জীবন বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমাপত্র কিভাবে বাতিল হয়

আজকের আলোচনার বিষয় “জীবন বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমাপত্র কিভাবে বাতিল হয়  ” যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

জীবন বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমাপত্র কিভাবে বাতিল হয় 

 

জীবন বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমাপত্র কিভাবে বাতিল হয়

 

বলা বাহুল্য যে, একটি জীবন বীমাপত্র একটি জীবন বীমা চুক্তিরই দলিল। চুক্তি বাতিল হলেই চুক্তিপত্র বা বীমাপত্র বাতিল হয়ে যায়। স্বভাবতঃই ধারনা হতে পারে যে, অন্যান্য চুক্তি যেভাবে বাতিল হয়, বীমাচুক্তিও সেভাবেই বাতিল হবে। প্রকৃতপক্ষে, সর্বক্ষেত্রে তা নয়। কেননা, অন্যান্য চুক্তিতে চুক্তি সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষ মারা গেলে, স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেলে, পাগল বা উন্মাদ হয়ে গেলে অথবা দেউলিয়া হয়ে গেলে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, আবার চুক্তির বিষয়বস্তু অনুপস্থিত হয়ে গেলে, চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।কিন্তু, জীবন বীমা চুক্তিতে, উপরোক্ত সবক্ষেত্রে চুক্তিতো বাতিল হয়ইনা; বরং, কার্যকর হয়। যেমনঃ বীমাগ্রহীতা মারা গেলে সাধারণত : বীমাচুক্তি আরও পালনীয় বা কার্যকর হয়। এখানেই অনেকটা বীমাচুক্তির বিশিষ্টতা।

আর, অন্যান্য কারণের মধ্যে অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তিভুক্ত কোন পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে, সাধারণত চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। জীবন বীমা চুক্তির ক্ষেত্রে এটি প্রায় সমভাবে প্রযোজ্য বটে কিন্তু, অবস্থানগত কারণেই, বীমাকারীর পক্ষ থেকে এই চুক্তি ভঙ্গের কাজটি সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা একান্ত যদি কোন ভুঞা উদ্দেশ্য সম্পন্ন কেউ না হয়। তবে, কোন বীমা গ্রহীতার বাস্তব কোন অসুবিধা অথবা ভিন্ন চিন্তার কারণে এটি হতে পারে। এখন তাহলে আলোচনাটি একদিকে নিয়ে আসা যেতে পারে ।

 

প্রথমতঃ

বীমাগ্রহীতা যদি কোন কারণে জীবন বীমা চুক্তি অনুযায়ী বীমার্কিত্তি প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে বীমাচুক্তি তথা বীমাপত্র বাতিল হতে পারে। তবে, ছবি বীমা গ্রহীতা বীমাপত্রটি ২/৩ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারেন অথবা সীমার্কিত্তি প্রদান করতে পারেন, তাহলে অন্ততঃ সমর্পণ মূল্য আদায় করে বীমাপত্রটি বাতিল করে দিতে পারেন। আবার, যদি পুনরায় চালু করতে চান তাও পারেন। তবে,এই যে সমর্পণ মূল্য প্রাপ্তি বা বীমাপত্রটি পুনরুজ্জীবিতকরণ অথবা পুনরায় চালুকরণের বিষয়টি বা প্রক্রিয়াটি সব বীমার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যেমনঃ- সাময়িক রীমায় এই সমর্পণ মূল্য অর্জন করার কোন সুযোগ নেই।

দ্বিতীয়তঃ

উপরোক্ত বিধির প্রয়োগধারায় বৃহত্তর স্বার্থে বীমাকারী * বীমাগ্রহীতাকে যে আরও সুযোগ বা শিথিলতা প্রদান করা হয় তাহলো অনুগ্রহের কাল। অর্থাৎ, ধীমার্কিত্তি যথাসময়ে না দিতে পারলে বীমাগ্রহীতাকে বকেয়াকিস্তি পরিশোধের জন্য সাধারণতঃ ১ মাস কাল বাড়িয়ে দেয়া হয় যাকে বলা হয় অনুগ্রহের কাল। এই অনুগ্রহের কালের মধ্যেও কিস্তির টাকা পরিশোধ না করতে পারলে স্বাভাবিক কারণেই বীমাপত্র বাতিল হতে পারে যদি তা পুনরুজ্জীবিত না করা হয়। আবার, সাধারণতঃ ১ বছরের মধ্যে পুনরুজ্জীবনেরও কোন সুযোগ পাওয়া যায় না।

তৃতীয়তঃ

 প্রদেয় কিন্তুি বীমাপত্রের নগদ সমর্পণমূল্য থেকে কর্জ হিসেবে পরিশোধ করে যতদিন সম্ভব বীমাপত্র চালু রাখা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রদত্ত কিত্তি সুদসহ নগন সমর্পণ মূল্যের সমান হয়ে গেলে মূল বীমাপত্রটি বাতিল হয়ে যায়।

চতুর্থতঃ

কোন বীমাপত্র অন্য বীমাপত্রে রূপান্তরিত করলেও অনেকসময় মূল বীমাপত্রটি বাতিল হয়ে যায়। যেমন : রূপান্তরযোগ্য আজীবন বীমাপত্র (Convertible_whole life Policy) ৫ বছর পরে মেয়াদী বীমা (Endowment Policy) — তে রূপান্তরিত করা হলে, পূর্বের বীমাপত্রটি আর।

 

জীবন বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমাপত্র কিভাবে বাতিল হয়

 

থাকেনা। এরূপ ক্ষেত্রে যদিও পুনরুজ্জীবন প্রসঙ্গটি প্রযোজ্য নয়। উপরোক্ত আলোচনার সারাংশ হলো এই যে-সাধারণতঃ জীবন বীমা চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথা অনুগ্রহের কালের মধ্যে বীমাকিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বীমাচুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং এরূপ বাতিল চুক্তিই সাধারণত পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল করা যায়।

Leave a Comment