২০২৬ সালে বৈশ্বিক পুনর্বীমা ও বীমা খাত তুলনামূলকভাবে অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশে প্রবেশ করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সুইস রি। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বার্ষিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রায় ২.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখবে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে, যদিও স্বল্পমেয়াদে কিছু ওঠানামা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি বাণিজ্যিক উত্তেজনা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী শ্রমবাজার, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র থেকে তুলনামূলক উচ্চ আয় এবং আর্থিক বাজারের ইতিবাচক রিটার্নের সুবিধা পেয়েছে, যা তাদের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
তবে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বীমা প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সুইস রি-এর তথ্য অনুযায়ী, বাস্তব প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৯ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ৫.৭ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এটি মূলত মহামারী-পরবর্তী দ্রুত সম্প্রসারণের পর বাজারের স্বাভাবিক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বীমা প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি গড়ে প্রায় ২.০ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আর্থিক বাজার কিছুটা অস্থির থাকতে পারে, কারণ উচ্চ সম্পদমূল্যায়ন, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগযোগ্য ঋণপত্রের উপস্থিতি বাজারে মৌলিক সমর্থন বজায় রাখবে।
দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র থেকে উচ্চ আয় বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ পোর্টফোলিওকে শক্তিশালী করছে, যা তাদের লাভজনকতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনার সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্পত্তি ও দুর্ঘটনা বীমা খাত
এই খাতে ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হয়ে গড়ে প্রায় ১.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং মূল্যচাপ এই ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নগরায়ণ বৃদ্ধি, সম্পদের ঘনত্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করবে।
জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা খাত
জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা খাত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই খাতে ২০২৬–২০২৭ সময়ে গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ২.৮ শতাংশ হতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি সুরক্ষা পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগমুখী প্রবণতা এই খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি মহামারী-পরবর্তী অতিরিক্ত মৃত্যুহার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসায় খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
পূর্বাভাসের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | ২০২৫ সালের অবস্থা | ২০২৬–২০২৭ পূর্বাভাস |
|---|---|---|
| বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি | প্রায় ২.৮ শতাংশ | প্রায় ২.৮ শতাংশ |
| বৈশ্বিক বীমা প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি | ৩.৯ শতাংশ | প্রায় ২.০ শতাংশ |
| সম্পত্তি ও দুর্ঘটনা বীমা | তুলনামূলক শক্তিশালী | গড়ে ১.১ শতাংশ |
| জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা | স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি | গড়ে ২.৮ শতাংশ |
| মুদ্রাস্ফীতি | ধীরে হ্রাসমান | আরও নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় |
সব মিলিয়ে সুইস রি-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বীমা ও পুনর্বীমা খাত একটি স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রসর হবে। যদিও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবুও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বিনিয়োগ পরিবেশ খাতটিকে ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
