দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স তাদের বিভিন্ন বীমা পণ্য বিতরণের জন্য পিরামল ফাইন্যান্সের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকসেবা অবকাঠামো ব্যবহার করবে। এর আওতায় ভারতের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত পিরামল ফাইন্যান্সের ৭০১টি শাখার মাধ্যমে বীমা সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির এই নেটওয়ার্ক বর্তমানে ১৩ হাজারেরও বেশি পিন কোড এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা ভারতের গ্রামীণ ও আধা-শহর অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে পিরামল ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Jairam Sridharan বলেন, ভারতের বহু অঞ্চলে, বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় এখনও বীমা সেবার বিস্তার সীমিত রয়েছে। তার মতে, সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবভিত্তিক সুরক্ষা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পরিবারের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা বা আর্থিক সংকট দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে কারণে বীমা কেবল একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং মানুষের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সম্পদ, আয় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি উপায় হিসেবেও কাজ করে। তিনি আরও বলেন, পিরামল ফাইন্যান্স দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়ের গ্রাহকদের আর্থিক সেবা দিয়ে আসছে। বিদ্যমান গ্রাহকভিত্তি ও স্থানীয় পর্যায়ের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বীমা সেবা আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান বিপণন কর্মকর্তা Aftab Alvi বলেন, এই অংশীদারত্ব আর্থিক সুরক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, গ্রাহকদের মধ্যে বীমা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কৌশলগত অংশীদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পিরামল ফাইন্যান্সের মতো বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে নতুন গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে এবং বীমা অন্তর্ভুক্তির পরিধিও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই কম বীমা প্রবেশহার বা ইনস্যুরেন্স পেনিট্রেশন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ছোট শহরাঞ্চলে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ বীমা সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ব্যাংকিং ও ঋণসেবার তুলনায় বীমা খাতে সচেতনতা এবং ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকল্প বিতরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অংশীদারত্বভিত্তিক মডেলের দিকে ঝুঁকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় বাজারে স্থানীয় শাখাভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বীমা সেবা সম্প্রসারণ একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র আয়ের পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সুরক্ষার প্রয়োজন বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সহজলভ্য তথ্য ও সেবার অভাব রয়েছে। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে এই খাতের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের আর্থিক খাতে ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটলেও গ্রামীণ ও আধা-শহর অঞ্চলে সরাসরি শাখাভিত্তিক গ্রাহকসেবার গুরুত্ব এখনও অনেক বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বীমা সেবা প্রদান গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বীমা সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
