আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মুনাফা বরাদ্দের ভিত্তি। মুনাফা বরাদ্দের ভিত্তি পাঠটি জীবন বীমা অধ্যায়ের একটি পাঠ।
মুনাফা বরাদ্দের ভিত্তিসমূহ

প্রতিটি কার্যধারারই কিছু না কিছু ভিত্তি তথা নীতি বিদ্যমান থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার কোন ব্যত্যয় নেই। বীমার ক্ষেত্রে মুনাফা বরাদ্দের জন্যে যেসব বিষয়কে ভিত্তি হিসেবে গণ্য বা বিবেচনা করা হয় নিয়ে সে সব বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলোঃ
১। সরলতা (Simplicity) : মুনাফা বরাদ্দের ব্যাপারে সরলতা বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি বা বিষয়। কেননা, তাতে যেমন সংশ্লিষ্টদের পক্ষে তা সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য হয় তেমনি তাতে প্রকারান্তরে ব্যয়-সংকোচ হয়ে থাকে।
২। সুবিচার (Equity): মুনাফা বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম অপরিহার্য বিষয় তথ্য ভিত্তি বা নীতি হচ্ছে সুবিচার। উদ্বৃত্তে বিদ্যমান অংশ বা আর্থিক অবদ (Contribution) অনুযায়ী প্রত্যেক বীমাগ্রহীতার প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান ও গুরুত্ব আরোপ করা বাঞ্চনীয়। কিন্তু, কার্যতঃ তা যথাযথভাবে হয়ে উঠে না। তাই বন্টনযোগ্য উদ্বৃত্ত বণ্টনের সময় অন্ততঃ মোটামুটিভাবে একটি সুবিচার রক্ষা কর অপরিহার্য।
৩। উপযুক্ততা (Suitability) : বীমা প্রতিষ্ঠানের বা কারবারের প্রকৃতি, আকার ও বয়স অনুযায়ী উদ্বৃত্ত বণ্টনের জন্যে একটি যথার্থ বা উপযুক্ত পদ্ধতি মুনাফা বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটা অপরিহার্য ভিত্তি।
৪। জনপ্রিয়তা (Popularity) : মুনাফা বরাদ্দের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিটি শুধু হিসেব-নিকেশের বোধগম্যতার জন্যেই নির্ধারিত নয়; বরং, তা বীমাপত্রধারীদের কাছে পরিচিত হওয়া বাঞ্চনীয়।
৫। নমনীয়তা (Flexibility) : মুনাফা বরাদ্দের জন্যে নমনীয়তা একটি অন্যতম ভিত্তি। কেননা, সেই পদ্ধতিই উত্তম যাতে প্রয়োজনমত পরিবর্তন, পরিবর্ধন,সংযোজন, বিয়োজন ইত্যাদি করা সম্ভব।

যদিও মুনাফা বরাদ্দের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সুবিচার রক্ষা করা একটি দুরূহ ব্যাপার।তাই, সরলতা, নমনীয়তা ও জনপ্রিয়তাকে অন্ততঃ বিবেচনায় রাখা হয়ে থাকে।
