বিশেষ উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ,
Table of Contents
বিশেষ উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

১। বীমাযোগ্য স্বার্থ ( Insurable Interest) :
বীমার বিষয়বস্তুতে বীমাগ্রহীতার যে আর্থিক স্বার্থ থাকে, তাকেই বীমাযোগ্য স্বার্থ বলে। বীমাযোগ্য স্বার্থ হচ্ছে তাই, যার অস্তিত্বে বা বিদ্যমানতায় বীমাগ্রহীতা লাভবান বা উপকৃত হন এবং যার অনুপস্থিতি বা বিনাশে বীমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্বার্থ ছাড়া কোন বীমাচুক্তি গঠিত হয় না। তাই, বীমাচুক্তিতে বীমাযোগ্য স্বার্থ একটি বিশেষ অপরিহার্য উপাদান।
২। চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস ( Utmost Good Faith) :
বীমাচুক্তি চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি। বীমাচুক্তিতে অংশ গ্রহনে ইচ্ছুক প্রক্ষসমূহকে অবশ্যই একই উদ্দেশ্যে পারস্পরিক সদ্বিশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে। আর, সে সদ্বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে—পারস্পরিকভাবে চুক্তি সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের নিখুঁত, সম্যক ও সঠিক বর্ণনা ; বাড়িয়ে কিছু বলা অথবা কিছু গোপন রাখা নিয়ম পরিপন্থী। এ কারণেই, বীমাচুক্তিতে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস একটি অন্যতম বিশেষ অপরিহার্য উপাদান। তবে, কোন কোন বিষয় আছে যা বর্ণনার দরকার নেই; যেমন : — যা ঝুঁকি হ্রাস করে অথবা যা সর্বজন বিদিত।
৩। ক্ষতিপূরণ ( Indemnity) :
বীমাচুক্তি করাই হয় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিষ্কৃতির জন্যে। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ যেহেতু মানুষের অজানা – অজানা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি থেকে অব্যাহতি লাভের আশায় এবং প্রদানের অঙ্গীকারে যে চুক্তি গঠিত হয়, তাই বীমাচুক্তি। অন্যকথায়, সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ করে দেয়ার এবং পাওয়ার যে পারস্পরিক চুক্তি – তাই বীমাচুক্তি। সুতরাং, ক্ষতিপূরণ বীমাচুক্তির একটি অন্যতম অপরিহার্য উপাদান।
৪। স্থলাভিষিক্ততা (Subrogation) :
বীমাকারী বা বীমা কোম্পানী কর্তৃক বীমাগ্রহীতার ক্ষতি বা দাবীপুরণ করার পর বীমাগ্রহীতার স্থলে বীমাকারী এসো যান। অর্থাৎ, বীমাকৃত বিষয়বস্তু ধংসপ্রাপ্ত হলে, তা থেকে বীমাকারী যদি কিছু উদ্ধার করতে পারেন, ক্ষতিপূরণ করার পর তাতে বীমাগ্রহীতার ইতিপূর্বে যে অধিকার ছিল— এখন বীমাকারীই সে অধিকার লাভ করবেন। এই নীতিকে স্থলাভিষিকতার নীতি বলা হয়। বীমার ক্ষেত্রে সংগত কারণেই প্রচলিত এ রীতি – অর্থাৎ ‘স্থলাভিষিকতা একটি অপরিহার্য বিষয়।
৫। শর্তাবলী (Warrantles) :
ইংরেজী “Warranty” শব্দটির অর্থ অনেক ক্ষেত্রে গৌণশর্ত করা হয় বটে। কিন্তু, এর আভিধানিক অর্থ শতাবলী বা সমার্থক কিছু অথবা শর্তাবলীর অপরিহার্য আনুষঙ্গিকতা। এ ক্ষেত্রে Warranty-র অর্থ শর্ত করলেই বরং যথার্থ হবে। বীমার ক্ষেত্রে তাই এমন কতকগুলি বিষয় আছে যা উভয় পক্ষকেই বিশেষতঃ বীমাগ্রহীতাকে পালন করতে হয় : অন্যথায়, বীমাকারী দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। এগুলিকে বীমার ক্ষেত্রে Warranties বা শর্তাবলী হিসেবে অভিহিত করা হয়। উক্ত শর্তাবলী যদিও বিভিন্ন রকম হতে পারে। যথাঃ – প্রকাশ্য শর্ত (Expressed Warranties), অপ্রকাশ্য শত (Imlplied warranties), কার্যকর শর্ত ( Affirmative Warrantles) প্রতিশ্রুতিমূলক শর্ত (Promisory Warranties) ইত্যাদি। সংগতকারণেই, বুঝা যায় যে – এগুলি বীমাচুক্তির অপরিহার্য বিষয় বা উপাদান।
৬।অব্যবহিত বা নিকটতম কারণ ( Proximate Cause ) :
বীমাচুক্তিতে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে বা দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়, তাকেই ক্ষতির নিকটতম কারণ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর, তদ্ভিন্ন অন্য কারণে ক্ষতি হলে, তাকে দূরবর্তী কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ক্ষতিপুরণের নীতি ও পরিমাণও তদনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ প্রসঙ্গে ল্যাটিন ভাষায় উক্ত রয়েছে যে * Sed Causa Proxima non-remota spectatur” যার ইংরেজী অর্থ – “See the proxim. te cause and not the distant cause” এবং যার বঙ্গানুবাদ –“ক্ষতিপুরণের বেলায় নিকটতম কারণটি দেখ, দূরবর্তী কারণ নয়।” সুতরাং, দেখা যায় – বীমার ক্ষেত্রে Doctrine of Causa Proxima বা নিকটতম কারণ একটি অপরিহার্য উপাদান।

৭। মনোনয় ও অধিকার অর্পণ (Nomination 2 Assignment) :
জীবন বীমার ক্ষেত্রে মনোনয়ন একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। কেননা, বীমাগ্রহীতা তার মৃত্যুতে বীমাদাবীর অর্থ গ্রহণের জন্যে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করেন অথবা একাধিক ব্যক্তির নামোল্লেখ করে দেন যা মনোন নামে অভিহিত। পক্ষান্তরে, কোন কারণে প্রথম বা মূল বীমাগ্রহীতা অন্য কাউকে যদি বীমাপত্রটি হস্তান্তর তথা বীমাপত্রের অধিকার হস্তান্তর করেন, তাকেই অধিকার অর্পণ বলে। এই অধিকার বা স্বার্থ হস্তান্তর ও অর্পণ জীবন বীমার ক্ষেত্রেই প্রধানতঃ এবং কখনও নৌ-বীমার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, বীমা চুক্তিতে মনোনয়ন ও অধিকার অর্পণ অপরিহার্য বিষয় বটে।
৮। কিস্তি ফেরত ( Return of Premium) :
সাধারণতঃ বীমাগ্রহীতা কর্তৃক প্রদত্ত কিস্তির অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। তবে, কোন কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে ফেরত দেয়া হয়। যেমন :- পারস্পরিক চুক্তি অনুযায়ী, সুবিচার অথবা দ্বিগুন বীমার কারণে বীমা কিস্তি খাতে প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ ফেরৎ দেয়া হতে পারে। তাইলে দেখা যায় যে কিন্তুি ফেরতের বিষয়টিও বীমা চুক্তিতে একটি প্রয়াজনীয় শর্ত তথা উপাদান।
উপরোক্ত বিষয়গুলিই মোটামুটিভাবে বীমাচুক্তির অপরিহার্য উপকরণ বা উপাদান।
