নৌ-বীমার বিশেষ কার্যাবলী | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

নৌ-বীমার বিশেষ কার্যাবলী | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ,  বীমার কার্যাবলী সম্পর্কে গ্রন্থকারগণ একই ধারায় বর্ণনা প্রদান করেননি, বিভিন্নজন বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে কার্যাবলী বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার এম.এন. মিশ্র কার্যাবলীকে প্রাথমিক ও পরবর্তী এ দু’টি পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। এ. এইচ. চৌধুরী সাধারণ কার্যাবলী (General Functions) ও বীমার কয়েকটি প্রধান প্রধান শ্রেণী ভিত্তিক বিশেষ কার্যাবলী ( Specific Functions ) – শিরোনামে বীমার কার্যাবলীকে শ্রেণী বিভাগ দেখিয়েছেন।

কেউ কেউ সাধারণভাবে বর্ণনা করেছেন ; *আবার কেউ কেউ এ প্রসঙ্গেই যাননি। তবে, সাধারণ ও বিশেষ – এ মূল দুটি ধারায় উপ-বিভক্ত করে বর্ণনা করাই নবীশদের জন্যে সহায়ক হবে বিধায় তন্নিরীখে বীমার কার্যাবলী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো।

নৌ-বীমার বিশেষ কার্যাবলী | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

নৌ-বীমার বিশেষ কার্যাবলী | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

নৌ-বীমার কার্যাবলী সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ

(ক) আর্থিক ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা বিধান করে (Provides protection against financial losses ) :

কোন সওদাগরী জাহাজ, জাহাজে পরিবাহিত পণ্যসামগ্রী, তার ভাড়া ইত্যাদি হচ্ছে নৌ-বীমার বিষয়বস্তু। এগুলোর জন্যে বীমাকারী জাহাজমালিক, পণ্যমালিক ও ভাড়া বা শুষ্কমালিককে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকেন এবং সামুদ্রিক বিপদের কারণে ক্ষতি সংঘটিত হলে যথারীতি তা পূরণ করে থাকেন।

 

 

(খ) ক্ষতি লাঘব করে ( Minimises the marine Losses) :

নৌ-বীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতাকে বীমাকারী ও তার পেশাদার জরিপদল কারিগরী ও কৌশলগত পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে অনেক বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা এড়ানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ হালকা করে বা কমিয়ে দিতে পারেন। উপরন্তু, ক্ষতি সংঘটনের পরেও সুকৌশলে উদ্ধারকার্য চালোনোর প্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বীমা জরিপকারীগণ ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে পারেন।

 

নৌ-বীমার বিশেষ কার্যাবলী | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(গ) ইহা ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা দান করে (It helps in trade & commerce) :

ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নৌ-বীমা তার কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত করেছে। অন্যথায়, আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এতটা উৎকর্য ও পরিব্যাপ্তী সম্ভব হতো না। কেননা, এ ক্ষেত্রে রয়েছে সীমাহীন অনিশ্চয়তা ও বিপদ-বিপর্যয়ের হুমকি। ঝড়-ঝঞ্চা, দস্যুতা, ডাকাতি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, চড়ায় আটকাপড়া এমনকি, পথিমধ্যে অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি ইত্যাদি অজস্র কারণে অভাবনীয় এবং অপরিসীম ক্ষতির শিকার হয়ে মানুষ হয়ে যেতে পারে সর্বশান্ত এবং চিরদিনের জন্যে বিপর্যস্ত।

এমন সব বিপদ-বিপর্যয় এবং ঝুঁকির বিরুদ্ধে নৌ-বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের নিশ্চয়তা দেন এবং উৎসাহিত করেন ব্যবসা বাণিজ্যে। উপরন্তু, আধুনিক কালে অধিকাংশ বৈদেশিক লেনদেন হয় ধারে। এতে থাকে পণ্যমূল্য প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা। এসব ব্যাপারেও বীমাকারী এগিয়ে এসেছেন তার নতুন নতুন বীমাপত্র নিয়ে – নিশ্চয়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে। সুতরাং, নৌ-বীমা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য ও ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

Leave a Comment