আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতি বোর্ড (Financial Stability Board, FSB) সম্প্রতি তার গ্লোবাল নজরদারি তালিকা আপডেট করেছে। নতুন তালিকায় মোট ১৭টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় চারটি বেশি। এই তালিকায় তিনটি সুইস বীমা প্রতিষ্ঠান এবং ডাচ কোম্পানি Athora নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই “রেজোলিউশন প্ল্যান” তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জরুরি পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য পতনের জন্য পূর্বেই প্রস্তুত করা। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি যদি হঠাৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তাহলে তাদের কার্যক্রম যাতে তড়িঘড়ি সামলানো যায় এবং আর্থিক বাজারে চরম প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর, FSB এবং নীতি নির্ধারকরা সুপারিশ করেছিলেন যে, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি “রেজোলিউশন রেজিম” থাকা উচিত যা ব্যাংকের মতো ঝুঁকি শনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যদিও বীমা খাতের পক্ষ থেকে এটি মানতে কিছুটা অনীহা দেখা যায়। তারা দাবি করেছিল যে, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে আর্থিক সংকটের ছোঁয়াচ কম।
২০২২ সালে, FSB বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিকভাবে চিহ্নিত করার প্রথা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করে FSB, যেখানে শুধুমাত্র সেই বীমা কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয় যারা “রেজোলিউশন প্ল্যান” জমা দিতে বাধ্য।
তালিকা অনুযায়ী, ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি, মোট পাঁচটি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বাধিক।
FSB রেজোলিউশন প্ল্যান তালিকা (2025)
| দেশ | কোম্পানি সংখ্যা |
|---|---|
| সুইজারল্যান্ড | 3 |
| নেদারল্যান্ডস | 1 |
| যুক্তরাজ্য | 5 |
| অন্যান্য | 8 |
| মোট | 17 |
এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই হলো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক দুর্যোগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আরও কঠোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
