শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা

আজকের আলোচনার বিষয় “শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা ” যা সামাজিক ও অন্যান্য ধরনের বীমাসমূহ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা

 

কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে তথা কারকাখায় নিয়োজিত ও নির্ধারিত সময়ে কর্মরত মজুর বা শ্রমিকদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া অথবা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলাজনিত ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার (নিয়োগকারী) মধ্যে যে চুক্তি হয়, তাকেই শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা বলে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা নিয়োগকারীর দায় বীমা ( Employer’s Liability Insurance) তথা দুর্ঘটনা বীমার আওতাভুক্ত।

শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানার মালিকগণ যখন দেখলেন যে, সভ্যতার ক্রমোন্নয়নের সাথে সাথে প্রায় সব দেশেই কারখানা আইন ও শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণ আইন প্রণীত হতে থাকে এবং তদনুযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুতে অথবা অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ দিতে হয় যা অনেক সময় বেশ বড় অংকের এবং অনিশ্চিত, তখন তারা বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের স্মরণাপন্ন হতে থাকেন।প্রতিবছর উক্ত ক্ষতিপূরণের দায় মিটানোর জন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের বীমাপত্র গ্রহণ করা ক্রমান্বয়ে একটি শিল্পরীতি হিসেবে পরিগণিত হলো। কোন কোন দেশের সরকার বীমা প্রতিষ্ঠান সমুহের সাথে শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণের জন্যে বীমা করা নিয়োগকারীদের উপর বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।

 

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমার মাধ্যমে নিয়োগকারী এবং শ্রমিক উভয়ই সুবিধা পান। নিয়োগকারী স্বাভাবিকভাবেই তার ঝুঁকি বীমাকারীর কাছে হস্তান্তর করতে পারেন এবং শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ততায় ক্ষতিপূরণ পায়। নিয়োগকারী শ্রমিকদের জন্যে বীমা করতে চাইলে বীমাকারীর কাছে প্রস্তাবনাপত্র পূরন করে জমা দিতে হয়। প্রস্তাবনাপত্রে শ্রমিকদের সংখ্যা, প্রদেয় মজুরীর পরিমাণ, বীমার ধরণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে হয়। প্রস্তাবনা পত্রে সন্নিবেশিত তথ্যাবলীর বর্ণনা ও উপস্থাপনার নির্ভুলতা ও যথার্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বীমাকারী চুক্তিবদ্ধ হন এবং শ্রমিকদের শ্রেণী অনুযায়ী বীমা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে দেন।

 

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বীমা

Leave a Comment