আজকের আলোচনার বিষয় “বাতিল বীমাপত্র কিভাবে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল করা যায় ” যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
বাতিল বীমাপত্র কিভাবে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল করা যায়

প্রারম্ভেই উল্লেখ্য যে, বাতিল এবং তামাদিগ্রস্ত শব্দ দু’টির অর্থ এক নয়। অথচ, অনেক জায়গায় সমার্থে ব্যবহৃত হওয়ায় কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়। কেননা, বীমাচুক্তিই বিভিন্ন কারণে বাতিল হতে পারে যার মধ্যে তামাদি (অপসএ) হয়ে যাওয়া অন্যতম। তামাদিগ্রস্ত হওয়া প্রকৃতপক্ষে কার্যচলাকালীন বা চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলাকে বুঝায়। কার্যকালের বা নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কোন কারণে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেললে তা পুনরুদ্ধারের অবকাশ কমবেশী থেকে যায়। তাই, যেসব জীবন বীমাপত্র মেয়াদকালীন কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, সেসব বীমাপত্রধারীদের বীমাকারী যুগের প্রয়োজনে ও বাস্তবতার তাগিদে পুনরুজ্জীবনের সুযোগ প্রদান করে থাকেন। (তামাদিগ্রস্ততার কারণে) বাতিল জীবনবীমা চুক্তি যেভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায় তা নিম্নে বর্ণিত হলো।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়মিত বীমা কিত্তি পরিশোধ না করায় বীমাপত্র বাতিল হয়ে যায়। তবে, বীমাপত্র ২/৩ বছর পর্যন্ত যথারীতি কিস্তি পরিশোধে বীমাপত্র চালু থাকার পরে যদি বীমাগ্রহীতা কিস্তি পরশোধে ব্যর্থ হন। সেক্ষেত্রে এযাবৎ সংগৃহীত ও জমাকৃত কিস্তির অর্থ থেকে কোম্পানীর বীমাপত্র ও তৎসংক্রান্ত কোম্পানীর খরচাদি বাদ দিয়ে যে সমর্পণ মূল্য অর্জিত হয় তা দিয়ে বীমাপত্রটিকে বাচিয়ে বা চালু রাখার নিয়ম করা হয়েছে যা স্বয়ংক্রিয় বাজেয়াপ্ত রদকরণ ধারা (Automatic Non forfleture Clause) হিসেবে অভিহিত। এভাবে চালু করার পর আবার বাতিল হয়ে গেলেও যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বীমাপত্র পুনরুজ্জীবিত করা যায়। তাই, যে যে ভাবে একটি বাতিল বীমাপত্র পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল করা যায় নিম্নে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো :
(১) বীমাপত্র বাতিল হয়ে গেলে তা পুনরুজ্জীবনের জন্যে বীমাগ্রহীতাকে ভাল স্বাস্থ্যের ঘোষনাপত্র বীমাকারীর কাছে উপস্থাপন করতে হয় এবং যে ধার্যকৃত ও নির্ধারিত তারিখ থেকে কিস্তি প্রদান বন্ধ করা হয়েছিল, সেদিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সুদসহ বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করে দিতে হয় এবং আবেদন করতে হয়। উক্ত ভাল স্বাস্থ্যের ঘোষনাপত্র ( Form for the declaration of good health)-এ বীমাপত্র বাতিল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে যেদিন এ ফরম পুরণ করা হয় সেদিন পর্যন্ত বীমাগ্রহীতা যে অবিরামভাবে সুস্থ ছিলেন এবং পারিবারিক বা অন্যবিধ কারণে যে তার স্বাস্থ্যের উপর কোন প্রতিকূল প্রভাব ফেলেনি সে সম্পর্কে ঘোষণা প্রদান করতে হয়। এতে বীমাকারী সন্তুষ্ট হলে বীমাপত্র পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
(২) বীমাপত্র বাতিল হওয়ার পর থেকে ৬ মাসের অধিক কিন্তু ১ বছর সময়ের মধ্যে কোম্পানীর অনুমোদিত চিকিৎসক কর্তৃক একটি সংক্ষিপ্ত ডাক্তারী পরীক্ষার মাধ্যমে বীমাগ্রহীতা ভাল স্বাস্থ্যের তথা বীমাযোগ্যতার প্রমান করতে পারলে বীমাপত্র পুনরুজ্জীবিত করা যায়।
(৩) বীমাপত্র বাতিল হওয়ার পর ১ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে বীমাগ্রহীতা নিজের খরচে বীমা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে পূর্নাঙ্গ ডাক্তারী রিপোর্ট বীমাকারীর কাছে উপস্থাপন করতে হয়। ডাক্তারী রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে বীমাকারী বীমাপত্রটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এছাড়া, রয়েছে বিশেষ পুনরুজ্জীবন ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে, যদি বীমাপত্র সময়মত কিত্তি প্রদান না করায় বীমাপত্র বাতিল হয়ে যায় এবং ৬ মাসেরও বেশী সময় ধরে বাতিল অবস্থায় থাকে, তাহলে মূল বীমাপত্র যতদিন চালু ছিল পুনরুজ্জীবনের তারিখ থেকে ততদিন পিছিয়ে বীমাচুক্তির পুনরাস্তের তারিখ ধরে নিয়ে নতুন বীমাপত্র শুরু করা যায় এবং পূর্বে দেয়া কিস্তির টাকা নতুন বীমাচুক্তির পিছনের সময়ের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নতুন বীমাপত্রের কিস্তির হার নতুন বীমাপত্র চালুর তারিখে বীমাগ্রহীতার বয়স অনুযায়ী স্থির করা হয়। এরূপ নতুন বীমাপত্রের মেয়াদ সাধারণত: মূল বীমাপত্রের মেয়াদের সমান করে নির্ধারণ করা হয়, এ ধরনের পুনরুজ্জীবনকেই বিশেষ পুনরুজ্জীবন ব্যবস্থা নামে আখ্যায়িত করা হয়।
