অগ্নি অপচয়

আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নি অপচয়  ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। আগুণে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির আর্থিক লোকসাকে সোজা কথায় অগ্নি অপচয় বলে। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে অগ্নি বীমা করে রাখেন অনেকে। নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম জমা নিয়ে বীমা কোম্পানিগুলো অগ্নি বীমা পলিসি ইস্যূ করে।

অগ্নি অপচয় 

 

 

অগ্নি অপচয় 

 

 

সভ্যতার শুরু থেকে আগুন আমাদের প্রভূত উপকার করে আসছে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই আমরা পাচ্ছি এর সুফল। কিন্তু, মাঝে মাঝে এই আগুনই ডেকে আনে মহা বিপর্যয়। ধ্বংস করে ফেলে দালান-কোঠা, বিষয়-সম্পত্তি, দোকান-পাঠ, ঐতিহাসিক নিদর্শন তথা মুল্যবান সম্পদ-সংগ্রহ। মেনে নিতে হয় আমাদের বোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি।

তাই, সম্ভবত: Lord Brooke বলেছেন – Fire is a good servant but a bad mastar”। এই অগ্নি ক্ষতি কেবল ব্যক্তি বিশেষই নয় জাতীয় অর্থনীতির উপরও ফেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে এ ধরনের অপচয়কেই বলা হয় অগ্নি-অপচয় | Fire waste)।

 

সুতরাং বলা যায়–অগ্নিকাণ্ডের ফলে সম্পদ-সম্পত্তির ধ্বংসের ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তাই অগ্নি-অপচয়। অগ্নি-অপচয় বলতে কেবল শিল্পকারখানার ক্ষয়ক্ষতিই বুঝায় না। যে কোন ধরনের সম্পত্তিই হোক আর যে মালিকানারই হোক অগ্নি-ক্ষতির মাধ্যমে আর্থিক বিপর্যয় ঘটলেই তা অগ্নি-অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।

অগ্নি-অপচয়ের মূল কারণ হলো অগ্নি-ঝুঁকি। এই ঝুঁকি দু’ধরনের হয়। প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও নৈতিক ঝুঁকি। অবশ্য এসব ঝুঁকির বিরুদ্ধেও গ্রহণ করা হচ্ছে নানা ধরনের ব্যবস্থা। সৃষ্টি হয়েছে অগ্নি-প্রতিরোধ ব্রিগেড, অগ্নি-নিরোধ যন্ত্রপাতি, উন্নত নিরাপদ নির্মাণকাঠামো ইত্যাদির। অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে বাচার জন্যে গ্রহণ করা হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ।

 

অগ্নি অপচয় 

 

Leave a Comment