ঝুঁকি ব্যবস্থাপকের দায়িত্বসমূহ ও কার্যাবলী – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, “ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা” স্বভাবতঃ এবং স্পষ্টতঃ ‘ঝুঁকি’ ও ‘ব্যবস্থাপনা’ শব্দের সমাহারে গঠিত। তাই, ‘ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা’ যুক্ত শব্দটি সম্পর্কে ধারণা নিতে উক্ত দু’টি শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবে, প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে— উক্ত দু’টি শব্দের তাৎপর্য ও ব্যাপ্তি এতো বেশী যে, এখানে সে বর্ণনা হবে একান্তই বাহুল্য।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপকের দায়িত্বসমূহ ও কার্যাবলী
মানুষের জীবন ও সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিকে বিদূরিত করা বা লাঘব করা অথবা মোকাবেলা করাই হচ্ছে ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার কাজ। তবে, এই কাজটি খুব সহজ নয়। কেননা, ঝুঁকি প্রবাহিত হয় বিচিত্র পথে। আর, তাই তাকে মোকাবেলার পন্থাও হতে হয় তদনুযায়ী পরিকল্পিত, বিন্যস্ত ও সুনির্দিষ্ট। অর্থাৎ, ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার কাজ সঙ্গতকারণেই ক্রমাগতভাবে হয়েছে সুনির্ধারিত প্রক্রিয়াবদ্ধ। ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার সে প্রক্রিয়া তথা কার্যাবলীকে মূলতঃ তিনটি ধাপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যথাঃ — (১) ক্ষতি তথা ঝুঁকির উৎসসমূহ চিহ্নিতকরণ, (২) ক্ষতি সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর তার প্রভাব মূল্যায়ন বা ফলাফল নিরূপণ এবং (৩) ঝুঁকি মোকাবেলার সর্বোত্তম কৌশল বা পন্থা নির্বাচন।

বলা বাহুল্য যে, ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার কার্যাবলীই হচ্ছে প্রকারান্তরে ঝুঁকি-ব্যবস্থাপকের কাজ। তবে, এটি সত্য যে – ঝুঁকি-ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হিসেবে বর্ণনা করতে গেলে যাবতীয় বিষয়ে খুঁটিনাটি কথাগুলি উল্লেখ করার অবকাশ এসে যায়। নিম্নে তন্নিরীখেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো :-
ক. প্রতিষ্ঠানের সর্বাধিক মুনাফা তথা সাফল্য অর্জনে দায়িত্ব পালন করা। সেলক্ষ্যে প্রয়োজনে –
(১) বীমা কর্মসূচীর সম্প্রসারণ করা
(2) ব্যাপক ও আবেগময় প্রচারের মাধ্যমে আলোড়ন ও আকর্ষণ সৃষ্টি করা এবং
(৩) প্রতিষ্ঠানের কর্মধারায় পরিবর্তন সাধন করা ইত্যাদি।

খ. ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়াসমূহ (উৎস আবিস্কার, ক্ষতি তথা ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ক্ষতিপূরণের সঠিক পন্থা নিরূপণ) সর্বাধিক দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা।
গ. প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থে ও কল্যাণে বীমা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সম্পাদন করা।
