সামুদ্রিক ক্ষতিসমূহ

আজকের আলোচনার বিষয় “সামুদ্রিক ক্ষতিসমূহ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।জাহাজ বা নৌ-যান যোগে সমুদ্র নৌ-পথে চলাচলের সময়ে বিশেষতঃ ব্যবসা- বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পণ্যসামগ্রী পরিবহণকালে যদি প্রাকৃতিক বা অপ্রাকৃতিক যে কোন কারণে জাহাজ বা নৌ-যান দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে জাহাজ এবং/অথবা পণ্যসামগ্রী, লোকজন ইত্যাদির ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে সে ক্ষতিকে সামুদ্রিক ক্ষতি বলা হয়।

সামুদ্রিক ক্ষতিসমূহ 

 

সামুদ্রিক ক্ষতিসমূহ

 

 

উক্ত সামুদ্রিক ক্ষতি হতে পারে আংশিক অথবা সামগ্রিক। ক্ষতি যে ধরনেরই হোক না কেন, তা স্বভাবতঃই বহন করতে হয় জাহাজ এবং পণ্য দ্রব্যাদির মালিককে। তবে, যদি জাহাজ এবং / অথবা পণ্যসামগ্রীর জন্যে তার মালিক বা মালিকগণ ( যদি পণ্যমালিক অন্যব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ হন) বীমা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকেন তা হলে বীমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতিপুরণ করার জন্যে বীমাকারী দায়বদ্ধ হন।

মোটকথা, জাহাজ এবং পণ্যমালিক একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হলে ক্ষতি বহন করবে জাহাজ ও পণ্যের মালিক বা স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান অথবা বীমাকারী, আর, পণ্যমালিক অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ হলে বাহক হিসেবে জাহাঙ্গ মালিক অথবা বীমাকারী ক্ষতি বহন করবেন। তাহলে দেখা যায় সামুদ্রিক ক্ষতি প্রভাবিত করে সর্বাধিক তিনটি পক্ষকে। যথাঃ- বহনকারী বা জাহাজ মালিক, পণ্যের মালিক এবং বীমাকারী।

 

বীমাকারী ক্ষতিপূরণ করতে তখনই দায়বদ্ধ হন, যখন

(১) বিষয়বস্তুটি বীমাকৃত থাকে,

(২) দুর্ঘটনাটি পণ্য জাহাজীকরণ থেকে খালাসকরণের সময়ের মধ্যে হয়,

(৩) দুর্ঘটনাটি বীমাপত্রধারীর দ্বারা উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক না হয়,

(৪) বিপদ এড়ানোর মত প্রকৃতপক্ষে কোন উপায় না থাকে এবং

(৫) বীমাকারীর সাথে গঠিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বীমাপত্রধারী কর্তৃক বা যথার্থভাবে পালিত হয়ে থাকলে।

 

সামুদ্রিক ক্ষতিসমূহ

 

উপরন্তু, দুর্ঘটনাটির সম্ভাব্য কারণ বীমাপত্রে উল্লেখিত থাকতে হবে। বীমাপত্রে উল্লেখ থাকে না এমন কোন দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপুরণ করার জন্যে বীমাকারী দায়বদ্ধ থাকেন না। তাই, বিষয়টি “ক্ষতির নিকটতম বা সম্ভাব্য কারণ” মতবাদকে নির্ভর করে বিবেচিত হয়।

Leave a Comment