আজকের আলোচনার বিষয় “নৌ-বীমাপত্রের শ্রেণীবিন্যাস ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।নৌ-বীমাপত্র নানা প্রকারের হয়ে থাকে। ১৭৭১ সাল থেকে লণ্ডনের Corporation of Lloyd’s নামক বীমাকারী সংঘ বিভিন্ন প্রকার নৌ-বীমা প্রবর্তন করে আসছে। আমাদের দেশের নৌ-বীমাপত্রগুলোও বলতে গেলে উক্ত সংঘের অনুকরণেই প্রবর্তিত হয়েছে।
নৌ-বীমাপত্রের শ্রেণীবিন্যাস

সমুদ্র পথে পণ্য বোঝাই জাহাজ চলাচলের সময় নানা রকম বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। বিপদের ঝুঁকি ও জাহাজের আঙ্গিক গুণাগুণে, জাহাজ বোঝাই পণ্য সস্তারের প্রকৃতিতে, যাত্রার কালিক ব্যবধানে ও সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিবর্তনে ভিন্নতর হয়।
এজন্যে দেখা যায় যে, বিভিন্ন বীমাগ্রহীতা স্বাভাবিকভাবেই বিপদের ঝুঁকি মোতাবেক পণ্যদ্রব্যের নিরাপত্তা ও সুবিধের নিমিত্তে নানা রকম বা নানা প্রকার নৌ-বীমাপত্র ক্রয় করতে চান। ফলে, বীমাগ্রহীতা প্রয়োজনানুযায়ী তথা চাহিদা ও সুযোগ সুবিধানুযায়ী উদ্ভাবন ও প্রচলন করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নৌ – বীমাপত্রের। নিম্নে বিভিন্ন প্রকার নৌ ধীমাপত্র সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হলো :
১। সমুদ্র যাত্রাভিত্তিক বীমাপত্র (Voyage Policy): এ ধরনের বীমাপত্র এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নির্দিষ্ট যাত্রাপথের উল্লেখ থাকে। এরূপ বীমাপত্রে জাহজের প্রস্থান ও গন্তব্য বন্দরের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকে যার মধ্যে সাধারণভাবে ঝুঁকিসমূহ গ্রহণ করা হয়।
দৃষ্টান্ত স্বরূপ— চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই কোন জাহাজ ম্যাঞ্চেষ্টারে গিয়ে পৌঁছবে, এ মর্মে যাত্রাপথের ঝুঁকির জন্যে নৌ-বীমা গ্রহণ করা হলে তা সমুদ্র যাত্রাভিত্তিক বীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি নির্দিষ্ট যাত্রাপথে বা গমনপথে জাহাজ কিংবা জাহাজস্থিত পণ্যের ক্ষতি হয়, তাহলে নৌ-বীমা কোম্পানী বীমাগ্রহীতার ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে। সাধারণতঃ জাহাজ বোঝাই পণ্যের জন্যে এরূপ বীমা উপযোগী।
২। সময়ভিত্তিক বীমাপত্র (Time-Policy) : এ প্রকার বীমা পত্রের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, যেমন—জানুয়ারী ১৯৯১ সালের সকাল ৬টা থেকে ১লা জানুয়ারী ১৯৯২ সালের সকাল ৬টা পর্যন্ত বীমাপত্র গ্রহণ করা হয়। এ পলিসি সাধারণতঃ ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত যে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যে গ্রহণ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজ এবং/অথবা পণ্যের ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকেন। চুক্তি মোতাবেক সময় পার হয়ে গেলে এবং তখন পণ্য ক্ষতি সাধিত হলে দায়গ্রাহক বা বীমাকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমা কোম্পানী ক্ষতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন না। এ ধরনের বীমা জাহাজ বীমার জন্যে অধিকতর উপযুক্ত বলে বিবেচিত।
৩। মিশ্র বীমাপত্ৰ (Mixed Policy) : যে নৌ-বীমাপত্রের বিষয়বস্তুতে একটি নির্দিষ্ট সমুদ্র পথের এবং একই সাথে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের অন্তর্ভুক্তি থাকে, তাকে মিশ্র বীমাপত্র বা ( Mixed policy) বলা হয়। এ ধরনের বীমাপত্র যাত্রা ভিত্তিক বীমাপত্র ( Voyage policy) ও সময় ভিত্তিক বীমাপত্র (Time policy)-এর অসুবিধাসমুহ দূর করে উভয়বিধ বীমাপত্রের সুবিধাদি লাভের জন্যেই গ্রহণ করা হয়। আসলে, এ বীমাপত্র যাত্রা-ভিত্তিক বীমাপত্র ও সময়-ভিত্তিক বীমাপত্রের সংমিশ্রন ব্যতীত আর কিছুই নয়।
