ভারতভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নাভি-এর সাধারণ বীমা শাখা মোটর বীমা খাতে তাদের ক্যাশলেস ক্লেইম সেবা ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে চারটি অংশীদার যুক্ত করেছে এবং একই সঙ্গে দেশজুড়ে তাদের ক্যাশলেস নেটওয়ার্ক দ্রুত বৃদ্ধি করেছে।
নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে গোমেকানিক, মাইটিভিএস এবং এআইএস উইন্ডশিল্ড এক্সপার্টস। এসব অংশীদারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন নাভির ক্যাশলেস মোটর বীমা ব্যবস্থার আওতায় আরও বিস্তৃত গ্যারেজ ও উইন্ডশিল্ড সেবা কেন্দ্রের সুবিধা পাবেন। ফলে দুর্ঘটনার পর গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ছাড়াই সরাসরি অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে কাজ করানো সম্ভব হবে।
এছাড়া রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স সেবার দায়িত্ব পেয়েছে রেডি অ্যাসিস্ট। প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ১৯ হাজারেরও বেশি পিন কোড এলাকায় চব্বিশ ঘণ্টা সেবা প্রদান করবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে শারীরিকভাবে ক্লেইম যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সেই প্রক্রিয়ায় সহায়তাও দেবে।
নাভি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যেখানে তাদের ক্যাশলেস গ্যারেজ নেটওয়ার্ক ছিল প্রায় ৭১০টি, সেখানে ২০২৬ সালের মে মাসে তা বেড়ে ১ হাজার ৬০০-র বেশি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি করা।
ভারতের মোট সাধারণ বীমা প্রিমিয়ামের প্রায় ৩২ শতাংশই মোটর বীমা খাত থেকে আসে বলে জানিয়েছে নাভি। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, মোটর বীমা বাজারে সেবা সম্প্রসারণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিচের সারণিতে নাভির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও অংশীদার তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নতুন অংশীদার | গোমেকানিক, মাইটিভিএস, এআইএস উইন্ডশিল্ড এক্সপার্টস |
| রোডসাইড সহায়তা | রেডি অ্যাসিস্ট |
| সেবা কভারেজ এলাকা | ১৯ হাজারের বেশি পিন কোড |
| গ্যারেজ নেটওয়ার্ক (জানুয়ারি ২০২৬) | প্রায় ৭১০টি |
| গ্যারেজ নেটওয়ার্ক (মে ২০২৬) | ১,৬০০-এর বেশি |
| লক্ষ্যমাত্রা (জুন ২০২৬) | ৩,০০০-এর বেশি |
| মোটর বীমার অংশ | প্রায় ৩২ শতাংশ |
ক্যাশলেস ক্লেইম ব্যবস্থা সাধারণত এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে গ্রাহক দুর্ঘটনার পর অনুমোদিত গ্যারেজে যান এবং বীমা কোম্পানি সরাসরি মেরামত খরচ পরিশোধ করে। এতে গ্রাহকের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমে এবং দ্রুত সেবা পাওয়া সহজ হয়।
নাভির এই সম্প্রসারণ ভারতের বীমা খাতে সেবা কাঠামো আরও বিস্তৃত করার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ডিজিটাল ও অংশীদারভিত্তিক সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
