মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকা” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

শিরোনামগত ব্যাখ্যার শুরুতেই উল্লেখ্য যে, মৃত্যুহার পঞ্জি যেসব কারণে গুরুত্ব বহন করে সে সব কারণেই তা প্রয়োজনীয় এবং বিপরীতভাবে যেসব কারণে এ তালিকা অপরিহার্য বা প্রয়োজনীয় সেসব কারণেই তা গুরুত্ববহ বা তাৎপর্যপূর্ণ।

বীমা শিল্প আধুনিক ও উৎকর্ষিত পর্যায়ে উন্নীত বা বিকাশ লাভ করার জন্যে যেসব বিষয় ও উপাদানের অবদান এবং ভূমিকা অনস্বীকার্য মৃত্যুহার পঞ্জি তার মধ্যে অন্যতম। অর্থাৎ, মৃত্যুহার পঞ্জির উদ্ভাবনই বীমার উৎকর্ষ লাভ ও অগ্রযাত্রার পথে। এক অনন্য নির্দেশক।

নিম্নে মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকার গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো :

 

১। ইহা মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে (It gives the idea about mortality rate) :

মৃত্যুহার পঞ্জিতে কোন নির্দিষ্ট বয়ঃক্রমের জনগোষ্ঠীর বা শ্রেণীর (Age-group) মানুষের বা প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতাদের মৃতের ও জীবিতের হার সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্যে যথোপযুক্ত তথ্যাদি ও বিষয়াদি সন্নিবেশিত এবং বিন্যস্ত করা হয়। মৃত্যুহার সম্পর্কে সঠিক ধারণাই মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিরূপণের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত।

 

২। ঝুঁকি নিরূপণে সহায়তা করে (Helps in measuring risk):

মৃত্যুহার তালিকা বা আয়ুতালিকার সাহায্যে সঠিক মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় যা ঝুঁকি নিরূপণের জন্যে অপরিহার্য। কোন বয়সের মানুষ ও কোন এলাকার মানুষের মৃত্যুহার কেমন তা না জানতে পারলে ঝুঁকি বেশী হবে না কম হবে তা বুঝা যায় না। তাই, ঝুঁকি নিরূপণের জন্যে মৃত্যুহার তালিকা থেকে মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়।

 

৩| বীমা কিত্তি নির্ধারণে সহায়তা করে (Helps in determining premium) :

মা চুক্তি গঠনের জন্যে কিত্তি নির্ধারণ অপরিহার্য পূর্বশর্ত অর্থাৎ, কিস্তি নির্ধারণ না করতে পারলে বীমা চুক্তিই সম্পাদন করা সম্ভব নয় এবং সঠিক কিস্তি নির্ধারণ না করতে পারলে বিফলতা অনিবার্য। সুতরাং, মৃত্যুহার তালিকা থেকে মৃত্যুহার নিরূপণ – মৃত্যুহার নিরূপণ থেকে ঝুঁকি নিরূপণ – ঝুঁকি নিরূপন থেকে কিস্তি নির্ধারণ এবং সঠিক কিত্তি নির্ধারণের মাধ্যমে বীমা চুক্তি গঠন করা সম্ভব হয় বিধায় মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব কতটা তা সহজেই অনুমেয়।

 

৪। সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে (Helps in taking proper decision and making a proper plan) :

সঠিকভাবে মৃত্যুহার, ঝুঁকি ইত্যাদি নিরূপণে সহায়ক এ মৃত্যুহার পঞ্জি একটি তথ্যচিত্র যা বীমা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সম্পাদন তথা কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তাবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হিসেবে পরিগণিত ও প্রমানিত ।

 

৫। অনুমানে চলার অসুবিধা দূরীভূত হয় (Shortcomings of advancing by mere anticipation is disappeared) :

অনুমানে চলতে গেলে লক্ষ্যে পৌঁছার সম্ভাবনা খুব কমই থাকে। তাই, দরকার সঠিক তথ্য নিদের্শনা যা মৃত্যুহার পঞ্জির মাধ্যমে পাওয়া যায়।

 

৬। সময় সংক্ষেপ করে (It saves time) :

মৃত্যুহার পঞ্জি প্রস্তুতকৃত থাকলে প্রয়োজনমত এবং যথাসময়ে মৃত্যুহার তথা এতদসংক্রান্ত তথ্যাদি পাওয়া যায় বলে অহেতুক কালক্ষেপণ হয় না যা কারবারের জন্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, Time is money in business”: ৭। ব্যয় হ্রাস করে (Minimises expenses) : মৃত্যুহার পঞ্জি প্রস্তুতকৃত থাকলে তথ্য সংগ্রহের জন্যে, তদুদ্দেশ্যে লোক নিয়োগের জন্যে এবং সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা পরিবর্তন সংক্রান্ত অহেতুক খরচের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় তথা কম খরচে কার্য সম্পাদন সম্ভব হয়।

 

৮। কর্মধারায় নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা করে (Helps in maintaining continuity) :

মৃত্যুহার পঞ্জি প্রস্তুতকৃত থাকলে বীমা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোন বিলম্ব বা বিরতি ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।

 

৯। চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করে (Helps in making a Contract) :

মৃত্যুহার পঞ্জি প্রস্তুতকৃত থাকলে মৃত্যুহার ও ঝুঁকি সম্পর্কে উপস্থিত ধারণা থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতার বয়সসীমা দৃষ্টে চুক্তি সম্পাদনে তা অনেক সহায়ক হয়।

মৃত্যুহার পঞ্জির এরূপ অনেক সুবিধে রয়েছে। সে কারণেই মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকার উদ্ভবের পর থেকে বীমার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব উকর্য সাধিত হতে থাকে এবং সে অগ্রযাত্রা আজও পৃথিবীব্যাপী অব্যাহতভাবে চলছে। তাইতো, মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও ভূমিকা অপরিসীম এবং আধুনিক বিশ্বে দ্বিধাহীনভাবে স্বীকৃত।

৫ বছরের একটি কাল্পনিক মৃত্যুহার পঞ্জির গঠন প্রণালী বা প্রস্তুতকরণের পদ্ধতি মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকা প্রস্তুত করে কোন বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর হাজার প্রতি বার্ষিক মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়। তাই, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা বয়ঃক্রমের একটি মানবশ্রেণীর বয়স, সংখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্যাদিও মৃত্যুহার তালিকায় সন্নিবিষ্ট করা হয়ে থাকে। কয়েকটি কলাম বা ঘরে বিন্যস্ত করে উক্ত উদ্দেশ্যে একটি ছক প্রস্তুত করা হয়। ছকটির ১ম কলাম বা ঘরে বয়স বা বীমার বছর বর্ণিত থাকে, ২য় কলামে জীবিত বীমাগ্রহীতাদের সংখ্যা, ৩য় কলামে সংশ্লিষ্ট বীমা গ্রহীতাদের বার্ষিক মৃত্যু বা মৃতের সংখ্যা এবং ৪র্থ কলামে প্রতি মৃত্যুর হাত বের করে লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে।

 

মৃত্যুহার পঞ্জির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

Leave a Comment