এ বীমা চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট যাত্রাপথে ( গমনকালে) এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বীমাগ্রহীতার জাহাজ কিংবা জাহাজস্থিত পণ্য ক্ষতি হয়, তাহলে তিনি বীমাকৃত সম্পদের ক্ষতিপূরণ লাভ করেন। উদাহরণ স্বরূপ – চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বৃষ্টল বন্দরে কোন জাহাজ যদি ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে যাত্রা করে একই সালের ডিসেম্বর মাসে দিয়ে পৌঁছে তখন তা নিশ্ব রীমার পর্যায়ে পড়বে। এ বীমা মাঘ এবং কার্গো সীমার জন্যেই উপযোগী।
৪। মূল্যায়িত বীমাপত্র (Valued Policy) :মূল্যায়িত নীমাপত্রের প্রচলন বর্তমানে সর্বাধিক। যে নৌ-বীমাপত্রে বিষয়বস্তু মূল্য বা অত আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়, তাকে মূলায়িত নীমাপত্র বলা হয়। এরূপ বীমাপত্রের বিষয়ের মূল্য দায়গ্রাহক ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে বীমাগ্রহণকালে সাব্যস্ত হয় এবং বীমাপত্রে তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। পূর্ব নির্ধারিত মূল্যকে বীমাকৃত মূল্য বলা হয় এবং তা ক্ষতিপূরণের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হয়।
অবশ্য, বীমাকৃত মূল্য যে প্রকৃত মূল্য (Actual Value) হবে তেমন কোন কথা নেই। সাধারণতঃ বীমাকৃত মূল্য = পণ্যদ্রব্যাদির মূল্য (Cost of Goods) + ভাড়া (Freight) + জাহাজীকরণ ব্যয় (Shipping Charges) + ১০% বা ১৫% ভাগ ধারণাকৃত মুনাফা (Anticipated Profit) / এ বীমাপত্রে Total Loss বা সামগ্রিক ক্ষতির বেলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঘোষিত অঙ্কটাই প্রদান করা হয় এবং Partial Loss বা আংশিক ক্ষতির ক্ষেত্রে দাবী নিষ্পত্তির নিরিখে ক্ষতির অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়।
৫। অ-মুল্যায়িত বীমাপত্র (Unvalued Policy) : অ-মূল্যায়িত কথাটি থেকেই বুঝা যায় যে, এ ধরনের বীমাপত্রে বীমার বিষয়বস্তুর মূল্য উল্লেখ থাকে না। সুতরাং, যে বীমাপত্রে বীমার বিষয়বস্তুর মূল্য বিশেষভাবে নির্ধারিত হয় না বা উল্লেখ থাকে না তাকে অ-মূল্যায়িত বীমাপত্র বলা হয়। এক্ষেত্রে বীমাকৃত মূল্য = পণ্যদ্রব্যাদির মূল্য + ভাড়া + জাহাজ মাসুল ও বীমা খরচ। পূর্ব নির্ধারিত মুনাফা এতে যোগ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক ক্ষতির বেলায় কেবল বীমাকৃত মূল্য বীমা কোম্পানী পরিশোধ করে থাকে, আর আংশিক ক্ষতির ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমান নির্ধারিত হয় বীমা কোম্পানীর দায়-দায়িত্বের দিকে লক্ষ্য রেখে। এ ধরনের বীমাপত্র আজকাল প্রায় অচল।
৬। ভাসমান বীমাপত্র (Floating Policy) : এ ধরনের বীমাপত্র নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে নিয়মিত পণ্য আদান প্রদানকারী পণ্য মালিক – বিশেষতঃ জাহাঙ্গ মালিকদের জন্যে উপযোগী। যেসব জাহাজ কোম্পানীর একাধিক জাহাজ রয়েছে এবং যেগুলো বিভিন্ন গতিপথে পণ্য-দ্রব্য নিয়ে চলাচল করে সেসব জাহাজ কোম্পানী, সাধারনতঃ একবারে একটা মোটা অঙ্কের (Large amount) নৌ- বীমাপত্র গ্রহণ করে।
পরবর্তী কালে বিভিন্ন গতিপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিপদের ঝুঁকি বুঝে উল্লেখিত টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট করা হয় এবং তা বীমা কোম্পানীকে অবহিত করা হয়। এরূপ বীমাপত্রের একটি বড় সুবিধে হল এই যে, এতে বিভিন্ন জাহাজের জন্যে আলাদা আলাদা করে বীমাপত্র ক্রয়ের ঝামেলা পোহাতে হয় না। এ ধরনের বীমাপত্র শুধু জাহাজ বীমার বেলায় প্রযোজ্য।
