃত বীমাগ্রহীতার মনোনীত ব্যক্তি বা তার সঠিক উত্তরাধিকারী বীমাদাবীর অর্থ পেতে পারেন। তবে, দাবী উত্থাপনের সময় দাবীকারীকে তার আইনগত অধিকারের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়। মৃত বীমাগ্রহীতা যদি কোন ব্যক্তিকে স্বত্বনিয়োগ (Assign) করে থাকেন – তাহলে স্বত্বনিয়োগীকে (Assignee ) অথবা মৃত বীমাগ্রহীতার যিনি প্রকৃত উত্তরাধিকারী – যিনি বা যারাই দাবীদার হোন, তাকে বা তাদের সে অধিকার প্রমাণের জন্যে জেলা জজের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সনদপত্র সংগ্রহ করে বীমাকারীয় কাছে জমা দিতে হয়।

আবার, দাবীদার একাধিক হন এবং তাদের মধ্যে দাবী নিয়ে বিরোধ বা জটিলতা সৃষ্টি হয় – তাহলে বীমাকারী বীমাদাবীর অর্থ জেলা জজের কার্যালয়ে পরিশোধ করে দেন। অতঃপর, দাবীদারগণ ভূ স্ব দাবীর উপযুক্ত প্রমাণ পেশ ও নিশ্চিত করে আদালত থেকে বীমাদাবীর অর্থ পেতে পারেন। উপরন্তু, দাবীদারকে বীমা অর্থ আদায় করতে বীমাকারীর কাছে মূল জীবন বীমাপত্র দাখিল করতে হয়।

কিন্তু, বীমাপত্র চুরি হওয়া, কাটা, পোড়া, খোয়া যাওয়া ইত্যাদি অজুহাতে যদি তা পেশ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে বীমাকারীকে রীমাদাবী পরিশোধের সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এ ব্যাপারে অবশ্য বীমাকারীদের সাধারণ অভিজ্ঞতা এই যে, অনেকসময় হারিয়ে যাওয়া, চুরি যাওয়া বা খোয়া যাওয়া বলে জানানো অনেক বীমাপত্রই পরে আবার বীমাকারী বা স্বত্ব নিয়োগীর কাছে পাওয়া যায়। তাই, সাধারণতঃ এসব ক্ষেত্রে বীমাকারী দাবীদারকে ভাল করে বীমাপত্র খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং বীমাপত্রের উপর কোন প্রকার দায়-বন্ধক বা স্বত্বনিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখার জন্যে বলা হয়।

 

উত্তরাধিকার সনদপত্র | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

সম্ভাব্য সব ধরনের খোঁজ-খবর বা অনুসন্ধান করার পরও যদি বীমাপত্র না পাওয়া যায়, তাহলে বীমাকারীর পক্ষ থেকে হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে জনসাধারণকে জানিয়ে দিতে হয় যে, নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি না করলে মূল রীমাপত্রের অনুলিপি ইস্যু করা হবে। ঘোষিত সময়ের মধ্যে কোন প্রকার আপত্তি না আসলে দাবীদারের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকারপত্র আদায় করে মূল বীমাপত্রের অনুলিপি ইস্যু করা হয় এবং অতঃপর বীমাদাবী পরিশোধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অবশেষে,আর দু’টি বিষয় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা প্রয়োজন – তাহলো নিখোঁজ বীমাগ্রহীতার বীমাদাবী এবং দুর্ঘটনা বীমার দাবী সংক্রান্ত। নিম্নে এ দু’টি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো।

Leave a Comment