সঞ্চিতির উৎসসমূহ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়  সঞ্চিতির উৎসসমূহ যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।

Table of Contents

সঞ্চিতির উৎসসমূহ

 

সঞ্চিতির উৎসসমূহ

 

সঞ্চিতির উৎসসমূহ সাধারণত যে কোন কারবার পরিচালনার জন্যে অর্থ-সংস্থান ও পুঁজি গঠন একান্ত অপরিহার্য এবং কারবারের হিসেব-নিকেশের একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে সবকিছু মিটিয়ে দিয়ে সঞ্চিতি বা তহবিল রাখা হয়। তহবিল ভবিষ্যতের কোন প্রয়োজন মিটাতে বা দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু, বীমার ক্ষেত্রে সঞ্চিতিই হলো কারবারী কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে ব্যয় নির্বাহের উৎস। সুতরাং, এখানে সঞ্চিতির অবস্থান শুরু থেকে শেষ পযন্ত সর্বত্র। সুতরাং, বীমা কারবার পরিচালনার জন্যে অর্থ সংস্থান, মূলধন গঠন ও সঞ্চিতি সৃষ্টি একাধারে পরিচালিত কর্মধারা।

বীমা প্রতিষ্ঠানের সঞ্চিতি তথা কারবার পরিচালনার তহবিল সৃষ্টির প্রধানতম উৎসই হচ্ছে জন সাধারণ তথা বীমাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সংগ্রহীত কিস্তি বা সেলামীর অর্থ। তবে, অন্যান্য উৎসও রয়েছে। বীমা প্রতিষ্ঠানের সঞ্চিতি তথা তহবিল সৃষ্টির জন্যে যে কয়েকটি ছোট বড় উৎস রয়েছে তা নিম্নে পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হলো:

১। বীমা কিস্তি বা সেলামী (Premium) :

সঞ্চিতি সৃষ্টির জন্যে বীমা কিস্তির অর্থই হচ্ছে—প্রথম এবং প্রধান উৎস। তবে, এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে-সব ধরণের বীমাপত্র ও সকল বীমা পরিকল্পনা থেকেই রিজার্ভ সৃষ্টি হয়না এবং যেগুলো থেকে সৃষ্টি হয়, সে গুলো থেকে আবার তা সমভাবে সৃষ্টি হয়না। এ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছুটা ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো :

(ক) নির্ণয়ণ পরিকল্পনা : কিস্তি নির্ধারণের এ প্রাচীন পদ্ধতি অনুযায়ী সংঘের কোন সদস্য মারা গেলে তখনই অন্যান্য সবাই মিলে সংঘ তহবিলে অর্থ বা চাঁদা প্রদান করেন যা মৃত সদস্যের পরিবারবর্গের বা নির্ভরশীলদের কাছে সাহায্যার্থে প্রদান করা হয়। এ কারণেই এ পরিকল্পনায় সঞ্চিতি সৃষ্টির প্রয়োজন বা অবকাশ- হয়না।

(খ) স্বাভাবিক কিস্তি পরিকল্পনা (Natural Premium Plan) এ পরিকল্পনায় বীমাগ্রহীতার বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রিমিয়ামের হারও বাড়ে বটে, কিন্তু, একইসাথে বীমাকৃতদের মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং প্রতিবছর দাবী পরিশোধের পরিমানও বাড়তে থাকে। ফলে, এ পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য সঞ্চিতি সৃষ্টির কোন সুযোগ থাকেনা।

(গ) সম-কিস্তি পরিকল্পনা (Level premuum Plan) : এ পরিকল্পনাতেই সঞ্চিতি সৃষ্টি হওয়ার সর্বাধিক সুযোগ বিদ্যমান। কেননা, এ পরিকল্পনায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রদেয় সকল কিস্তিই হয় সম-পরিমানের।কিন্তু, মেয়াদের প্রথম দিকে খুব কম সংখ্যক বীমাকৃত ব্যক্তিই মারা যান। ফলে, প্রথম দিকে খুব কম বীমাদাবী পরিশোধ করতে হয়। স্বাভাবিক কারণেই, প্রথম দিকে এ পরিকল্পনায় বীমা কিস্তির টাকা তহবিলে অধিক পরিমানে জমা হতে থাকে যা সঞ্চিতি সৃষ্টির প্রধানতম একটি উৎস।

 

২। সুদ (Interest) :

প্রিমিয়াম হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ সব জমা করে রাখার প্রয়োজন হয়না। কেননা, সব বীমাদাবী একই সময়ে প্রদেয় হয়না। অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বীমা ব্যবস্থার রীতি অনুযায়ী প্রাপ্ত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কারবার পরিচালনা ও দাবী পূরণ বাবদ রেখেদিয়ে বেশ পরিমানের অর্থ বাইরে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বীমাকারী বিনিয়োগ করে থাকেন। উক্ত বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায় যা সঞ্চিতি সৃষ্টির জন্যে একটি অন্যতম উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়।

যদিও বীমাগ্রহীতাদের খাতে একটি নির্দিষ্ট পরিমান সুদ ধার্যকৃত হয়। তবে,সে সুদের হার প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হারের তুলনায় অনেক কম থাকে। যাই হোক, সুদ যে সঞ্চিতি সৃষ্টির একটি অন্যতম উৎস, সে সম্পর্কে সম্ভবতঃ আর কোন ব্যাখ্যার অবকাশ নেই।

৩। বীমাপত্রের প্রকৃতি (Nature of Policy) :
যেসব বীমাপত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত নয় এবং সাধারণত : সঞ্চিতির প্রয়োজন হয় না, সেসব বীমাপত্রেই শুধু সঞ্চিতি হিসেব করা যায়। তাই, বীমাপত্রের মেয়াদ এবং প্রকৃতিও সঞ্চিতি সৃষ্টির জন্যে একটি উৎস-ক্ষেত্র।

 

সঞ্চিতির উৎসসমূহ

 

তবে, বলাই বাহুল্য যে-বীমাকিস্তি এবং সুদই হলো সঞ্চিতি সৃষ্টির মূল উৎস।

Leave a Comment