৭। স্বার্থ বীমাপত্র (Interest Policy) : স্বার্থ বীমাপত্র বিভিন্ন প্রকার নৌ- বীমাপত্রের মধ্যে একটি অন্যতম বীমাপত্র। কোন বীমাপত্রের তথা চুক্তির বিষয়বস্তুতে বীমাগ্রহীতার বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকলে, তাকে স্বার্থ বীমাপত্র বা ঈনটএরএসট ফওলইচা বলা হয়। বীমযোগ্য স্বার্থের উপস্থিতি যদিও প্রতিটি রীমাচুক্তির বৈধতার এক অত্যাবশ্যকীয় উপাদান; তথাপি, নৌ-বীমার শর্তানুযায়ী বিষয়বস্তুতে বীমাযোগ্য স্বার্থযুক্ত ব্যক্তিও এর যথার্থ উল্লেখে বীমা করে থাকেন।
৮। যৌগিক ঝুঁকির বীমাপত্র ( Composite Policy) : বড় অঙ্কের বীমাপত্রের ক্ষেত্রে অনেক সময় একাধিক বীমা কোম্পানী একত্রিত হয়ে নৌ-বীমার দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ A, B, C নামে তিনটি বীমা কোম্পানী ১ কোটি টাকার বীমার দায় একত্রে গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের নিজেদের আর্থিক অবস্থানুসারে যার যার দায়িত্বও ভাগ করে নিতে পারে। এ প্রকার বীমাপত্রকে যৌগিক ঝুঁকির বীমাপত্র বলা হয়। খুব বড় অঙ্কের ঝুঁকির ক্ষেত্রে সাধারণতঃ কয়েকটি বীমা কোম্পানী মিলিতভাবে এ শ্রেণীর বীমাপত্র গ্রহণ করে থাকে।
৯। বাজী বীমাপত্র (Wagering Policy) : এ ধরনের বীমাপত্রে বিষয়বস্তুর উপর বীমাগ্রহীতার কোন বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না, কিংবা এক্ষেত্রে বীমা কোম্পানী বীমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়াই বিষয়বস্তুর ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে। বীমাযোগ্য স্বার্থ প্রতিটি বৈধ বীমপত্রে অত্যাবশ্যকীয়রূপে থাকতে হয়; কিন্তু, এ ধরনের বীমাপত্রে তা থাকে না বিধায় একে জুয়া খেলার ন্যায় গণ্য করা হয়। আইনের চোখে এ ধরনের বীমাপত্র বলবৎযোগ্য নয়।
বীমা কোম্পানী সাধারণতঃ নিজের মর্যাদা ও সুনামের প্রতি লক্ষ্য রেখে বীমা চুক্তির কোনরূপ অবমাননা করে না। পি. পি. আই. বীমাপত্র ( Policy Proof of Interest) এ ধরনের বীমাপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সাধারণতঃ কিছু বাণিজ্যিক সুবিধাদির জন্যে এরূপ বীমাপত্র চালু করা হয়েছে।
১০। যুগ্ম-বীমা (Double Insurance) : একই বিষয়বস্তুর জন্যে প্রিমিয়াম প্রদান করে দুবার বীমা গ্রহণের রীতিকে যুগ্ম বীমা বলে। আর, এরূপ বীমাপত্রকে যুগ্ম বীমাপত্র বা Double Insurance policy বলে। নৌ-বীমা, অগ্নিবীমা এবং অন্যান্য কিছু বীমার ক্ষেত্রে একই বিষয়বস্তুর উপর এ ধরনের বীমা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, যেখানে শুধু ক্ষতিপূরণের চুক্তি বিদ্যমান সেখানেই এ নিয়ম প্রয়োজ্য হয়। জীবন বীমার বেলায় অবশ্য এ ধরনের নিয়ম নেই। যুগ্ম বীমার ক্ষেত্রে একই বীমাগ্রহীতা একই বিষয়বস্তুর জন্যে দু’টি নৌ-বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে নৌ-বীমাপত্র ক্রয় করে।
যদি কোন কারণে বীমাগ্রহীতার পণ্যসম্ভার বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বীমাগ্রহীতা উভয় বীমাকারীর কাছ থেকে আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে কিংবা যে কোন একজন বীমাকারীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। পরে যে বীমাকারী সম্পুর্ন ক্ষতিপুরণ প্রদান করল সে কোম্পানী আনুপাতিক হারে অপর কোম্পানী থেকে ক্ষতিপুরণ আদায় করে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী বীমাগ্রহীতা দু’টি কোম্পানী থেকেই ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা আলাদা আলাদ ভাবে আদায় করতে পারে না।
