স্বার্থের ক্ষেত্রে নৌ-বীমা

স্বার্থের ক্ষেত্রে নৌ-বীমা – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ” অধ্যায়ের একটি পাঠ। নৌ-বীমা সংবিধির আলোকে R.S. Sharma তার “Insurance Principles & Practice” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,

“A person is said to have an insurable interest where he stands in any legal or equitable relation to the marine adventure or to any insurable property at risk therein. in consequence of which he may benefit by the safety or due arrival of insurable property or may be prejudiced by its loss or by damage thereto. or by detention thereof or may incur liability in respect thereof”

(কোন ব্যক্তির কোন বিষয় বস্তুর উপর তখনই বীমাযোগ্য স্বার্থ আছে বলে বলা যাবে – যখন ঝুঁকির আওতাধীন কোন বীমাযোগ্য সম্পত্তি বা নৌ-অভিযাত্রার সাথে এরূপ কোন আইনসঙ্গত অথবা ন্যায়সঙ্গত সম্পর্কে অবস্থান করেন বা যুক্ত থাকেন যার ফলশ্রুতিতে সম্পত্তির নিরাপত্তা বা সময়ানুগ বিদ্যমানতা বা উপস্থিতিতে তিনি উপকৃত হন অথবা উক্ত সম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের কারণে অথবা অভিযাত্রার বিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত বা তদ্বিধ কারণে দায়গ্রস্ত হন)”।

স্বার্থের ক্ষেত্রে নৌ-বীমা

 

স্বার্থের ক্ষেত্রে নৌ-বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে সহজেই বোধগম্য যে, সম্পত্তিটি নৌ বা সামুদ্রিক বিপদের আওতাধীন কেবলমাত্র এ কারণেই কেউ তার স্বীয় সুবিধার্থে সে সম্পত্তির উপর বীমা করতে পারেন না। অর্থাৎ, বিষয়-বস্তুর উপর যার কোন বীমাযোগ্য স্বার্থ নেই— এমন ব্যক্তি সে বিষয়বস্তুর উপর বীমা গ্রহণ করতে পারবেন না, করলে তা আইনতঃ বাতিল বলে গণ্য হবে।

১৮৯৬ সালের ইংলিশ নৌ-বীমা আইন (English Marine Insurance Act, 1896) — এ বলা হয়েছে- “A marine insurance policy without insurable interest is a void contract and can not be enforced in a court of law.” – অর্থাৎ, বীমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া কোন নৌ-বীমাপত্র বাতিল (চুক্তি) বলে গণ্য হয় এবং তা আদালতে বা আইনে গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯০৯ সালের নৌ-বীমা (জুয়াপত্র / Gambling Policy)

আইন মোতাবেক এধরনের চুক্তিসমূহ নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ এবং এরূপ চুক্তির কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছমাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে অথবা ১০০ পাউণ্ড জরিমানা প্রদানে বাধ্য এবং সেই সাথে এ ব্যাপারে গৃহীত যে কোন পরিমাণ অর্থও আইণতঃ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। তবে, নৌ-বীমার বেলায় বীমাযোগ্য স্বার্থের বিদ্যমানতার সময় (Time of presence)-এর ব্যাপারে অন্যান্য বীমা থেকে একটি ভিন্নতা রয়েছে এবং উক্ত বিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে দু’টি ব্যক্তিক্রমী শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়ে আসছে যা কিছুটা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে।

 

প্রথমতঃ

বীমাযোগ্য স্বার্থের বিদ্যমানতার সময়ের ব্যাপারে অন্যান্য বীমার সাথে যে ভিন্নতাটি রয়েছে, তাহলো এই যে নৌ-বীমায় বীমাযোগ্য স্বার্থ দুর্ঘটনা বা – ক্ষতি সংঘটনের সময়ে বিদ্যমান থাকলেই চলে । পক্ষান্তরে, জীবন বীমা চুক্তিতে চুক্তি গঠনকালীনই বীমার বিষয় বস্তুর উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকতে হয় এবং অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে উক্ত উভয় সময়েই বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকা একান্ত অপরিহার্য। কারণ, নৌবীমা-পত্র আইনতঃ দুর্ঘটনা বা ক্ষতি সংঘটনের পূর্বে বা চুক্তি চলাকালীন যে কোন সময়ে বীমার বিষয় বস্তুর মালিকানা এবং সেই সাথে বীমাযোগ্য স্বার্থেরও হস্তাস্তর হতে পারে।

 

দ্বিতীয়তঃ

নৌ-বীমার ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থের বিদ্যমানতার ব্যাপারে যে দুটি শিথিলতা বা ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়ে আসছে তা নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো :-

(১) নৌ-বীমায় এমন কোন বিষয় বস্তুর উপরও বীমা করার সুযোগ থাকে যে, বিষয় বস্তুটি হারিয়ে গিয়েছে অথবা যায়নি ( Lost or not lost ) অনিশ্চয়তা বিদ্যমান এবং যে সম্পর্কে বীমাগ্রহীতা বা বীমাকারী কেউই অবগত – – এরূপ নন। তবে, এরূপ ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতির উপর নির্ভর করেই চুক্তি করা হয়। এ কারণেই যদি প্রমাণিত হয় যে, বিষয়-বস্তুটি প্রকৃতই হারিয়ে গিয়েছে – সে ব্যাপারে কোন পক্ষ আগেই জানতেন, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে, চুক্তিগঠনকালীন বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান না থাকাই স্বাভাবিক কেননা, বিষয়- বস্তুটি হারিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।

 

স্বার্থের ক্ষেত্রে নৌ-বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(২) নৌ-বীমায় স্বার্থ ব্যতিরেকে বীমাপত্র (Interest-proof policies) চালু রয়েছে যা “Policy Proof of Interest (PPI) – নামে অভিহিত। এ ধরণের বীমাপত্রে বীমাদাবী মিটাতে দায়গ্রাহক (Underwriter) বা বীমাকারী বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে বীমাযোগ্য স্বার্থের প্রমাণাদি না চাইতে পারেন। তবে, এক্ষেত্রে বীমাকারী যদি বীমাদাবী পরিশোধে অস্বীকার করেন, তাহলে বীমাগ্রহীতার কিছুই করার থাকে না। কারণ, এ ধরনের চুক্তি আইনে বলবৎযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষতঃ ১৯০৯ সালের উপরোক্ত চূড়ান্ত সংবিধি প্রণয়নের ফলে এ ধরনের বীমাপত্রের মৃত্যুঘন্টা বেজে গিয়েছে। তাই, একসময় এ ধরনের বীমাপত্র চালু থাকলেও এখন তা বিষয় বলেই পরিগণিত। ] সুতরাং, বীমাযোগ্য স্বার্থের বিদ্যমানতা নৌ-বীমার ক্ষেত্রেও সমভাবে অপরিহার্য।

Leave a Comment