বৈধ বীমাযোগ্য স্বার্থের উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

বৈধ বীমাযোগ্য স্বার্থের উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ, বীমাযোগ্য স্বার্থের সংজ্ঞা ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে কতিপয় আবশ্যকীয় উপাদান লক্ষ্য করা যায়। ঐসব উপাদান ব্যতিরেকে বীমাযোগ্য স্বার্থ চিহ্নিত হতে পারে না। গ্রন্থকার এম. এন. মিশ্র বীমাযোগ্য স্বার্থের চারটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের উল্লেখ করেছেন। নিম্নে প্রথমেই উক্ত চারটি উপাদান সন্নিবেশিত করা হলো : –

বৈধ বীমাযোগ্য স্বার্থের উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

বৈধ বীমাযোগ্য স্বার্থের উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(১) বীমাযোগ্য স্বার্থপ্রযুক্ত বিষয়বস্তুর বিদ্যমানতা (Existence of the subject-matter on which insurable interest to be shown) :

যে বিষয়-বস্তুর উপর বীমাগ্রহীতা বীমাযোগ্য স্বার্থ দর্শিয়ে তা বীমাকৃত করতে চান, সে বিষয় বস্তুর অবস্থান ও অস্তিত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ, কোন কাল্পনিক বিষয়ের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থের অস্তিত্ব নির্দেশ করানো যাবে না এবং তাকে বীমাযোগ্য স্বার্থ হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না।

(২) আর্থিক সম্পর্ক (Financial Relationship) : বীমার বিষয়- বস্তুর উপর বীমাগ্রহীতার একটি আর্থিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকতে হবে — হোক তা জীবন অথবা সম্পদ-সম্পত্তি। অর্থাৎ অন্যের সম্পদ-সম্পত্তির উপর কারও বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকতে পারে না এবং এমন কোন মানুষের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না যার সাথে কোন প্রকার আর্থিক সম্পর্ক অথবা নির্ভরশীলতা নাই।

(৩) বিষয়-বস্তুর সাথে আইনসম্মত সম্পর্ক (Legal relationship with the subject matter) :

বীমাগ্রহীতা ও বীমাকৃত বিষয়-বস্তুর মধ্যে আইন সম্মত সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, বীমাকৃত বিষয়- বস্তুর উপর বীমাযোগ্য স্বার্থটি হতে হবে আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য। কেননা, সম্পর্কটি গণনীতি ও গণস্বার্থ পরিপন্থী হতে পারবে না।

 

(৪) আর্থিক লাভ-ক্ষতি (Financial gain or loss) :

প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতার বীমাকৃত বিষয়বস্তুর উপর এমন বৈধ স্বার্থ ও সম্পর্ক থাকতে হবে যেন বিষয় বস্তুর বিদ্যমানতায় তার লাভ বা স্বার্থ অর্পিত অথবা রক্ষিত হয় এবং বিনাশে বা ক্ষতিতে তার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয় অথবা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও,সুনির্দিষ্টতা(Definiteness) নিরুপণযোগ্যতা (Determinability). স্থিতিকাল (Time of existence) ইত্যাদি উপাদানও রয়েছে যা উপরোক্ত উপাদানসমূহেরই আনুষঙ্গিক বিধায় পৃথকভাবে উল্লেখ না করলেও প্রচ্ছন্নে বিদ্যমান বলে বিবেচিত হতে পারে।

নিম্নে উক্ত উপাদান-ত্রয়ী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো ঃ-

(ক) সুনির্দিষ্টতা (Definiteness) :

প্রস্তাবনার সময়ে বীমাযোগ্য স্বার্থ সঠিক এবং সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাবিত বিষয়বস্তুর উপর যথার্থতায় দর্শাতে হবে। কেবলমাত্র কোন লাভের আশা বা অলীক ভাবনাকেই বীমাযোগ্য স্বার্থের প্রেক্ষিত হিসেবে দেখানো যাবে না।

(খ) নিরূপণযোগ্যতা (Determinability) :

বীমাচুক্তিতে বীমাযোগ্য স্বার্থের মাত্রা নিরূপণযোগ্য হতে হবে, অন্যথায় তা বাজী চুক্তির লক্ষণাক্রান্ত হয়ে পড়বে।

 

বৈধ বীমাযোগ্য স্বার্থের উপাদানসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(গ) স্থিতিকাল (Time of Presence) :

জীবন বীমায় চুক্তিগঠনের সময় বীমার বিষয়-বস্তুর উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকতে হবে এবং নৌ-বীমায় দুর্ঘটনা তথা ক্ষতি সংঘটনকালীন বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকতে হবে। কিন্তু, অগ্নিবীমায় উভয় সময়েই বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকতে হবে।

পরিশেষে উল্লেখ্য যে, কোন, ভাবাবেগ অথবা আশা-নিরাশার কল্পনাক্ষেত্র নং, বরং বৈধ আর্থিক সম্পর্কযুক্ত ক্ষেত্রই হচ্ছে বীমাযোগ্য স্বার্থের স্থিতিস্থল।

Leave a Comment