দেশের লাইফ ও নন-লাইফ—সব ধরনের বিমা কোম্পানির জন্য ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার টাকায় ২.৫০ টাকা হারে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। বিমা খাতের মালিকপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও মঙ্গলবার (২৩ জুন) এফআইডির বিমা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়।
এফআইডি থেকে পাঠানো চিঠিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর চেয়ারম্যানকে জানানো হয়, ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২’-এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী সর্বশেষ সংশোধিত সরকারি গেজেটে নির্ধারিত হার ও সময় মেনে ফি আদায়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ নতুন হারে ফি বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি পূর্বপ্রক্রিয়াও রয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল আইডিআরএ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬ সালের জন্য বেসরকারি বিমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি—প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে কত হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়েছিল। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই এফআইডি বর্তমান নির্দেশনা জারি করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে এই ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। আগে যেখানে প্রতি হাজারে ১.০০ টাকা হারে ফি দিতে হতো, সেখানে তা এক লাফে বাড়িয়ে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ফি বেড়েছে আড়াই গুণ। এই বৃদ্ধির বিরোধিতা করে আসছে দেশের বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো।
খাত সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, নতুন হারে ফি কার্যকর হলে ১০০ কোটি টাকা গ্রস প্রিমিয়াম অর্জনকারী একটি বিমা কোম্পানিকে আগে যেখানে ১০ লাখ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এ সিদ্ধান্তকে খাতের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছে এবং ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটির সব ব্যয় নিজস্ব আয়ের মাধ্যমেই মেটাতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা, ‘ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন’ বাস্তবায়ন এবং নতুন কিছু প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিবন্ধন ফি বাড়ানোকে তারা প্রয়োজনীয় মনে করছে।
সব মিলিয়ে, এফআইডির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিমা খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর যুক্তি, অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর ব্যয়ভার বৃদ্ধি—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
