দেশের জীবনবিমা খাতে আয় ও বিনিয়োগ বেড়েছে, তবে গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধের হার কমেছে। ২০২৪ সালে জীবনবিমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় আগের বছরের তুলনায় ১২১ কোটি টাকা কমে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে জীবন তহবিল ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশে বর্তমানে ৩৬টি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি এবং বিদেশি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) তথ্যানুযায়ী, জীবনবিমা খাতে বিনিয়োগ ৩৩ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার ২৯৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। জীবন তহবিলও ৩১ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ হাজার ২৩২ কোটি টাকা হয়েছে।
জীবন তহবিল হলো গ্রাহকের প্রিমিয়াম এবং কোম্পানির বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ের বিশেষ তহবিল। পলিসিধারীর মৃত্যু বা পলিসি মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহকরা এই তহবিল থেকে অর্থ পান। প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্স শিটে এটি দায় হিসেবে ধরা হয়।
বিমা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নরূপ:
| প্রতিষ্ঠান | প্রিমিয়াম আয় (কোটি টাকা) | ২০২৪ সালের দাবি পরিশোধ (কোটি টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মেটলাইফ (বিদেশি) | ৩,৩১০ | ২,৯৩৬ | শীর্ষে |
| ন্যাশনাল লাইফ | ২,১০৬ | ১,২০৪ | স্থানীয় শীর্ষ |
| ডেল্টা লাইফ | ৯৫৩ | ৪৫৬ | প্রিমিয়াম বেড়েছে |
| জীবন বীমা করপোরেশন | ৮৯৭ | ৪২০ | বৃদ্ধি পেয়েছে |
| প্রগতি লাইফ | ৫৮২ | ৩১০ | বৃদ্ধি পেয়েছে |
| পপুলার লাইফ | ৫৩১ | ২৭০ | কমেছে |
| প্রাইম লাইফ | ৩৮১ | ১৫০ | কমেছে |
| মেঘনা লাইফ | ৩৩৬ | ১৮০ | কমেছে |
| সন্ধানী লাইফ | ২৪৪ | ১২০ | বৃদ্ধি পেয়েছে |
| রূপালী লাইফ | ২১৯ | ৯০ | কমেছে |
২০২৪ সালে জীবনবিমা দাবি পরিশোধের হার ৭.৭৯% কমে ৮,৪৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ১৭টি কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার নেতিবাচক, যার মধ্যে ফারইস্ট লাইফ, শান্তা লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, প্রোগ্রেসিভ লাইফ এবং স্বদেশ লাইফ উল্লেখযোগ্য। কিছু প্রতিষ্ঠানের জীবন তহবিলে কোনো অর্থ নেই, ফলে দাবি পরিশোধ সামর্থ্য সীমিত।
ন্যাশনাল লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন বলেন, “গ্রাহকের দাবি পরিশোধে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। একটি দাবি পরিশোধ হলে গড়ে ১০ জন নতুন গ্রাহক পলিসি করতে এগিয়ে আসেন।” পাঁচ বছরের ব্যবধানে ন্যাশনাল লাইফের প্রিমিয়াম আয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক মাইন উদ্দিন মনে করেন, “প্রিমিয়াম আয় ও বিনিয়োগ বাড়লেও দাবি পরিশোধের হারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। হারের পতন হলে নতুন গ্রাহক আগ্রহ কমে যায়। তাই আইডিআরএর আরও তৎপরতা প্রয়োজন।”
