বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়ন

বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়ন – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়ন

বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়ন | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন শব্দ দু’টি এত কাছাকাছি তথা পারস্পরিকভাবে সম্পূরক বা পরিপুরক যে, তাদের আলাদা করে দেখা যায় না। তথাপি, যদি একান্তই কোন পার্থক্য প্রতিভাত নিমিত্তে আলাদা বিন্যাসের চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধি বলতে সংখ্যা ও পরিমানগত বিস্তৃতি বা পরিবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন বলতে গুনগত বা মানগত উৎকর্ষতা বা পরিপুষ্টতাকেই ইঙ্গিত করা যায়। সেদিক থেকে এ পর্যায়ে বাংলাদেশে বীমা ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ বা বিস্তারলাভের সাথে সাথে তার গুণ ও মানগত উন্নতি কতটা হয়েছে— তাই এখানে প্রতিপাদ্য।

বীমা ব্যবসায়ের গোড়ার দিকে স্বাভাবিক কারণেই কোন রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান ছিল না। কালক্রমে বীমা ব্যবস্থার সংহতকরণ বা উন্নয়ন সাধনের তাগিদেই নিয়ম-কানুন প্রণয়ন ও আরোপের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর, এভাবেই বৃটিশ ভারতে ১৯১২ সালের দিকেই প্রথম এবং বিশেষতঃ জীবন বীমার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আইন প্রনীত হয় ; অতঃপর ক্রমাগতভাবে সকল বীমা ব্যবস্থার জন্যেই ১৯২৮ ও ১৯৩৮ সালে নতুনভাবে অথবা পরিমার্জন, সংশোধন ও সংযোজন সাপেক্ষে আইন প্রয়োগ অথবা প্রণয়ন করা হয়।

১৯৩৮ সালের আইনই দেশ বিভক্তির পরে ভারত ও পাকিস্তানে কার্যকর হয়। তৎকালীন পাকিস্তানে ১৯৫৪ ও ৫৮ সালে উক্ত আইনে কিছু পরিমার্জন ও সংযোজন সাধন করা হয়।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরেও ১৯৩৮ সালের বৃটিশ- ভারতীয় তথা পাকিস্তানের বীমা সম্পর্কিত আইন (সংশোধিত) কার্যকর থাকে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ৯৫ নং আদেশ বলে বাংলাদেশের বীমা ব্যবসায় জাতীয়করণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ বীমা (জাতীয়করণ) আদেশ, ১৯৭২ (The Bangladesh Insurance (Nationalisation) Order, 1972] – উফ সালের ৮ই আগষ্ট থেকে কার্যকর হয়।

 

জাতীয়করণের উদ্দেশ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচীর আওতায় বীমা ব্যবসায়ের সংহতকরণ ও উন্নয়ন সাধন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বীমা অধ্যাদেশ (Bangladesh Insurance Ordinance)-এর প্রয়োগ মূলতঃ বীমা ব্যবসায়ের তৎকালীন অবস্থার সার্বিক উন্নয়নের তাগিদেই হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির আদেশবলে বীমা ব্যবসায় জাতীয়করণ করা হয়েছিল এবং দেশে ব্যবসারত বীমা প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আওতায় ৪টি বীমা কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ১৮৭৩ সালের ১৪ই মে আবার উন্নয়ন ও সংহতকরণের স্বার্থে উক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানকে দু’টি কর্পোরেশনের আওতায় আনা হয়। যথাঃ – জীবন বীমা কর্পোরেশন ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশন।

অতঃপর বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে নিম্নে বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইন্সিওরেন্স এ্যাকাডেমী (Bangladesh Insurance Academy) প্রতিষ্ঠা করেন :-

১. বিশেষায়িত ডিগ্রী/ডিপ্লোমা/সনদ প্রদানের লক্ষ্যে বীমার ক্ষেত্রে পেশাগত শিক্ষার ব্যবস্থা করা ;

২. বীমা শিল্পের সমস্যাবলী সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণার ব্যবস্থা করা ও তার উৎকর্য সাধন করা;

৩. জীবন বীমা কর্পোরেশন ও সাধারণ বীমা কপেশরেশনে নিযুক্ত কর্মচারীদের চাকুরীকালীন প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা করা ;

৪. বীমা সংক্রান্ত বিষয়ের উপর গবেষণাকাজ বা সাহিত্যকর্মের পথ সুগম করা তথা অগ্রগতি ও প্রকাশনা ত্বরান্বিত করা;

৫. দেশে-বিদেশে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করা ;

৬. বিশেষায়িত পেশাগত মানের পরীক্ষা (Standard Examinations) অংশগ্রহণের জন্যে প্রস্তুতিমূলক পাঠ (Coaching) গ্রহণের সুবিধা প্রদান এবং

৭. বীমা শিল্প ও বীমা সংক্রান্ত শিক্ষার স্বার্থে যেসব ব্যক্তি অবদান রেখেছেন। তাঁদের পুরস্কৃত এবং উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা।

 

বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়ন | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

মোট কথা, বীমা ব্যবসায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যেই উক্ত পদক্ষেপ ও ব্যবস্থাদি গ্রহণের জন্যে সরকার বীমা এ্যাকাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। আর, উপরোক্ত বর্ণনা থেকে মোটামুটিভাবে স্পষ্ট যে – বাংলাদেশে এযাবৎ বীমা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য এবং ভবিষ্যতে অধিকতর প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের জন্যে তা আশাবাদক ভিত্তি রচনা করেছে।

Leave a Comment