উৎস ও ক্রমবিকাশ – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
উৎস ও ক্রমবিকাশ

বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সব ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে মুক্ত থাকে এবং অসংখ্য বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানিগুলো মূলধন বৃদ্ধি করে। বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াও ব্যাক্তিগতভাবে অর্থ সঞ্চয় করে সম্ভাব্য ঝুঁকির দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। বীমা প্রক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি মেনে চলতে হয়।
প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারায় সমাজ ও অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের এ দেশ বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশ পেছনে পড়ে আছে ; বীমা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও তা সমভাবে সত্য। কিন্তু, অগ্রযাত্রার ধারায় যে বাংলাদেশ রয়েছে তাও সত্য। কেননা, স্বাধীনতার আগে থেকে আরম্ভ করে বাংলাদেশে বীমা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে।
উৎস ও ক্রমবিকাশ [ Origin & Evolution ] :
বীমা বিশেষজ্ঞদের ধারণানুযায়ী ইতালী থেকে বীমা উদ্ভব লাভ করে ইংল্যাণ্ড এবং ক্রমবিকাশের ধারায় আমাদের এ উপমহাদেশে – বৃটিশ-ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বীমা ব্যবসায় কালক্রমে বিস্তার লাভ করে। তবে, উক্ত ক্রমবিকাশের ধারাটি আমাদের এ উপমহাদেশে কিছুটা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়।
যেমন : – ইউরোপীয় সভ্যতায় তথা উন্নত বিশ্বে নৌ-বীমাই প্রথমে আত্মপ্রকাশ করে, তারপর অগ্নিবীমা এবং তারও পরে জীবন বীমার ক্রমোদ্ভব ঘটে। অথচ, আমাদের এ উপমহাদেশে প্রথমেই জীবন বীমা উৎপত্তি লাভ করে। সর্বপ্রথমে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতেই ১৮১৮ সালে কতিপয় ইউরোপীয় উদ্যোক্তা – “দি ওরিয়েন্ট লাইফ এ্যাসিওরেন্স কোম্পানী” নামে একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন।

পরবর্তীতে অবশ্য অন্যান্য বহু ধরনের বীমার উদ্ভব হতে থাকে সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় এবং জীবন-জীবিকার বিভিন্নতার কারণে।
