গ্লোবালডেটার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাপানের মোটর বিমা খাত ২০৩০ সালের মধ্যে মোট প্রিমিয়াম আয়ে পৌঁছাবে ৬.২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ৪৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক পতনের পর, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধি হার (CAGR) হবে ১.৮%। ২০২৪ সালে খাতটি ১.৬% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ২০২৫ সালে আরও ১.৪% বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পুনরুদ্ধারের পেছনে রয়েছে প্রিমিয়াম হারের সামঞ্জস্য, নীতিনির্ধারণী সংস্কার এবং টেলিমেটিকস-ভিত্তিক বিমা পণ্যের সূচনা।
গাড়ির নিরাপত্তা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে দুর্ঘটনার হার কমে আসায় বিমা কোম্পানিগুলো এখন লাভজনকতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
বাজারের চালিকা শক্তি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার
গ্লোবালডেটার সিনিয়র বিমা বিশ্লেষক স্বরূপ কুমার সাহুর মতে, জাপানের মোটর বিমা বাজারের পুনরুদ্ধার মূলত প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার, যানবাহন বিক্রির ঊর্ধ্বগতি এবং ২০২৫ সালে চালু হতে যাওয়া ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থার কারণে ঘটছে।
তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দাবি বৃদ্ধি সচেতনতা বাড়াবে, যা মোটর বিমা খাতের প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
জাপান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (JAMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে যানবাহন বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫% বেড়েছে। ছোট যাত্রীবাহী গাড়ি, ছোট ট্রাক এবং বড় বাস বিক্রির প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল।
প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ধারা আগামী বছরগুলোতেও চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ মেরামতের ব্যয়ে মুদ্রাস্ফীতিজনিত প্রভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দাবি বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাত আশা করছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রিমিয়াম হার আরও ৬% থেকে ৮.৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিপর্যয় ঝুঁকি ও দাবি অভিজ্ঞতা
জাপানের মোটর বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়ে গেছে। বন্যা, টাইফুন ও শিলাবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা দাবির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিমা কভারেজ ও দাবি নিষ্পত্তির দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
জেনারেল ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন অব জাপান (GIAJ) জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে কিউশু–ইয়ামাগুচি অঞ্চলে বন্যায় প্রায় ১৭,০০০টি গাড়ি বিমা দাবি উঠেছিল, যার পরিমাণ প্রায় ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে হিয়োগো প্রদেশে শিলাবৃষ্টির কারণে দাবির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ পরিস্থিতিতে বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বিমা সক্ষমতার উপর জোর দিচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হতে যাওয়া ঝুঁকি-ভিত্তিক এবং মডেল-নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম কাঠামো বিমা কোম্পানিগুলোকে গাড়ির মডেলভেদে ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ দেবে।
সাহু বলেন, “এই সূক্ষ্ম শ্রেণিবিন্যাস বিমা কোম্পানিগুলোকে প্রতিটি মডেলের দুর্ঘটনা প্রবণতা, মেরামত ব্যয় ও দাবি ইতিহাস বিবেচনায় রেখে সঠিকভাবে প্রিমিয়াম নির্ধারণে সাহায্য করবে।”
প্রযুক্তি ও পণ্য উদ্ভাবন
ইলেকট্রিক গাড়ি ও সংযুক্ত প্রযুক্তির (connected technologies) উত্থান বিমা খাতে নতুন পণ্য ও প্রাইসিং মডেল তৈরির অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
ব্যবহারভিত্তিক বিমা, টেলিমেটিকস-সক্ষম সমাধান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত দাবি নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
‘ড্রাইভ এজেন্ট পার্সোনাল’ টেলিমেটিকস প্ল্যানের মতো উদ্যোগ, যা ড্যাশক্যাম ও ঘটনাভিত্তিক ভিডিও ব্যবহার করে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে উন্নত করবে এবং চালকদের মধ্যে নিরাপদ ড্রাইভিং সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
সাহু আরও বলেন, “নিয়ন্ত্রক আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা জাপানের বিমা শিল্পকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। যারা প্রযুক্তি, পণ্য উদ্ভাবন ও শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করবে, তারা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে।”
সাধারণ বিমা খাতে রেকর্ড প্রিমিয়ামের সম্ভাবনা
গ্লোবালডেটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাপানের সাধারণ বিমা শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ১০২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছাবে।
২০২৫ সালে ১২.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৮৫.৪ বিলিয়ন ডলার) থেকে খাতটি বার্ষিক ৩% প্রবৃদ্ধিতে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে প্রিমিয়াম আয় ৩.৭% বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা মূলত মোটর বিমার চাহিদা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি, প্রিমিয়াম সমন্বয় এবং ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে হবে।
২০২৫ সালে মোটর, সম্পত্তি ও দায়বদ্ধতা বিমা খাত মোট প্রিমিয়ামের ৮০% এরও বেশি অংশ দখল করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার মধ্যে মোটর বিমা একাই বাজারের প্রায় ৪৬% প্রতিনিধিত্ব করবে।
