নিখোঁজ বীমাগ্রহীতার বীমাদাবী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বীমা হল অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ও নির্দিষ্ট ঝুঁকির স্থানান্তর। এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা বীমা প্রতিষ্ঠান অর্থের (প্রিমিয়ামের) বিনিময়ে মক্কেলের আংশিক বা সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকে। এটি অনিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অংশ।

বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সব ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে মুক্ত থাকে এবং অসংখ্য বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানিগুলো মূলধন বৃদ্ধি করে। বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াও ব্যাক্তিগতভাবে অর্থ সঞ্চয় করে সম্ভাব্য ঝুঁকির দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। বীমা প্রক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি মেনে চলতে হয়।
নিখোঁজ বীমাগ্রহীতার বীমাদাবী
কোন বীমাগ্রহীতা যদি কখনও নিরুদ্দেশ বা নিখোজ হয়ে যান, তাহলে রামাদারী পরিশোধ করায় স্বভাবতঃই কিছু বাস্তব অন্তরায় সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই, এ ব্যাপারে কালক্রমে আইনত যে নিমটি অনুসৃত হয়ে আসছে তাহলো- যদি কোন লোক-স্বজনের জানা শেষ ঠিকানা থেকে সকলের অগোচরে সাত বছর বা ততোধিক সময় ধরে নিখোজ থাকেন এবং উক্ত সময়ের মধ্যে তাকে জীবিত অবস্থায় দেখা দিয়েছে এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে তাকে উক্ত সাত বছরের শেষের দিন মৃত বলে অনুমান বা গণ্য করা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা জজর আদালতে উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করা হলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের অধিকারে দেয়ার আদেশ প্রদান করা হয়। আর, আদালতের ঐরূপ আদেশ দাখিল করা হলে বীমাকারী তদনুযায়ী বীমাদারী পরিশোধ করতে পারেন।

তবে, এক্ষেত্রেও প্রয়োজনে পরিশোধিত বীমাকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার অঙ্গীকারপত্র আদায় করে বীমাদাবী পরিশোষ করা উচিত। কেননা, উক্ত সময়ের পরে, যথারীতি মৃত ঘোষণা করার পরে যদি নিখোঁজ বীমাগ্রহীতা ফিরে আসেন তাহলে স্বাভাবিক কারণেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে দেখা গিয়েছিল যে, অনেক লোক নিখোজ হওয়ার পর বার/চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কোন বন্দী শিবির থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে এসেছিলেন।
