স্বীয় জীবনে বীমাযোগ্য স্বার্থ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমা হল অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ও নির্দিষ্ট ঝুঁকির স্থানান্তর। এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা বীমা প্রতিষ্ঠান অর্থের (প্রিমিয়ামের) বিনিময়ে মক্কেলের আংশিক বা সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকে। এটি অনিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অংশ।
স্বীয় জীবনে বীমাযোগ্য স্বার্থ

প্রত্যেক মানুষেরই স্বীয় জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। নিজের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ প্রমাণের কোন অবকাশ রাখে না। Bunyon বলেছেন – “Every man is presumed to possess an insurable interest in his estate for the loss of his future gains or savings which might be the result of his premature death.” – অর্থাৎ, প্রত্যেক মানুষেরই তার সম্পত্তিতে তথা অকাল মৃত্যুর ফলে তার সম্পত্তির ভবিষ্যৎ লাভ বা সঞ্চয়ের (কোন) ক্ষতির বিরুদ্ধে সম্পত্তিতে (প্রকারান্তরে তার নিজের জীবনেই) বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে।
অন্যান্যভাবে বলা যায় যে, প্রতেক মানুষেরই তার নিজের জীবনের উপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে যা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার অকাল মৃত্যুর কারণে। কর্মক্ষম অবস্থায় যতক্ষণ বেঁচে থাকে ততক্ষণ কোন মানুষ তার জীবন থেকে লাভবান হতে থাকে। আর, মারা গেলেই তার এবং তার পোষ্যদের ক্ষতি তার যায়। কেননা, তখন তার উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় – এমনকি, সম্পদ-সম্পত্তি বিনষ্ট বা বেহাত হয়ে যায় ।

উল্লেখ্য যে, মানুষের জীবনের ক্ষতি যেহেতু নিরূপণ করা সম্ভব নয়, সে যে কোন পরিমাণের বীমা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু, দেখা যায় যে, প্রত্যেকেই একটা যৌক্তিক মূল্যের বা পরিমাণের বীমাপত্র নিয়ে থাকেন। কেননা, যা তার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয়, তার বেশী মূল্যের বীমাপত্র তিনি নেন না। সাধারণতঃ কোন মানুষ তার এক বছরের আয়ের চারগুণের বেশী পরিমাণের বীমাপত্র নিতে পারেন না। তবে, ভারতে কোন ব্যক্তি তার এক বছরের ‘আয়ের দশগুণ পর্যন্ত পরিমানের বীমাপত্র গ্রহণ করতে পারেন।
