ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। মানুষের জীবন ও সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিকে বিদূরিত করা বা লাঘব করা অথবা মোকাবেলা করাই হচ্ছে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজ। তবে, এই কাজটি খুব সহজ নয়। কেননা, ঝুঁকি প্রবাহিত হয় বিচিত্র পথে। আর, তাই তাকে মোকাবেলার পন্থাও হতে হয় তদনুযায়ী পরিকল্পিত, বিন্যস্ত ও সুনির্দিষ্ট। অর্থাৎ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজ সঙ্গতকারণেই ক্রমাগতভাবে হয়েছে সুনির্ধারিত প্রক্রিয়াবদ্ধ।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সে প্রক্রিয়া তথা কার্যাবলীকে মূলতঃ তিনটি ধাপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যথাঃ — (১) ক্ষতি তথা ঝুঁকির উৎসসমূহ চিহ্নিতকরণ, (২) ক্ষতি সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর তার প্রভাব মূল্যায়ন বা ফলাফল নিরূপণ এবং (৩) ঝুঁকি মোকাবেলার সর্বোত্তম কৌশল বা পন্থা নির্বাচন।
Table of Contents
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী

নিম্নে ঝুঁকির উপরোক্ত কার্যাবলীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলোঃ –
১। সম্ভাব্য ক্ষতির উৎসসমূহ চিহ্নিতকরণ (Discovering the sources from which losses may arise) :
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রথম এবং মূল কাজই হলো সম্ভাব্য ক্ষতির উৎসগুলোকে চিহ্নিতকরণ। বীমা প্রতিনিধিগণ যেসব কাজ করেন তার মধ্যে এটিকে অন্যতম কাজ বলে উল্লেখ করে থাকেন। তারা এসব উৎস চিহ্নিত করা বা খুঁজে বের করার জন্যে যে পন্থা অবলম্বন করে থাকেন, তাকে বলা হয় জরিপকরণ। কিন্তু, এ তথ্যাদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপকের খুব কম উপকারেই আসছে। কেননা, সব বিশুদ্ধ ঝুঁকির দায়িত্বই তাকে বহন করতে হয় যা এদের অনুসৃত ঐ পথে তেমন কার্যকর ও সম্ভবপর নাও হতে পারে।
সাম্প্রতিক কালে হিসাবরক্ষণ বিবরণীগুলি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বরং কিছুটা ভিন্নতর পন্থা উদ্ভাবিত হচ্ছে। কারণ, সকল আর্থিক ক্ষতি উদ্বৃত্তপত্র অথবা লাভ ক্ষতির বিবরণের উপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই, এসব বিবরণীগুলোর উপর নিখুঁত বিশ্লেষণ থেকেই ক্ষতির উৎস খুঁজে বের করার সাফল- সূত্র হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তপত্রে সে প্রতিষ্ঠানের দালান-কোঠার একটি মূল্য ধার্যকৃত ও লিখিত থাকে।
উক্ত দালান-কোঠার ক্ষতি হতে পারে যে কোন সময়। প্রশ্ন হতে পারে – কি কি ভাবে সে ক্ষতি হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই অগ্নিকাণ্ডকে একটি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে বটে, কিন্তু, শুধু অগ্নিকাণ্ডতো নয় – বরং, দিন বদলের সাথে সাথে ক্ষতিরও নতুন নতুন সব উপসর্গ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই, ঝুঁকি ব্যবস্থাপক ক্ষতি ও ঝুঁকির উৎস চিহ্নিতকরণে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সুতরাং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে কতটা দক্ষতা ও নৈপুণ্যের সাথে ঝুঁকি চিহ্নিত করা যায় তার উপর।
২। সংঘটিত ক্ষতির ফলাফল মূল্যায়ন (To evaluate the impact of the loss occurred) :
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ হচ্ছে – যদি ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে তার সার্বিক মূল্যায়ন করা। মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ-এ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কোন বিশেষ ক্ষেত্রে ক্ষতিপুরণের জন্যে ঐ ধরনের ক্ষতির প্রবণতা (Frequency) এবং গভীরতা ( Severity) সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য।
কেননা, ঝুঁকি এবং তার আনুষঙ্গিকতাসমূহ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। [আর, সে কারণেই অনেক সময় দরকার হয় তা পুনর্মূল্যায়নের। উদাহরণস্বরূপ ধরা হাক, দু’বছর আগে কোন একটি প্রতিষ্ঠানে একজন অভিজ্ঞ ঝুঁকি ব্যবস্থাপককে নিয়ে আসা হলো। নবাগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপক, প্রতিষ্ঠানের কার্যধারা বিশ্লেষণে দেখলেন – প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ছাড়াই কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত করা হয়েছে যা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ-সম্পত্তি তথা আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই, ঝুঁকি ব্যবস্থাপক এ ব্যাপারে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করলেন ।)

৩। ঝুঁকি মোকাবেলার সর্বোত্তম পন্থাটি বেছে নেয়া (To select the most efficient method of treating the risk):
বিভিন্ন রকম মাত্রা ও প্রবণতার ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তা মোকাবেলার পন্থাও তেমনি বিভিন্ন ধরণেরই হয়ে থাকে। তাই, ক্ষতি সংঘটিত হলে তা পূরণ করা তথা ঝুঁকি মোকাবেলার জন্যে দরকার সর্বাধিক কার্যকর ও উপযোগী পন্থাটি বেছে নিয়ে তা ব্যবহার করা। এই সঠিক পন্থাটি বেছে নিয়ে ব্যবহার করার উপরই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।
