মৃত্যুহার পঞ্জি সংজ্ঞা – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” মৃত্যুহার পঞ্জি বা তালিকা” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
মৃত্যুহার পঞ্জি সংজ্ঞা

জীবন বীমার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে নির্দিষ্ট বয়ঃক্রমের মানুষের বিশেষতঃ প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতা বা বীমাকৃত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা রাখা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, বীমা ব্যবসায়…. পরিচালনা সম্ভব নয়। যে তালিকার সাহায্যে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা করা যায়, তাকে মৃত্যুহার তালিকা বা মৃত্যুহার পঞ্জি বলে।
ঘোষ ও আগারওয়ালা তাই বলেছেন Mortality Table is an Instrument for anticipation future mortality rates on the basis of past mortality records. (মৃত্যুহার পঞ্জি হলো অতীত মৃত্যুহারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা করার জন্যে একটি বিবরণী)”।
এম. এন. মিশ্রের মতে – Mortality table is such data which “records the past mortality and is put in such form as can be used in estimating the course of future data (মৃত্যুহার পঞ্জি হলো এমন একটি তথ্যপঞ্জি যা অতীত মৃত্যুহারকে সন্নিবেশিত করে এবং তা এমনপন্থায় উপস্থাপিত হয় যাতে ভবিষ্যৎ তথ্যাদির ধারা নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে)”।

নজমূল হক সিদ্দিকী তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন – “মৃত্যুহার পঞ্জি মূলতঃ নির্দিষ্ট বয়সের একটি বিপুল জন সমষ্টির বছর বছর মৃত্যুর অতীত বৃত্তান্ত যাতে কোন বিশেষ শ্রেণীর একই বয়সের বহুলোকের মধ্যে প্রতি বছরের মৃত্যুর ঝুঁকির পরিমাণ অনুমান করতে সাহায্য করে”।
মোদ্দা কথা এই যে – মৃত্যুহার পত্তি প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট বয়সের মোট বীমাকৃত 1 ব্যক্তিদের বার্ষিক মৃত্যু সংখ্যার একটি হার নির্ধারণী তালিকা। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে জীবন বীমার ক্ষেত্রে হিসেবের সুবিধের জন্যে শতকরা হার না ধরে হাজারপ্রতি হার ধরা হয়।
