আজকের আলোচনার বিষয় “নৌ-ক্ষতি ও বীমাদাবী নিরূপণ বা হিসেবকরণ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।বীমা ও বীমাপত্র এবং ক্ষতির শ্রেণীভেদ অনুযায়ী ক্ষতি ও বীমাদাবী নিরূপণ বা হিসেব করার জন্যে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসৃত হয়। সামুদ্রিক বা নো-বীমার ক্ষেত্রে কোন সামুদ্রিক বা নৌ-দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতি কতটা হলো এবং বীমাদাবীইবা কত হবে তা সঠিকভাবে নিরূপণ সাপেক্ষে বীমাদাবী পরিশোধ করা হয়।
নৌ-ক্ষতি ও বীমাদাবী নিরূপণ বা হিসেবকরণ

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, ক্ষতি বা দাবী পূরণতো বটেই, তা নিরূপণের আগেই বীমাকারী ক্ষতির কারণ-যে দুর্ঘটনা বা সামুদ্রিক বিপদ, তা সংঘটনের কারণ ও প্রেক্ষিত সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেন। কেননা, দুর্ঘটনা বা বিপদের কারণ যদি হয় অবহেলাজনিত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত, তাহলে তার ক্ষতি বীমাকারী পূরণ করতে অস্বীকৃত জানাতে পারেন। এমনকি, ক্ষতির কারণ যে দুর্ঘটনা অথবা বিপদ তা যদি বীমাকৃত না থাকে, তাহলেও বীমাকারী দাবী পূরণে বাধ্য নন।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামুদ্রিক ক্ষতির প্রকারভেদ এবং নৌ-বীমা বীমাপত্রের শ্রেণীভেদ অনুযায়ী ক্ষতি নিরূপণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক কারণেই ভিন্নতর হয়ে থাকে। আর, এই বীমাপত্রের ধরন অনুযায়ী মূল্যায়িত ও অমূল্যায়িত-এ দুধরনের বীমাপত্রে ক্ষতি নিরূপণ এক রকম নয়। ধরা যাক, বিশেষ আংশিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। সে নিরিখে স্মর্তব্য যে, মূল্যায়িত বীমাপত্রে বীমার বিষয়বস্তুর মূল্য আগেই নির্ভারণ সাপেক্ষে চুক্তি করা হয়। কিন্তু, ক্ষতি সংঘটনের সময় যদি দেখা দেখা যায় যে, বিষয়বস্তুর বাজারমূল্য বীমাকৃত মূল্যের চেয়ে কম, তাহলে ক্ষতিপূরণ তদনুযায়ী সমন্বিত হবে।
এটি বলা যেতে পারে কিছুটা শান্তিমূলক, কেননা, এক্ষেত্রে বিষয়বস্তু তথা বীমাপত্রটি অব-বীমাকৃত ( under-insured) হয়েছে। পক্ষান্তরে, যদি দেখা যায় যে, বীমাকৃত মূল্য অপেক্ষা বাজারমূল্য কম, তাহলে বীমার বিষয়বস্তু অধি-বীমাকৃত Over-insured) হয়েছে বিধায় প্রকৃত ক্ষতিকে তদনুযায়ী সমন্বিত (adjusted) করতে হয়, অর্থাৎ, প্রকৃত ক্ষতি অপেক্ষা সমন্বিত ক্ষতি বেশী হয় এবং বীমাপত্রধারী ক্ষতিপূরণ বেশী পান। তারপর, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য বা সম্পদ-সম্পত্তি যদি বিক্রয় করা হয়, তাহলে তার আনুষঙ্গিক খরচাবলীও ক্ষতির সাথে যুক্ত হয়ে বীমাদাবীর পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

প্রসঙ্গত : আরও উল্লেখ্য যে, আংশিক ক্ষতিই আবার যেহেতু মূলতঃ দুধরনের, সে দুধরনের ক্ষতি নিরূপণের পদ্ধতিও স্বভাবতঃ ভিন্নতার অবকাশ রাখে। যাই হোক, দু’একটি উদাহরণের সাহায্যে নৌ-বীমায় বিশেষ আংশিক ক্ষতি ও সাধারণ আংশিক ক্ষতি এবং বীমাদাবী নিরূপণের পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নেয়া যেতে পারে।
