জাতীয় সংসদে গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বয়সসীমা বাতিলসংক্রান্ত দুটি সংশোধনী আইন পাস হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে উভয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা আর কার্যকর থাকছে না।
পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল পঁয়ষট্টি বছর। অন্যদিকে বীমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল সাতষট্টি বছর। নতুন সংশোধনীতে এই সীমাবদ্ধতা সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিল দুটি পাসের সময় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধী পক্ষের সংসদ সদস্যরা বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আগে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা এবং জনমত যাচাই প্রয়োজন ছিল। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আর্থিক খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আর এই সংশোধনী সেই উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।
স্বতন্ত্র এক সংসদ সদস্য বিল দুটি জনমত যাচাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। পরে বিরোধী শিবিরের একজন শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, বিলের নথি সদস্যদের হাতে যথাসময়ে পৌঁছায়নি, যা প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অন্যদিকে সংসদের স্পিকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী বিলের কপি আগের দিনই বিতরণ করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সংসদীয় বিধি মেনে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ভোটাভুটির মাধ্যমে বিল দুটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বয়সসীমা একটি অপ্রয়োজনীয় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর মতে, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে যুক্ত করার সুযোগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, আর্থিক খাতের জটিলতা বাড়ায় অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিল পাসের পরও রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। একাধিক সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, এই পরিবর্তন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে কি না। তারা অতীতের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে বলেন, নিয়োগ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিরোধী পক্ষ আরও অভিযোগ করে যে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানান। সরকার পক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাই নিয়োগের মূল ভিত্তি।
সংশোধনী পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সংস্থা | পূর্ববর্তী বয়সসীমা | নতুন অবস্থা |
|---|---|---|
| পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা | সর্বোচ্চ ৬৫ বছর | বয়সসীমা বাতিল |
| বীমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা | সর্বোচ্চ ৬৭ বছর | বয়সসীমা বাতিল |
এই সংশোধনী পাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হলেও রাজনৈতিক বিতর্ক এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
