ক্ষতিপূরণের নীতি

ক্ষতিপূরণের নীতি – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমার ক্ষেত্রে ক্ষতি সংঘটিত হলে তা চুক্তি অনুযায়ী পূরণ করে দেয়ার জন্যে যে নীতি অনুসৃত হয়ে থাকে, তাকে ক্ষতিপূরণের নীতি বলা হয়। [যদিও অন্য কোন ক্ষেত্রে যে ক্ষতিপুরণের রীতি বা নিয়ম-নীতি নেই এ থেকে তা বোঝানো হয়নি।

ক্ষতিপূরণের নীতি

 

ক্ষতিপূরণের নীতি | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

তবে, বীমার ক্ষেত্রে বিশেষতঃ সম্পত্তি বীমার ক্ষেত্রেই এ নীতি যথারীতি আনুষ্ঠানিকতায় কার্যকর ও প্রচলিত বিধায় সম্পত্তি বীমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি হিসেবই আখ্যায়িত করা হয়। অবশ্য জীবন বীমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় না। কেননা (১) জীবনের ক্ষেত্রে ক্ষতি নিরূপণ করা যায় না এবং (২) জীবন বীমায় বীমাদাবী পরিশোধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ব নির্ধারিত ও নিশ্চিত ; ক্ষতি হলেই শুধু তা পূরণ করে দেয়ার নীতিটি তাই এখানে সাধারণ বিষয় নয়।] অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণের-নীতিটি জীবন বা ব্যক্তিগত বীমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

 

বিশেষতঃ সম্পত্তি বীমার ক্ষেত্রে বীমাকৃত বিপদ বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ফলে বীমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমাকারী প্রতিদান বা সেলামীর বিনিময়ে বিপদ বা দুর্ঘটনার আগে বীমাগ্রহীতা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায় এনে দেয়ার বা পুনস্থাপিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বা প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হন। ক্ষতিপূরণ করে দেয়ার ক্ষেত্রে এরূপ অনুসৃত নীতিকেই ক্ষতিপূরণের-নীতি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

ক্ষতিপূরণের নীতি | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

তবে, ক্ষতিপুরণের এ নীতি প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকেই স্বাভাবিক কারণে কিছু কিছু প্রাসঙ্গিক জটিলতা ও সমস্যা দেখা দেয় এবং তন্নিরীখেই তার সমাধানও হতে থাকে যা কালক্রমে ক্ষতিপূরণের-নীতির প্রয়োগ-বিধি ও শর্তাবলী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এসব নিয়ম-কানুন ও শর্তাবলী প্রবর্তিত না হলে বীমাকারীই বরং ক্ষতিগ্রস্ত হতেন এবং বীমা শিল্পও এভাবে বিকাশ লাভ করতে সক্ষম হতো না। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো।

Leave a Comment