আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় উদ্বৃত্ত বণ্টনের পদ্ধতি সমূহ যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।
Table of Contents
উদ্বৃত্ত বণ্টনের পদ্ধতি

বীমা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা তথা স্বচ্ছলতা ও উদ্বৃত্ত নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মূল্যায়ন করা হয়। অর্থাৎ, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাধারে যেমন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় – তেমনি আবার বন্টনযোগ্য উদ্বৃত্ত নির্ধারণ করা হয়। আর, উদ্বৃত্ত নির্ধারণের পরে স্বাভাবিক ও সঙ্গত কারণেই তার ব্যবহার তথা বণ্টনের প্রশ্নটি আসে। বলা বাহুল্য যে, উদ্বৃত্তের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিভিন্ন 1 তহবিলে বণ্টন করার পরে যা থাকে তাকেই প্রকৃতপক্ষে মুনাফা বলা হয়।
আর, এই মুনাফাই আবার লভ্যাংশ ও বোনাস হিসেবে যথাক্রমে শেয়ার হোল্ডার ও পলিসি হোল্ডার বা বীমাপত্রধারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়। তবে, এই উদ্বৃত্ত ও মুনাফা বণ্টন করার কিছু বিধিগত ধারা, হার ও নিয়ম পদ্ধতি রয়েছে। যেমনঃ – ভারতীয় জীবন বীমা সংস্থা সংবিধি মোতাবেক (Indian Life Insurance Corporation Act. 1956) প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তের অন্যূন ১৫২ ভাগ বীমাপত্রধারীদের মধ্যে বণ্টিত অথবা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষিত হতে হয়।
যাই হোক, উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণে উদ্বৃত্ত বণ্টিত হয়ে তাকে :-
প্রথমত : নির্দিষ্ট হিসাব সম্পাদনের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত থেকে বিভিন্ন আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলার জন্যে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়।
দ্বিতীয়ত : ব্যয় বরাদ্দের পরে বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন তহবিলে উদ্বৃত্তের অর্থ থেকে বরাদ্দ ও বণ্টন করা হয়।
তৃতীয়ত : বিভিন্ন তহবিলে অর্থ বরাদ্দের পর যা থাকে তা মুনাফা হিসেবে অভিহিত এবং উক্ত মুনাফা থেকে নির্দিষ্ট নিয়মে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বন্টন করা হয়ে থাকে।
চতুর্থত : মুনাফার তথা উদ্বৃত্তের অবশিষ্ট অর্থ থেকে সাধারণতঃ মুনাফার অংশগ্রহণকারী পলিসি হোল্ডারদের মধ্যে বোনাস হিসেবে বণ্টন করা হয়ে থাকে। বোনাস হিসেবে উদ্বৃত্তের অংশ বণ্টন করা প্রকৃতপক্ষে বেশ জটিল ও কঠিন কাজ।
এই বোনাস বণ্টন মূলতঃ দু’টি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে যা সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণিত হলো:- eutique to nolindhiteth to abortione
১। সম-বোনাস পরিকল্পনা (Uniform Bonus Plan) :
এ পদ্ধতিতে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর পলিসিহোল্ডার বা বীমা গ্রহীতাদের একরূপ বা সমপরিমানের বোনাস প্রদান করা হয়ে থাকে। বীমাপত্রের মূল্য বা বীমাকৃত অর্থের উপর ভিত্তি করে বোনাসের হার নির্ধারিত হয়ে থাকে।
উদাহরণ স্বরূপ ধরে নেয়া যাক – – আজীবন বীমাপত্রের উপর হাজার প্রতি টা ২৫.০০ হারে বোনাস ঘোষিত হলো। বোনাসের এ হার নির্ধারণ করতে প্রথমে মোট বণ্টনযোগ্য মুনাফা বের করতে হয়। অতঃপর বন্টনযোগ্য মুনাফাকে বীমাপত্রের মূলা টা. ১০০০.০০ (যদি মূল্য তাই হয়) দিয়ে গুন করতে হয় এবং তাকে মূল্যায়নকালীন মুনাফায় অংশগ্রহণকারী বীমাপত্রের সাকল্য বা সর্বমোট মূল্য বা পরিমান দিয়ে ভাগ করে বোনাসের হার নিরূপন করা হয়।
এভাবে বীমাপত্রের মূল্যের উপর বোনাসের হার নির্ভর করে কম-বেশী হয়ে থাকে। বীমাপত্রের মূল্য বেশী হলে তদনুযায়ী বোনাস বেশী হয় এবং বীমাপত্রের মূল্য কম হলে বোনাস তদনুযায়ী কম হয়ে থাকে।তবে, এ পদ্ধতিতে উদ্বৃত্তে পরোক্ষভাবে স্থিত অংশ মোতাবেক বিভিন্ন বীমাপত্রের ক্ষেত্রে বোনাসের হারে প্রকৃতপক্ষে তেমন কোন পার্থক্য করে না। এ যুক্তিতে কালক্রমে দ্বিতীয় পদ্ধতির উদ্ভব ঘটেছে।]
২। অংশানুপাতিক পদ্ধতি (Contribution method) :
এ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তে প্রতিটি বীমাপত্রের বা প্রত্যেক বীমাগ্রহীতার বিদ্যমান। অংশ মোতাবেক বন্টনযোগ্য উদ্বৃত্ত বণ্টন করে দেয়া হয়। যে পলিসি বা বীমাগ্রহীতার যত বেশী অংশগ্রহণ বা আর্থিক অংশ (Contribution) থাকে সে বীমাপত্রের উপর তাকে বোনাসও বেশী প্রদত্ত হয়ে থাকে। তবে, উদ্বৃত্তের যেহেতু অনেকগুলি উৎস রয়েছে, প্রতিটি উৎসের অবদানও সে কারণে বিশ্লেষিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সে কারণেই আবার, দুটি বিষয় সম্পর্কে বিবেচনা করতে হয় যা নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো :-
(১) সমগ্র উদ্বৃত্তে প্রত্যেক ধরনের বা শ্রেণীর বীমাপত্রের অথবা বীমাগ্রহীতাদের বিদ্যমান আর্থিক অবদান বা অংশ এবং
(২) সমগ্র উদ্বৃত্তে কোন নির্দিষ্ট বীমাপত্রের উদ্বৃত্তের প্রতিটি উৎসের বিদ্যমান আর্থিক অংশ বা অবদান (Contribution) নিরূপণ করা।

অতঃপর প্রত্যেক বীমাপত্রের বিদ্যমান অংশ বা অবদান অনুযায়ী উদ্বৃত্ত বণ্টন করা হয়। তিনটি উৎস সম্পর্কে বিবেচনা করে উদ্বৃত্ত হিসেব করা হয়। যথা :
(১) মৃত্যুহার (Mortality)
(2) সুদ (Interest) ও
(৩) সঞ্চয় (Saving)। তাই, একে ত্রয়ী উপাদান অবদান পরিকল্পনা (Three Factors Contribution Plan) বলা হয়।
যদিও কোন কোন সময়ে মৃত্যুহার সঞ্চয় (Mortality Saving) পরিহার করে শুধু দু’টি বিষয়কে প্রতিটি বীমাপত্রের অংশ নিরূপণ করার জন্যে বিবেচনা করা হয়। যথাঃ- অতিরিক্ত সুদ ও সঞ্চয়।এ পদ্ধতিতে হিসেব নিকেশ বেশ জটিল ও কঠিন বলেই পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।
