আজকের আলোচনার বিষয় “স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্ত রদকরণ ধারা ” যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।জীবন বীমার ক্ষেত্রে বীমাকারীগণ বীমাগ্রহীতাদের যেসব সুযোগ-সুবিধে দিয়ে থাকেন স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্তি রদকরণ ধারা তার মধ্যে অন্যতম।
স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্ত রদকরণ ধারা

আধুনিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ কারবারী জগতে বীমার ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব উৎকর্য সাধিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় স্বীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে তাই বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ বীমা গ্রহীতাদের সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধে দানের মাধ্যমে আকর্ষণ করার জন্যে নিয়ত সচেষ্ট রয়েছে। এমনি একটি সুবিধে দান প্রক্রিয়াই হলো স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্তি রদকরণ ধারা। এই ধারা মোতাবেক যদি কোন বীমাপত্র দু’বা তিন বছর চালু থাকার পর সমর্পণ মূল্য অর্জন করে এবং তারপর যদি কিত্তি দেয়া বন্ধ করে তাহলেও বীমাপত্রটি বাতিল হবে না।
সম্পূর্ণ সমর্পণ মূল্য এবং যদি কোন বোনাস থাকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি পরিশোধ বাবদ ব্যবহৃত হয়। বীমাগ্রহীতাকে এ কাজের জন্যে বীমাকারীর কাছে কোন রকম অনুরোধ করতে হয় না। বীমাকারী স্বতঃ প্রণোদিত হয়েই এ ব্যবস্থা অবলম্বন করে থাকেন। এভাবে কিস্তি পরিশোধ করতে করতে যেদিন বোনাসসহ সমর্পন মূল্যের সম্পূর্ণ অংশ শেষ হয়ে যায়, সেদিন থেকেই বীমাপত্রটিকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়। আর, যদি মেয়াদ পর্যন্ত তাতে চলে, তাহলে বাতিল হবে না। তবে, বাতিল হয়ে গেলেও তা পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা থাকে।
আর, বীমাকারী কর্তৃক এভাবে বীমাপত্রটি চালু রাখার সময়ই বীমাগ্রহীতার যদি মৃত্যু হয় অথবা বীমাপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে বীমাগ্রহীতা সম্পূর্ণ বীমাকৃত অর্থ ৰীমাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করতে পারবেন। তবে, বীমাকৃত টাকা থেকে বীমাকারী কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ ও তার সুদের টাকা বাদ যাবে।
উপরে নগদ সমর্পণ মূল্য থেকে কর্জ হিসেবে পরিশোধ করে বীমাপত্র যতদিন সম্ভব চালু রাখার ব্যাপারে বলা হলো।
এছাড়াও নগদ সমর্পণ মূল্য প্রয়োগে এককালীন কিস্তি প্রদেয় সাময়িক বীমা ক্রয় করে মেয়াদের অবশিষ্ট অংশ বা তার কোন অংশের জন্যে জীবন বীমাগ্রহীতার মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করা হয়। সাময়িক বীমার মেয়াদের মধ্যে বীমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে বীমাকৃত সম্পূর্ণ টাকা প্রদান করা হয়। আর, সাময়িক বীমা ক্রয়ের পরও পূর্ব টাকার কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকলে তাও মেয়াদশেষে পরিশোধ্য হয়।
আবার, নগদ সমর্পণ মূল্য থেকে ৬ মাস পর্যন্ত কিত্তি পরিশোধ না করলে মূল বীমাকে পরিশোধিত বীমার রূপান্তর করা যায়। সমর্পণ মূল্য থেকে উক্ত ৬ মাসের প্রদত্ত কিস্তির অর্থ বীমাপত্রের প্রথমদায় হিসেবে ধরা হয় এবং বীমাকৃত টাকা পরিশোধ করার সময় সুদসহ তা কেটে রাখা হয়।
কিস্তি পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ থেকে নগদ সমর্পণ মূল্য প্রয়োগে বীমাপত্রটিকে পরিশোধিত বীমায় রূপান্তর করা হলে রূপান্তরের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে বীমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে মোট বীমাকৃত টাকা থেকে উপযুক্ত কিস্তি কেটে রেখে বাকী টাকা পরিশোধ করা হয়।

স্বয়ংক্রিয় বাতিল বা বাজেয়াপ্ত রদকরণ ব্যবস্থা দু’ধরণের হতে পারে। যথা : অসীম ও সসীম (Unlimited & Limited) । যদি বাজেয়াপ্তি রদকরণ চালু থাকায় যে কোনসময়ে বীমাপত্রটিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তাকে অসীম বাজেয়াপ্ত রদকরণ ব্যবস্থা বলে এবং যদি পুনরুজ্জীবিত করার জন্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া থাকে, তাহলে তাকে সীমিত বাজেয়াণ্ডি রদকরণ ব্যবস্থা বলা হয়।
এভাবে স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্তি রদকরণ ধারার মাধ্যমে বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে সুযোগ প্রদান করে থাকেন। উপরোক্ত বিভিন্ন পন্থায় সমর্পণ মূল্য প্রদান করা বা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে, তা স্থান ও কাল ভেদে বিভিন্নতার অবকাশ রাখে এবং আরও বিস্তৃত আলোচনারও অবকাশ রাখে।
