জীবন বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

জীবন বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ,  মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ, বিবর্তন ও উৎকর্ষ লাভের সাথে সাথে মানুষের আর্থ সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার প্রবাহ প্রধাবিত ও সঞ্চারিত হয়েছে। একটি আর্থ-সামাজিক কার্যধারা ও ব্যবস্থা হিসেবে বীমার ক্ষেত্রেও তার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। আজ যে সোমত্ত চমৎকার স্বাস্থ্যমস্ত বীমা আমরা দেখছি, একদিন এর প্রত্যক্ষ অস্তিত্বও ছিলনা। জীবনের যন্ত্রনা আর জীবিকার তাড়না উপশমের প্রয়োজনে কোন এক মুহূর্তে যে ওষধি বৃক্ষটি জন্মলাভ করেছিল প্রায় দুর্বোধ্য পরিচয়ে – আজ তা বিশ্ব অর্থনীতিতে মহামহীরুহ হয়ে স্বস্তির ছায়া বিস্তার করেছে।

জীবন বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

জীবন বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ত কোন এক ধরনের বীমাই জন্ম লাভ করে (যেমনঃ নৌ-বীমা)। তারপর, ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন ধরনের বীমার উদ্ভব ঘটতে থাকে। কেননা, বিভিন্ন মানুষের জীবন ধারা বিভিন্ন চিন্তা ধারা বিচিত্র স্বভা ও প্রয়োজন রকমারি। আবার যুগ বিবর্তনের ধারায় মানুষের সে জীবন-ধারা, চিন্তা, প্রয়োজন এবং স্বভাবেরও পরিবর্তন হয়েছে নানা পথে। তাইতো, বীমাও বিচিত্র ধারায় বিস্তৃত হয়েছে তার মাকার ও প্রকারে।

 

এই বিপুল বিস্তৃত বীমার শ্রেণী বিন্যাস করতে গিয়ে বিভিন্ন গ্রন্থকার ও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গীতেও কিছুটা রকমফের লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ একে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত করেছেন, আবার কেউবা স্তর ও পর্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেছেন। নিম্নে দ্বিতীয় ধারার প্রকারভেদ দুটি ছলের সাহায্যে দেখানো হলো (যদিও বর্ণনার ক্ষেত্রে উভয় দৃষ্টিভঙ্গীর একটি সমন্বিত উপস্থাপনই হবে ধারণা নিতে সহজতর) :

নিম্নে বিভিন্ন প্রকারের বীমার উপর একটি সমন্বিত ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রদান করা হলোঃ

জীবন বীমা (Life Insurance) :

বীমার বিষয়বস্তু যদি হয় জীবন তাহলে, সে বীমাকে বলা হয় জীবন-বীমা। জীবনবীমা চুক্তির বিষয়বস্তু হতে পারে নিজের এবং/অথবা অন্যের জীবন। তবে, অন্য যার জীবনের উপর আর্থিক স্বার্থ বিদ্যমান থাকে শুধু তার জীবনের উপরই বীমা করা যায়। জীবন-বীমা অন্যান্য সব বীমা থেকে ভিন্ন প্রকৃতির বলেই জীবন-বীমাকে অন্যন্য সব বীমা থেকে লাদা করে দেখানো হয়। যেমনঃ অন্যান্য বীমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি কিন্তু জীবন-বীমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়।

আবার, অন্যান্য বীমার বীমাকৃত দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে ক্ষতি সাধিত হলেই শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। কিন্তু জীবন-বীমায় কেবল দুর্ঘটনা নয় – নির্ধারিত ঘটনা ঘটলে (অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বয়স হলে বা নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বীমাদারী পরিশোধিত হয়। জীবন-বীমাই আবার মানুষের বিচিত্র জীবনধারা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রকৃতি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেমনঃ – মেয়াদী বীমা, সাময়িক বীমা ইত্যাদি।

 

জীবন বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

মোদী ও সামগ্রিক বীমাই আবার অনেক ধরনের হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে জীবনবীমাই প্রথম শুরু হয় এবং তা বীমার ক্ষেত্রে প্রায় অধিকাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে। নিজের জীবনের উপর বীমা করলে হয় নির্দিষ্ট মেয়াদাস্তে তার জীবদ্দশায় বীমাগ্রহীতা নিজেই বীমাদাবী পেয়ে থাকেন – নয়তো, তার মৃত্যুতে তারই মনোনীত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীবৃন্দ ধীমাদাবী পেয়ে থাকেন। আর, অন্যের জীবনের উপর বীমা করলে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে বা চুক্তি অনুযায়ী অথবা বীমাকৃতের মৃত্যুতে বীমাদাবী পুরণ করা হয়।

জীবন-বীমায় সচরাচর বীমাদারী কোন না কোন সময় পাওয়া যায় বলে এখানে সেলামী প্রদান একাধারে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়। মানব জীবনের হাজারো অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে জীবন-বীমা চুক্তি করা হয়। উল্লেখ্য যে,বৃত্তি চুক্তিও এক ধরনের জীবন বীমা থাকে সাধারণতঃ মানুষের বৃদ্ধ বয়সে নিরাপত্তা ও আর্থিক নিশ্চয়তার চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়। যাই হোক, জীবন বীমা শুধুই জীবন বীমা কর্পোরেশন অথবা অন্যান্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জীবন বীমা কোম্পানীর সাথে করা যায়।

Leave a Comment