বৈশ্বিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত অন্যতম আধুনিক আর্থিক উপকরণ ক্যাটাস্ট্রফি বন্ড বা বিপর্যয় বন্ড বাজারে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য মূল্য পরিবর্তন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুইটি বীমা প্রতিষ্ঠান—আমেরিকান ইন্টেগ্রিটি এবং সেফপয়েন্ট—মোট ৫১০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্বীমা সুরক্ষা সফলভাবে সংগ্রহ করেছে। এই লেনদেনে গত বছরের তুলনায় মূল্য নির্ধারণে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
এই দুটি লেনদেনে পরামর্শক ও বুকরানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে গ্যালাঘার সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে কম মুনাফা গ্রহণ করেও এই ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে বীমা কোম্পানিগুলো কম খরচে উচ্চমাত্রার পুনর্বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে, যা তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
আমেরিকান ইন্টেগ্রিটির নতুন লেনদেনটি “ইন্টেগ্রিটি আর ই তৃতীয় সিরিজ ২০২৬–১” নামে ইস্যু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি মোট ২৬০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্বীমা সুরক্ষা অর্জন করেছে। এই সুরক্ষা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ঝড়প্রবণ অঞ্চল—ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, উত্তর ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনা—জুড়ে ঘূর্ণিঝড়জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলগুলোতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি বীমা সেবা প্রদান করে আসছে।
এই নতুন চুক্তির ফলে আমেরিকান ইন্টেগ্রিটির মোট ক্যাট বন্ড সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। গ্যালাঘার সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান বিল ডুবিনস্কি জানিয়েছেন, এটি কোম্পানিটির নবম বিপর্যয় বন্ড ইস্যু, যেখানে বিভিন্ন ঝুঁকি স্তর এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সেফপয়েন্ট তাদের “নেচার কোস্ট আর ই ২০২৬–১” লেনদেনের মাধ্যমে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এই সুরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা, আলাবামা, মিসিসিপি এবং টেক্সাস অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়জনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে। শুরুতে এই লেনদেনের লক্ষ্য ছিল ১৫০ মিলিয়ন ডলার, তবে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিপর্যয় বন্ড বাজারে বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা এবং উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৫৮৮ কোটি ডলারের বিপর্যয় বন্ড ইস্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ইস্যু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তুলনামূলকভাবে গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬৪৩ কোটি ডলার।
নিচে প্রধান লেনদেনের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| কোম্পানি | বন্ডের নাম | মোট সুরক্ষা | কভারেজ এলাকা | মূল্য পরিবর্তন |
|---|---|---|---|---|
| আমেরিকান ইন্টেগ্রিটি | ইন্টেগ্রিটি আর ই তৃতীয় সিরিজ ২০২৬–১ | ২৬০ মিলিয়ন ডলার | ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনা | প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস |
| সেফপয়েন্ট | নেচার কোস্ট আর ই ২০২৬–১ | ২৫০ মিলিয়ন ডলার | ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা, আলাবামা, মিসিসিপি, টেক্সাস | প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস |
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমে যাওয়ার ফলে বীমা কোম্পানিগুলো তুলনামূলক সহজ শর্তে পুনর্বীমা সুরক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। এতে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বিপর্যয় বন্ড বাজার আরও সম্প্রসারিত ও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
