আজকের আলোচনার বিষয় “ঝুঁকি নির্ণয়ে নৈতিক ও প্রাকৃতিক বিপদসমূহের প্রভাব ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
ঝুঁকি নির্ণয়ে নৈতিক ও প্রাকৃতিক বিপদসমূহের প্রভাব

অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিপদ সমূহকে মূলত : দুভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ নৈতিক বিপদ ও প্রাকৃতিক বিপদ। বীমাগ্রহীতা কর্তৃক নিজের সম্পত্তিতে অসদৃশ্যে অগ্নি সংযোগ, অন্যের দ্বারা অগ্নি সংযোগ, বীমাগ্রহীতার ইচ্ছাকৃত অবহেলা, দাবী আদায়ের প্রবল লালসা ইত্যাদি নৈতিক ঝুঁকির আওতাভুক্ত। পক্ষান্তরে, সম্পত্তি বা বস্তুর দাহ্য প্রকৃতি, ত্রুটিপূর্ণ তাপ ব্যবস্থা বিপদজনক প্রক্রিয়া, অগ্নি নির্বাপণের উপায়ের অভাব ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিগীমায় ঝুঁকি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উক্ত বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি বা বিপদসমূহের প্রভাব স্থান কাল-পাত্র ভেদে ভিন্নতর হতে পারে। যেমন-বীমার বিষয়বস্তু যেখানে থাকে সেখানকার মানুষের নৈতিকতাবোধের অভাব থাকলে বা মানুষ অপেক্ষাকৃত খারাপ প্রকৃতির হলে, সেখানে অধিকতর নৈতিক বিপদ বা ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং, তা অগ্নিবীমার চুক্তি গঠনের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ঝুঁকি নিরূপণে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবচিত হয়। আবার, যে এলাকায় বীমার বিষয়বস্তুটি বা সম্পত্তি অবস্থিত সেখানে অগ্নি নির্বাপণর জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব থাকে বা নির্বাপণকারী ফায়ার ব্রিগেড না থাক, তাহলে বিপদের সম্ভাবনা বেশী থাকে যা ঝুঁকি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভার ফেলে।
আবার, বীমার বিষয়বস্তুটি যদি দাহা পদার্থে প্রস্তুতিকৃত হয়, তাহলে সঙ্গতকারণেই সেখানে অধিকতর বিপদের সম্ভাবনা থাকে যা অধিকতর ঝুঁকির-কারণ হয় এবং সেকারণই ঝুঁকি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তা একটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ প্রভাব রাখে।
মোট কথা, অগ্নিবীমার চুক্তি গঠনের জন্যে সেলামী ( Premium) নির্ধারণের প্রয়োজন হয় এবং সেলামী নির্ধারণের জন্যেই আবার ঝুঁকি নির্ণয়ের প্রয়োজন হয় : আবার ঝুঁকি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উক্ত নৈতিক ও প্রাকৃতিক বিপদসমূহ | Physical & Moral hazards) ভিন্ন ভিন্নভাব এবং মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য প্রভাব রিস্তার করে থাকে।

