প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতির জন্য বীমা সুরক্ষা ফাঁক সমস্যাটি বিশ্বব্যাপী দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং এর মধ্যে এশিয়া সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতির জন্য সুরক্ষার অভাব ৮২.৮%। অর্থাৎ, এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির মাত্রার একটি বিশাল অংশ বীমার আওতার বাইরে। লাতিন আমেরিকা এই পরিসংখ্যানের কাছে ৮১.০% সুরক্ষা ফাঁক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, আর উত্তর আমেরিকার সুরক্ষা ফাঁক ৪৩.২%, যদিও সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি বীমার আওতার বাইরে
ম্যাপফ্রে ইকোনমিক্সের নতুন এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতি বছর ৫% থেকে ৭% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্ষতির মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে, উন্নয়নশীল বাজারগুলোতে বীমার কম প্রবাহ, উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চলে দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বৃদ্ধি।
প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু
বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির ক্ষতি এবং বীমার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন কারণ বিশ্লেষণ করে, প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেকেন্ডারি বিপদ যেমন দাবানল, খরা এবং বন্যা, এখন বড় বিপর্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ২০২৪ সালে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ক্ষতি $৩০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে প্রায় $১৪৫ বিলিয়ন বীমা কাভারের আওতায় ছিল।
কীভাবে এই গ্যাপটি কমানো যেতে পারে?
ম্যাপফ্রে ইকোনমিক্সের মতে, এই সুরক্ষা ফাঁক কমানোর জন্য বীমা কোম্পানি ও সরকারদের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়াও, প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি শেয়ারিং পদ্ধতি এবং প্যারামেট্রিক বীমার মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এশিয়া অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
এশিয়া অঞ্চলের অনেক দেশ এখনও প্রাথমিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশলগুলো তৈরি করছে। যেমন, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে বৃহত্তর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তবে অন্যান্য দেশগুলোতে খুবই কম সংখ্যক জনগণের জন্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অর্থনৈতিক সহায়তা রয়েছে।
| দেশ | বীমা সুরক্ষা ফাঁক (%) | সামাজিক নিরাপত্তা নেট |
|---|---|---|
| এশিয়া (গড়) | ৮২.৮ | ১০% এর নিচে |
| লাতিন আমেরিকা | ৮১.০ | ১০% এর নিচে |
| উত্তর আমেরিকা | ৪৩.২ | উচ্চতর সুরক্ষা |
