উত্তর-পূর্ব উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে সমুদ্র বীমার প্রিমিয়াম বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ ও সন্ত্রাস ঝুঁকি কভার করা বীমার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ আকাশছোঁয়া অবস্থায় পৌঁছেছে।
শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হবে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে নয়টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা জাহাজ মালিকদের তাদের জাহাজ ও মালামালের ক্ষতির জন্য আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। সাধারণত এই বীমা বার্ষিক হয়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ একক ভ্রমণের জন্যও প্রযোজ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রিমিয়ামের হঠাৎ বৃদ্ধি জাহাজ মালিক, তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অয়ন ব্রোকারেজের এশিয়া মেরিন বিভাগের প্রধান স্টিফেন রাডম্যান বলেছেন, “হাল যুদ্ধ বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যদি সংঘাত তীব্র হয়, প্রিমিয়ামে আরও সমন্বয় আসা সম্ভব।” মাশ ব্রোকারের ডিলান মর্টিমার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজের মানের ১–১.৫ শতাংশের মধ্যে প্রিমিয়াম ওঠানামা করছে।
গত বছরের তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে গড়ে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল, কনডেন্সেট ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন হয়েছে। বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথে নির্ভর করে। লয়েডস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সিইও শিলা ক্যামেরন জানান, “প্রায় ১০০০টি জাহাজ অঞ্চলে অবস্থান করছে, যার অর্ধেকই তেল ও গ্যাস ট্যাংকার। এগুলির মোট মূল্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।”
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি ও প্রিমিয়ামের পরিবর্তন তুলে ধরা হলো:
| জাহাজের সংখ্যা | গড় মূল্য (মিলিয়ন ডলার) | প্রাথমিক প্রিমিয়াম (%) | নতুন প্রিমিয়াম (%) | সম্ভাব্য ক্ষতি (মিলিয়ন ডলার) |
|---|---|---|---|---|
| 7 | 250 | 0.25 | 3 | 7,500 |
| 200 | 250 | 0.25 | 1–1.5 | 500–750 |
যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কার এস্কোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আর্থিক কর্পোরেশন রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি দেবে। তবে এই পদক্ষেপ সব দেশের জাহাজের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এটি এমন পরিস্থিতির মতো, যেখানে একটি জ্বলন্ত ভবন বীমা করা হচ্ছে।” সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে, বিকল্প রুট নেয়ার ফলে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংঘাত চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দেখা দেবে।
