দেশের বীমাশিল্পে সংকট: গ্রাহকের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত

দেশের বীমাশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত কিছু জীবন বীমা কোম্পানির অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি পুরো খাতের ওপর গ্রাহকের আস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ। বর্তমানে দেশের ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পত্তি দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৭ শতাংশই মাত্র পাঁচটি কোম্পানির দখলে।

আইডিআরএ (ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি) রাজনৈতিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে এই দুর্নীতিপ্রবণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাব দিয়েছেন—দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই কোম্পানিগুলোর স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করা উচিত।

আইডিআরএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের জীবন ও সাধারণ বীমার মোট অনিষ্পত্তি দাবি ৭ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জীবন বীমায় অনিষ্পত্তি দাবি ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং সাধারণ বীমায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

নিচের টেবিলে প্রধান পাঁচটি কোম্পানির অনিষ্পত্তি দাবি ও পরিশোধের হার প্রদর্শিত হলো:

কোম্পানিঅনিষ্পত্তি দাবি (কোটি টাকা)পরিশোধিত দাবি (কোটি টাকা)পরিশোধের হার (%)বাকি দাবি (কোটি টাকা)
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ২,৭৫২১৯৪৬.৫৯২,৫৫৮
সানফ্লাওয়ার লাইফ৫৯৮১২৫৮৬
পদ্মা ইসলামী লাইফ২৪৯১০২৪৯
বায়রা লাইফ৭৭.৬৬৫.৪৭২.৬৬
প্রগ্রেসিভ লাইফ১৬৫২৮১৭১৩৭

অপরদিকে, দেশের ১০টি কোম্পানি তাদের বীমা দাবির ৯৯ শতাংশের বেশি পরিশোধ করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আলফা ইসলামিক লাইফ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সোনালী লাইফ, মার্কেন্টাইল, সন্ধানী, মেঘনা ও রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স।

আইডিআরএ উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান জানিয়েছেন, “কোম্পানিগুলো যাতে গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করে, সেটি আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয়। যারা ব্যর্থ হবে, তাদের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে দাবির পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।”

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “বীমা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইডিআরএকে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে এবং এক সঙ্গে খাতের কার্যকারিতা ও কোম্পানির সংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।”

সংক্ষেপে, দেশের বীমাশিল্পের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ অপরিহার্য। দুর্নীতিপ্রবণ কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ বিক্রি না হলে গ্রাহকের আস্থা আরও ক্ষুণ্ণ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।

Leave a Comment