আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমার কার্যাবলী ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিবীমার কার্যাবলী

বলা বাহুল্য যে, বীমা সাধারণভাবে কতকগুলি কার্য সম্পাদন করে। আবার, সম্পত্তি বীমার প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী বিশেষ কতকগুলি কার্য রয়েছে। স্বভাবতঃই অগ্নি বীমা সম্পত্তি বীমা হলেও তার কিছু স্বাতন্ত্র্য রয়েছে যা তার কার্যাবলীকেও কিছুটা স্বতন্ত্রতা দিয়েছে। যেমন : – সকল বীমা ব্যবস্থাতেই আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তা তথা ঝুঁকির বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা ও প্রতিরক্ষা বিধান করে; কিন্তু, জীবন বীমা ছাড়া অন্যান্য কোন বীমাতেই বীমাগ্রহীতারদের জন্যে বিনিয়োগের সুযোগ থাকে না বা বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে না।
আবার, নৈতিক বিপদ তথা ঝুঁকির ক্ষেত্রে অগ্নিবীমা বৈশিষ্ট্যগত কারণে যতটা নিশ্চয়তা বিধান করে জীবন বীমা—এমনকি নৌ বীমাতেও ততটা অবকাশ রাখেনা। এসব স্বাতন্ত্র্যের কারনেই বিভিন্ন বীমার কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্রও ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক।
সে যাই হোক, অগ্নিবীমার কাজ বর্ণনা প্রসঙ্গে প্রায় সব গ্রন্থকারই খানিকটা ভূমিকামূলক উপস্থাপনাতেই শেষ করেছেন। তা হলো এই যে – অগ্নিবীমা প্রকৃতপক্ষে বীমাকৃত বিপদজনিত ঝুঁকি ও ক্ষতিকে সংশ্লিষ্ট সকলের তথা বীমাগ্রহীতাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বীমাগ্রহীতার ক্ষতিকে লাঘব বা পুরণ করে দেয়। অগ্নি বীমা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি হবে না বা কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারবে না তা নয়।
কেননা, অগ্নি বীমাতো কোন দুর্ঘটনা বা ক্ষতিকে রোধ করেনা; বরং, ক্ষতি সংঘটিত হলে বীমাকারী কেবল তা পূরণ বা লাঘব করতে পারে। তাই, বীমাকারীদের পক্ষ থেকে যদি বলা হয় যে, তারা মানুষের সম্পদ-সম্পত্তির উপর অগ্নিজনিত যে বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়, তা পুরণ বা লাঘব করে দেয়ার জন্যেই বীমাকারী একক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিপক্ষীয় জবাবে বলা যেতে পারে সংশ্লিষ্টদের তথা বীমাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম হিসেবে বীমাকারী যে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন, ক্ষতিগ্রস্তবীমাগ্রহীতাকেতো প্রকৃতপক্ষে ঐ সংগৃহীত অর্থ থেকেই ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতি লাঘবের অথবা উপশমের নিমিত্তে বীমা দাবী পরিশোধ করা হয়।
এভাবে, বীমাগ্রহীতার ব্যক্তিগত দিক থেকে, সমাজের দিক থেকে অথবা বীমাকারী শ্রেণীর দিক থেকে—যেভাবেই দেখা হোক না কেন অগ্নিবীমা/ প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত ক্ষতি পূরণ বা লাঘবকরণের একটি সমবায় পন্থা এবং অগ্নিবীমা দিয়ে দুর্ঘটনা বা ক্ষতিকে রোধ করা যায় না; বরং, সৃষ্ট ক্ষতিকে সকলের মধ্যে কেবল বণ্টন করে দেয়া যায়।একারণেই হয়ত বলা হয়েছে “From nobody’s point of view, it can be said with any show of propriety that fire insurance prevents the occurrence of losses caused by fire.”
উপরোক্তভাবে যেমন বলা যায়, অন্যভাবে আবার তেমনি বলা যায় যে, আধুনিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অগ্নিবীমা গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন তথা অপরিহার্য ভূমিক। পালন করে চলেছে। কেননা, আগুনের ভয়াবহতার কথা ভেবে মানুষ সন্ত্রস্ত হয়—পথ চলতে থমকে দাঁড়ায়। এরূপ অবস্থার মধ্যে থেকেও অগ্নিবীমার প্রশ্রয় ও ছত্রছায়ায় থেকেই আজ মানুষ এগিয়ে চলেছে শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সর্বত্র। তাই, অগ্নিবীমার কার্যাবলীকে সংক্ষিপ্ততায় সীমাবদ্ধ করা যায় না; বরং, বলতে হয় সাধারণ ভাবে যেসব কাজ রয়েছে অগ্নি বীমা কম বেশী তা করছে। উপরন্তু, বিশেষভাবে কিছু কাজ অগ্নি বীমা সম্পাদন করছে।

তাই, সবিস্তার বর্ণনায় না গিয়েও সংক্ষেপে অগ্নিবীমার কার্যাবলীকে নিম্নরূপে উল্লেখ করা যেতে পারে :-
(১) অগ্নিবীমা বীমাগ্রহীতাদের সম্পদ-সম্পত্তির নিরাপদ অস্তিত্ব ও বিদ্যমানতার ক্ষেত্রে বিরাজমান গভীর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা বিধান করে ;
(২) সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিরুদ্ধে এক প্রতিরক্ষার উপায় হিসেবে কাজ করে :
(৩) অগ্নিবীমা বিদ্যমান ঝুঁকিকে একই বিপদের সম্মুখীন অনেক বীমাগ্রহীতার মধ্যে বণ্টন করে দিয়ে ঝুঁকির বোঝাকে হাল্কা করে দেয় ;
(৪) অগ্নিবীমা সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধের বা লাঘবের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে ।
(৫) অগ্নিবীমা বীমাগ্রহীতাদের তথা সমাজের মানুষের কাছ থেকে প্রিমিয়াম হিসেবে অর্থ সংগ্রহ ও জমা করে তহবিল তথা পুজির সৃষ্টি করে ;
(৬) অগ্নিবীমা বীমাগ্রহীতাদের চিন্তামুক্ত রেখে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও “জনশীলতার উন্মেষসাধন করে :
(৭) এভাবে অগ্নি বীমা ব্যক্তি, গোষ্টী ও সমাজের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনয়ন করে ; উপরন্তু, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সর্বক্ষেত্রে দক্ষতা, উন্নতি ও সমৃদ্ধি সংহত করে জাতীয় ও সার্বিক উন্নতি ও সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।