নিনা অং-এর নেতৃত্বে গ্রেট ইস্টার্ন লাইফের ডিজিটাল রূপান্তর

পিটি গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়া তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং আধুনিক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট-ডিরেক্টর নিনা অং-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে কোম্পানিটি তাদের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী আয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মূলত বিমা খাতের প্রথাগত ধীরগতি সম্পন্ন প্রক্রিয়াগুলোকে অটোমেশনের আওতায় এনে গ্রাহকসেবাকে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক পর্যায়ে উন্নীত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের প্রভাব

গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়া তাদের গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স বা গোষ্ঠী বিমার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে কোটেশন তৈরি, আন্ডাররাইটিং এবং বিমা দাবির নিষ্পত্তিতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, এখন এআই এবং অটোমেশনের কল্যাণে তা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে। কোম্পানির ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট কোটেশন সিস্টেম’ এবং ‘গ্রেট ইস্টার্ন কর্পোরেট অ্যাপ’-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মধ্যস্থতাকারী এবং গ্রাহকদের সরাসরি তথ্য দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে কায়িক শ্রম কমার পাশাপাশি কাজের স্বচ্ছতা ও গতি দুই-ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্রেট ইস্টার্ন লাইফের ডিজিটাল ও অপারেশনাল রূপান্তর

কার্যক্রমের ধরণসনাতন পদ্ধতি (পূর্বের অবস্থা)বর্তমান অটোমেটেড পদ্ধতি
বিমা কোটেশন প্রদানকয়েক সপ্তাহ সময় লাগতমাত্র কয়েক মিনিটে সম্পন্ন
আন্ডাররাইটিং প্রক্রিয়াদীর্ঘ ও জটিল ম্যানুয়াল যাচাইএআই ভিত্তিক দ্রুত সিদ্ধান্ত
বিমা দাবি (Claims)দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কাগুজে প্রক্রিয়ারিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও দ্রুত নিষ্পত্তি
গ্রাহক সেবাসরাসরি যোগাযোগ নির্ভরডিজিটাল পোর্টাল ও অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক

বৈচিত্র্যময় নেতৃত্ব ও নারীর অংশগ্রহণ

নিনা অং মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হলো নেতৃত্বের বৈচিত্র্য। গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়ার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পদে বর্তমানে নারীরা আসীন রয়েছেন। এই বৈচিত্র্য কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, বরং এটি কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং গঠনমূলক বিতর্কের ফলে প্রতিষ্ঠানের আন্ডাররাইটিং মান এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি কার্যকর হচ্ছে।

নিনা অং-এর হংকং এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে ঝুঁকি এবং রিটার্নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শিখিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক নেতৃত্ব কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নেতা তৈরির একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি

কর্মজীবনের শুরুতে নিনা অং-এর কাছে সাফল্য মানে ছিল কেবল নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ। তবে এখন শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে তিনি সাফল্যকে দেখেন প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব এবং বিশ্বস্ততার নিরিখে। তাঁর মতে, একটি হাই-পারফরম্যান্স সংস্কৃতি গড়ে তোলার অর্থ এই নয় যে সব সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে; বরং এটি হলো কাজের স্বচ্ছতা, মালিকানাবোধ এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করা। গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ নমনীয় কাজের পরিবেশ তৈরি করে অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্ব ধরে রাখতে সচেষ্ট, যা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

বর্তমানে গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়া কেবল একটি বিমা কোম্পানি হিসেবে নয়, বরং একটি প্রযুক্তি-বান্ধব এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র হিসেবে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ডিজিটাল রূপান্তরের এই জোয়ার গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও সাবলীল করে তুলছে।

Leave a Comment