সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিসমূহ

সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিসমূহ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যে সম্পদ-সম্পত্তি একান্ত অপরিহার্য। তাই, সে প্রয়োজনীয় সম্পদ-সম্পত্তি আহরণ করে হয়ত অনেক কষ্টে। অথচ, সেই কষ্টার্জিত সম্পদ-সম্পত্তি নানা কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে – অপহৃত বা বেহাত হয়ে যেতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে যে কোন মুহূর্তে। যেসব কারণ ও ঝুঁকি সম্পদ- সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধংসপ্রাপ্ত হওয়ার জন্যে প্রধানতঃ দায়ী নিম্নে সংক্ষেপে তা সন্নিবেশিত হলো : –

সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিসমূহ

 

সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিসমূহ | ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

 

১. প্রাকৃতিক ঝুঁকিঃ

ঝড়-ঝঞ্চা, বাত্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, ভূমিধস, ভাঙ্গন, প্লাবন, প্রবল বর্ষন, খড়া, অগ্নিকাণ্ড, জীব-জন্তু-জানোয়ার, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি দ্বারা মানুষের সম্পদ-সম্পত্তি জলে-স্থলে ও অন্তরীক্ষে যে কোন স্থানে, যে কোন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত, বিনষ্ট ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যেতে পারে।

 

২. অপ্রাকৃতিক ঝুঁকি:

চুরি-ডাকাতি, অগ্নি-সংযোগ, লুঠতরাজ, দস্যুতা, শত্রুতা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, হরতাল, ধর্ম ট, দাঙ্গাহাঙ্গামা, রাজনৈতিক বিক্ষোভ, লোভ- লালসা, ভয়-ভীতি, প্রতারণা, অবহেলা অসতর্কতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে সম্পদ- সম্পত্তি বিনষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত, বেহাত ও ধ্বংসকৃত হতে পারে যা মানুষের জীবন- জীবিকার অপরিমেয় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে এবং যার পরিনতিতে মানুষ পথের ভিখারী হয়ে যেতে পারে।

উপরোক্ত বিষয়গুলিকে প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি (Risk) বলা যায় না, বরং, বিপদ- বিপর্যয় (Hazards) বলা যায়। তবে, এগুলোই (জীবন ও সম্পদ-সম্পত্তির) আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তার কারণ ও ক্ষেত্র বিধায় অনেক সময়ে এগুলিকে ঝুঁকি হিসেবে ধারণা ও বর্ণনা করা হয়। যাই হোক, মানুষ তার সম্পদ-সম্পত্তির জন্যে নিয়ত যে সব বিপদ তথা ঝুঁকির সম্মুখীণ হয়ে থাকে সেগুলোকে উপরে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

 

বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি (বিপদ) মোকাবেলায় বীমার ভূমিকা The role of insurance in order to face the various types of risks (hazards ) উপরে আলোচিত বিপদ-বিপর্যয় তথা ঝুঁকিসমূহ মোকাবেলার জন্যে কালক্রমে এক কার্যকর পন্থা, প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে যা বীমা নামে অভিহিত আজ। মানুষ তার জীবন ও সম্পদ-সম্পত্তির জন্যে যেসব ঝুঁকি তথ্য বিপদ-বিপত্তির সম্মুখীন হয়, তা মোকাবেলার জন্যে আধুনিক রীমা বিভিন্ন ধরনের বীমাপত্রের প্রচলন করেছে।

বীমা এমন একটি চুক্তি তথা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সেলামীর প্রতিদানে অপরপক্ষ বিষয়বস্তুর বিনাসে বা তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা চুক্তি মোতাবেক বীমাদাবী বা ক্ষতিপুরণ প্রদান করে থাকে। সেলামী প্রদানকারী পক্ষকে বীমাগ্রহীতা এবং বীমাদাবী বা ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী পক্ষকে বীমাকারী বলা হয়।

 

সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিসমূহ | ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

বীমাকারী কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রস্তাবনাপত্র প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতা পূরণ করে বীমাকারীকে সেলামী প্রদান করে থাকেন; আর, প্রতিদানে বীমাকারী জীবন বীমার চুক্তিতে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুতে বা বীমার মেয়াদাস্তে অথবা চুক্তি মোতাবেক বীমাদাৰী পরিশোধ করেন এবং সম্পত্তি বীমার ক্ষেত্রে বীকৃত বিষয়বস্তুর বীমাকৃত কারণে বা দুর্ঘটনায় ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকেন। এতে বীমাকারী যেমন অনেক বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে বীমা সেলামী গ্রহণে পুঁজি অর্জন করে কারবার করতে পারেন, তেমনি বীমাগ্রহীতা উপকৃত হন বিপদে-আপদে। চরম সর্বনাশে বেঁচে থাকার বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অবলম্বন ও উপায় খুঁজে পান।

মানুষ তার জীবন ও সম্পদ-সম্পত্তির জন্যে যেসব বিপদ তথা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে থাকে তা মোকাবেলার জন্যে বীমা ব্যবস্থায় কালক্রমে যেসব বীমাপত্রের প্রচলন হয়েছে ।

Leave a Comment