১১। মুদ্রা বীমাপত্র (Currency Policy) : যে সকল বীমাপত্র বিদেশী মুদ্রায় (Foreign Currency) প্রদান করা হয়, তা মুদ্রা বীমাপত্র নামে অভিহিত। এ বীমাপত্র সাধারণতঃ এক বছরের জন্য গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে বীমাকৃত অর্থ ও মূল্য বৈদেশিক মুদ্রায় বিবৃত থাকে, যেমনঃ ৫০,০০০ টাকার বীমার জন্যে সমপরিমাণ ডলার কিংবা পাউণ্ড ষ্টার্লিং পাওয়া যাবে ইত্যাদি। যারা পাউণ্ড ষ্টালিং এরিয়ার সাথে সংযুক্ত বা জড়িত তাদের জন্যে এ ধরনের বীমাপত্র সুবিধেজনক। এরূপ বীমাপত্র গ্রহণ করে যে কোন ব্যবসায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় উঠা-নামাজনিত ক্ষতির নিশ্চয়তা লাভ করতে পারেন।
১২। ব্লক বা অবরোধ বীমাপত্র (Block Policy) : ব্লক বা অবরোধ বীমাপত্র উদ্ভূত হয় আফ্রিকা মহাদেশে। বিশেষতঃ দক্ষিণ আফ্রিকা South Africa-র স্বর্ণ খনি এলাকাতেই এর প্রচলন বেশী। স্বর্ণ যখন খনির গভীর তলদেশ থেকে উত্তোলন করে ভূ-পৃষ্ঠের নানাস্তর পেরিয়ে গন্তব্যস্থলে নিয়ে আসা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বিপদ দেখা দিতে পারে এবং এ সমস্ত বিপদে বা ঝুঁকির জন্যে যে বীমাপত্র ক্রয় করা হয়, তাকে ব্লক বা অবরোধ বীমাপত্র বলে। এ বীমাপত্রে খনির গভীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত খনিজ পদার্থ বিক্রীর গন্তব্যস্থল পর্যন্ত পৌছানোর ঝুঁকিসমূহ অন্তর্ভুক্ত।
১৩। ছাউনী বীমাপত্র (Blanket Polley) : এ ধরনের বীমাপত্র কোন সুনির্দিষ্ট সময় ও এলাকার মধ্যে ক্ষয়-ক্ষতির প্রতিবিধানের জন্যে গ্রহণ করা হয়।
এক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অঙ্কের জন্যে বীমা করা হয় এবং বীমাপত্র গ্রহণের সময় সেই অঙ্কের সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম দায় গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয় এবং তা বীমাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ কালে বীমাগ্রহীতার রেকর্ডকৃত প্রকৃত ঝুঁকি। Actual risk) মোতাবেক সমন্বয় (Adjustment) করা হয়। যদি বীমাকৃত মূল্য প্রেরিত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা কম-বেশী হয়, সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তদনুযায়ী প্রিমিয়াম সমন্বয় (Adjustment) করা হয়।
১৪। বন্দর ঝুঁকি বীমাপত্র ( Port-risk Policy) : যে বীমাপত্রের দ্বারা কোন সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্দরে অবস্থানকালে জাহাজ কিংবা পণ্যের কোনরূপ ক্ষতিপূরণের দায় গৃহীত হয়, তাকেই বন্দর ঝুঁকির বীমাপত্র বা ( Port risk policy) নামে অভিহিত করা হয়। উল্লেখ্য যে, নৌ-বীমা কোম্পানী এ ধরনের বীমাপত্রের দ্বারা সমুদ্র পথে যাতায়াতকালে জাহাজ বা পণ্যের ক্ষতিপূরণের দায় গ্রহণ। করে।
১৫। নামিক বীমাপত্র (Named Policy) : এ ধরনের বীমাপত্রে বীমাপত্র গ্রহণ করার সময় জাহাজের নাম, যাত্রার সময় এবং বীমাকৃত পণ্যের পরিমাণ উল্লেখ থাকে। এটা একটা বিশেষ ধরনের বীমাপত্র। এ জাতীয় বীমাপত্রে জাহাজের ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নামোল্লেখ পূর্ব থেকেই থাকে বিধায় একে নামিক বীমাপত্র বা Named policy বলা হয়।
১৬। এক-জাহাজী ও বহুজাহাজী বীমাপত্র (Single Vessel and Fleet Policy) : এ ধরনের বীমাপত্রে একটি জাহাজ কিংবা কতকগুলি জাহাজকে শুধুমাত্র একটি বীমাপত্রের মধ্যে বীমা করা হয়। যে বীমাপত্রে জাহাজ মালিক প্রতিটা জাহাজের জন্যে আলাদা আলাদা নৌ-বীমাপত্র ক্রয় করে থাকে, তাকে এক জাহাজী নৌ-বীমাপত্র বা Single Vessel Policy বলা হয়। এরূপ বীমার সুবিধে হলো এই.যে, এতে এমনকি, গড়পড়তা হারে পুরণো ও দুর্বল জাহাজগুলোর সাথে সাথে ভাল অবস্থার জাহাজগুলোকে বীমা করা যায়।

