অধিগ্রহণ গুঞ্জনে শেয়ারবাজার উত্তাল

যুক্তরাজ্যের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা প্রতিষ্ঠান হিসকক্সের শেয়ারের দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্য অধিগ্রহণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কানাডাভিত্তিক বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনট্যাক্ট ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশন হিসকক্সকে কেনার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে বাজারে আলোচনা শুরু হলে শেয়ারের দর দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে এবং তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে কম অবস্থানে থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো একের পর এক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের দিকে অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসছে, যা সামগ্রিক বাজারে নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি করছে।

হিসকক্স মূলত একটি বৈশ্বিক বীমা প্রতিষ্ঠান, যা সম্পত্তি ও দায়বদ্ধতা বীমা খাতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। অন্যদিকে ইনট্যাক্ট ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশন দীর্ঘদিন ধরে তার বাণিজ্যিক বীমা কার্যক্রম সম্প্রসারণের কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, হিসকক্স অধিগ্রহণ করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে আরও শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

শুধু হিসকক্সই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কোম্পানি বিদেশি ক্রয় প্রস্তাবের কারণে আলোচনায় এসেছে। খাদ্য উপাদান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেট অ্যান্ড লাইল মার্কিন খাদ্য-উপাদান জায়ান্ট ইনগ্রেডিয়নের কাছ থেকে প্রায় দুই দশমিক সাত বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অধিগ্রহণ প্রস্তাব পেয়েছে। এই খবর প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, লন্ডনভিত্তিক পরীক্ষণ ও সার্টিফিকেশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারটেকও বড় ধরনের অধিগ্রহণ প্রস্তাবের মুখোমুখি হয়েছে। সুইডিশ বিনিয়োগ সংস্থা ইকিউটি প্রায় দশ দশমিক ছয় বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যে প্রতিষ্ঠানটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শুরুতে ইন্টারটেকের পরিচালনা পর্ষদ একাধিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, পরবর্তীতে তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে বাজার সূত্রে জানা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণ প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের কর্পোরেট খাতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল্যায়ন ও সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় কোম্পানি একই ধরনের অধিগ্রহণ প্রস্তাবের মুখে পড়তে পারে।

নিচে সাম্প্রতিক প্রধান অধিগ্রহণ প্রস্তাবগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

প্রতিষ্ঠানক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানদেশপ্রস্তাবিত মূল্যখাত
হিসকক্সইনট্যাক্ট ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনকানাডাপ্রকাশিত হয়নিবীমা
টেট অ্যান্ড লাইলইনগ্রেডিয়নমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রায় দুই দশমিক সাত বিলিয়ন পাউন্ডখাদ্য উপাদান
ইন্টারটেকইকিউটিসুইডেনপ্রায় দশ দশমিক ছয় বিলিয়ন পাউন্ডপরীক্ষণ ও সার্টিফিকেশন

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বড় আকারের আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণ যুক্তরাজ্যের শেয়ারবাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও কম মূল্যায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্রিটিশ কোম্পানি একই ধরনের অধিগ্রহণ প্রস্তাবের সম্মুখীন হতে পারে, যা পুরো বাজার কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment