আজকের আলোচনার বিষয় “বিশেষ আংশিক ক্ষতি ও বীমাদাবী নিরূপণ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ আংশিক ক্ষতি ও বীমাদাবী নিরূপণ

একটি পণ্যবাহী জাহাজ ১০,০০০ ব্যাগ-পণ্য যথারীতি ২,০০,০০০/- টাকায় বীমাকৃত করে যাত্রা শুধু করে। পথিমধ্যে ৪,০০০ ব্যাগ পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য প্রতি ব্যাগ ৪/- টাকা করে বিক্রী করা হলো। বীমাগ্রহীতার নিম্নে বর্ণিত খরচগুলি বহন করতে হয়। ২% কমিশন, ৪০/- টাকা সার্ভে ফি এবং ১০০/- টাকা বিক্রয় সম্পর্কিত খরচ।
বীমাপত্রটি যদি মূল্যায়িত হয় তাহলে উপরের তথ্যাবলীর ভিত্তিতে –
১। বিশেষ আংশিক ক্ষতির বিবরণী প্রস্তুত কর। মনে কর, প্রতি ব্যাগ পণ্য অক্ষত অবস্থায় ২২/- টাকায় বিক্রি করা যেতো।
২। যদি প্রতি ব্যাগ পণ্যের অক্ষত অবস্থায় মূল্য হতো ১৬/- টাকা, তাহলে বিশেষ আংশিক ক্ষতির বিবরণী প্রস্তুত কর এবং
৩। যদি উপরোক্ত দুক্ষেত্রেই বীমাপত্র অমূল্যায়িত হয় তাহলে বীমাদাবীর পরিমাণ কত হবে দেখাও।
নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণে উপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষতি ও দাবী নির্ণেয় :
ক) ক্ষতি বের করার জন্যে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের অক্ষত অবস্থায় বাজারমূল্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরে বিক্রয় করে প্রাপ্ত মূল্যের মধ্যে পার্থক্য বের করতে হবে;
খ) অতঃপর ক্ষতির পরিমাণকে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের বীমাকৃত ও বাজার মূল্যের সমন্বয় করতে হবে –কেননা, দাবী করা যাবে বীমাকৃত মূল্য অনুযায়ী এবং
বীমাপত্রটি অমূল্যায়িত হলে-
সমন্বয়ের দরকার হয় না। কারণ, তখন বীমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ পরিমাণ পর্যন্ত দেয়া হয়।

