হরমুজ অস্থিরতায় আমদানি ব্যয়ে বীমা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি খাতে তীব্রভাবে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্য ও কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে প্রত্যাশিত মূল্যহ্রাস দেখা যায়নি। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ আর বেড়ে যাওয়া শিপিং খরচ দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচলের জন্য বাংলাদেশ ৬টি জাহাজের তথ্য ইরান কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ১টি জাহাজ সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল আনা হবে। ইরান জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, তবে চলাচলের আগে জাহাজের বিস্তারিত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক।

শিপিং ও বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে অতিরিক্ত যুদ্ধঝুঁকি প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সামুদ্রিক বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি খরচ প্রায় ১৮ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৫% এবং অগ্রিম আয়কর ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে এর প্রভাব সীমিত। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নে খেজুর আমদানিতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া, ইরাক থেকে আসা একটি খেজুরবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়েছে।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে ইরাকি খেজুরের দাম প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-১৮৫ টাকায় পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও গভীর হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেলে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হবে। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক খেজুর বাজার পরিস্থিতি সংক্ষেপে দেওয়া হলোঃ

পণ্যের ধরনআমদানি উৎসপাইকারি দাম (টাকা/কেজি)পূর্ববর্তী দাম (টাকা/কেজি)শুল্ক/কর হার (%)
খেজুরইরাক১৮০-১৮৫১৫০শুল্ক ১৫%, আয়কর ৫

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক না হলে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও বাজারদর দুটিই আরও বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক চাপ কমাতে প্রশাসনকে আরও সমন্বিত নীতি গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মনিটরিং করতে হবে।

Leave a Comment